পুবের থিয়েটারের প্রথম নাটক বাঘাল
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০১৩, ১৮:১৪
জনগণের মধ্যে আছে অমিত শক্তি—এই বিশ্বাসে আস্থা রেখে ভবিষ্যতে বৃহত্ পরিসরে থিয়েটারের বিভিন্ন শাখায় পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শুরু হলো পুবের থিয়েটারের পথচলা।
গত ১৮ মে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর পরীক্ষণ থিয়েটার হলে হয়ে গেল পুবের থিয়েটারের প্রথম প্রযোজনার নাটক ‘বাঘাল’-এর উদ্বোধনী মঞ্চায়ন। নাটকটি রচনা করেছেন মাসুম রেজা এবং নির্দেশনা ও মঞ্চ পরিকল্পনায় শামসুল আলম বকুল।
বাঘাল নাটকের কাহিনি গড়ে উঠেছে ময়মনসিংহের মধুপুর জলছত্র এলাকাকে ঘিরে। মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নাটকটি লেখা হলেও এই নাটকে উঠে এসছে মানব-মানবীর প্রেম, হিংস্র পশু বাঘের সাথে মানুষের হূদ্যতা আর মানবিক টানাপোড়েন। জলছত্র এলাকার এক ঘেঁটুগানের দলের নাম ‘চন্দ্রহার ঘেঁটু সমপ্রদায়’। এর প্রধান খন্দকার আবু খৈয়াম, যাকে সকলে সৌখিন মিয়া বলে ডাকে। তিনি একদিন আপন খেয়ালে এলাকায় একটি চিড়িয়াখানা স্থাপন করেন। বাঘ, হরিণ ও বাঁদর এনে ভর্তি করেন সেই চিড়িয়ানা। ঘেঁটু দলের সদস্যদের আশংকা হয়, এবার বুঝি বন্ধ হয়ে যাবে ঘেঁটুগানের আসর। দলে যে রাধিকা সাজে, তার নাম পংখা; সে একসময় ভালোবেসে ফেলে চন্দ্রহারের মেয়ে ময়ূরজানকে। ময়ূরজানের সাথে পংখা ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখে। একসময় সে দিশেহারা হয়ে পড়ে; কী করবে ভেবে পায় না। একদিকে গানের আসর বন্ধ হবার উপক্রম, অন্যদিকে বিকল্প চাকরির জোগাড় না হলে ময়ূরজানের সাথে তার ঘর বাঁধার স্বপ্নভঙ্গের আশংকা। ঘটনাক্রমে চিড়িয়াখানা দেখাশোনার কাজ পায় সে। বাঘের দেখাশোনা করায় পংখা পরিচিত হয় বাঘের রাখাল ‘বাঘাল’ নামে। দিনে দিনে বাঘের সাথে সখ্য গড়ে ওঠে পংখার। তখন ১৯৭১ সাল। পাকিস্তানি বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর। পাকিস্তানি সেনারা হত্যা করে সৌখিন মিয়াকে। একদিন বাঘটিকে খাওয়াতে গিয়ে ধরা পড়ে পংখা। পাকিস্তানি সেনারা তাকে ছুড়ে দেয় ক্ষুধার্ত বাঘের খাঁচায়। কিন্তু বাঘের মতো হিংস্র পশুও পংখাকে আক্রমণ করে না। কেননা, জীবনবাজি রেখে পংখাই বাঘটিকে আহার জুগিয়েছে। বাঘ আর পংখা সহাবস্থান করে। এতে পাকিস্তানি সেনারা গুলি করে হত্যা করে বাঘালকে। এ সময় বাঘটিও ক্ষিপ্ত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে শত্রুদের ওপর।
এমন পরিবেশে নাটকটি শেষ হলে অনেক দর্শককেই বলতে শোনা গেল, পাকিস্তানি বর্বর আর তার দোসরেরা পশুর কাছ থেকেও মানবতার নূন্যতম শিক্ষা নিতে পারেনি। নাটকটিতে কুশী-লবদের অভিনয় প্রশংসনীয় দাবি রাখে। বিশেষ করে রাধিকা বা বাঘাল চরিত্রে রূপদানকারী অর্পণের অভিনয় সবার দৃষ্টি কেড়েছে। এ ছাড়া মঞ্চের আলো, পোশাক, সংগীত-পরিকল্পনা এবং প্রপসের ব্যবহারও ছিল যথার্থ ও নান্দনিক।