হালখাতায় মিষ্টির বদলে গাছের চারা

বাংলা নববর্ষের শুরুতে শুভ হালখাতা অনুষ্ঠান বাঙ্গালী জাতির চির পুরাতন ঐতিহ্য। যুগ যুগ ধরে নববর্ষে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পুরাতন বছরের গ্লানি ভুলে নতুন বছরের নতুন খাতায় হিসেব খোলেন ব্যবসায়ীরা। এ উপলক্ষে দোকানের সকল খরিদ্দার ও আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত করে মিষ্টি মুখ করানো হয়। কিছু ব্যবসায়ী গরু-ছাগল জবাই করে খরিদ্দারদের দাওয়াত করে ঈদের ন্যায় আনন্দ উপভোগ করেন। সকল ব্যবসায়ীর উদ্দেশ্য একটাই বকেয়া টাকা আদায়। আগে যেখানে বাংলা নববর্ষের শুরুতে হালখাতা করা হয়েছে এখন তা ব্যবসায়ীদের সুবিধা মত সময় করা হচ্ছে। তবে জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরুতে বেশির ভাগ হালখাতা অনুষ্ঠিত হয়। কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, বাঙ্গালীদের প্রধান ফসল ইরি ধান কর্তন করা হয় এই মাসে। ধান কর্তনের পর খরিদ্দাররা দোকানদারদের বকেয়া টাকা পরিশোধ করে থাকেন। এবারেও জ্যৈষ্ঠ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বগুড়ার ধুনট উপজেলার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে শুভ হালখাতা শুরু হয়েছে। কিন্তু ব্যতিক্রমধর্মী এক হালখাতা অনুষ্ঠিত হয়েছে উপজেলার চুনিয়াপাড়া চারমাথা মোড়ে বাপ্পি মেডিক্যাল ষ্টোর নামের এক ওষুধের দোকানে। ওষুধের দোকানের মালিক রেজাউল ইসলাম বৃহস্পতিবার তার দোকানে হালখাতার আয়োজন করেন। হালখাতায় তার দোকানে বাকি রয়েছে এমন ২০০ জন খরিদ্দারকে দাওয়াত করেন। সকাল ৯টা থেকে খরিদ্দাররা আসতে শুরু করেন। দোকানের মালিক সকল খরিদ্দারকে মিষ্টি খাওয়ানোর পর একটি করে বনজ গাছের চারা বিতরণ করেন। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।