ফিরে আসুক সোনালি দিন

বোরহান বিশ্বাস

 

সেই সাদাকালো সময়ে যখন মানুষের ঘরে ঘরে টেলিভিশন ছিল না। সপ্তাহে একদিন বাংলা সিনেমা দেখানো হতো বিটিভিতে। কোটি কোটি উত্সুক জনতা অপেক্ষায় থাকত সেই দিনটির জন্য। শুধু সিনেমা দেখেই খুশি থাকতে পারেননি অনেকে। সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুটির নামও রাখতেন ওই সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীর সঙ্গে মিল রেখে। নব্বই দর্শকের শেষ দিকেও দর্শকরা হলে গিয়ে সিনেমা দেখতেন। কালক্রমে ধস নামতে থাকল চলচ্চিত্রে। অশ্লীলতা ঘিরে ধরল রুপালি পর্দাকে। নিটোল ভালোবাসা আর সুস্থ সামাজিক চলচ্চিত্রের জায়গা দখল করল উদ্দাম নৃত্য, অশ্লীল দৃশ্য আর অ্যাকশন। মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিল প্রেক্ষাগৃহ থেকে। একটা অন্ধকার সময়ের মধ্য দিয়ে চলতে থাকল চলচ্চিত্র। কাহিনি ও চিত্রনাট্যের পাশাপাশি গানেও ঢুকে পড়ল অশ্লীলতা। নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র নীতিমালা-২০১৭ পাস হয়। এতে চলচ্চিত্রে সরাসরি ধর্ষণের দৃশ্যসহ নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, বৈষম্যমূলক আচরণ বা হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডকে উদ্বুদ্ধ করে এমন দৃশ্য প্রদর্শন নিষিদ্ধ করে নতুন নীতিমালা অনুমোদন করে সরকার। এতে বলা হয়, কোনো অশোভন উক্তি, আচরণ এবং অপরাধীদের কার্যকলাপের কৌশল প্রদর্শন, যা অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে নতুন পদ্ধতির প্রবর্তন ও মাত্রা আনতে সহায়ক হতে পারে, এমন দৃশ্য পরিহার করতে হবে।

হূদয়স্পর্শী বাস্তব ঘটনা কিংবা সমাজকে প্রভাবিত করা যায় এমন ভালো নির্মাণের ভাবনা নিয়ে এখন খুব কম কাজই হচ্ছে। অতিমাত্রায় বাণিজ্যিক চিন্তা থেকে যৌনতাকে পুঁজে করে নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্র, নাটক ও মিউজিক ভিডিও। কিন্তু সেগুলো মোটেও ব্যবসা সফল হচ্ছে না। মানুষের চিরায়ত যে চাওয়া ভালো একটি চলচ্চিত্র, নাটক কিংবা গান—সেটি বর্তমান সময়ে একেবারেই কম।  

এখন প্রেক্ষাগৃহে সরাসরি অশ্লীল ছবি প্রদর্শিত হয় না ঠিকই। কিন্তু তা ছড়িয়ে পড়েছে ইন্টারনেটে। হাতে থাকা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে নিমিষেই দেখে নেওয়া যাচ্ছে আপত্তিকর ছবি, গান। ভালো নির্মাণগুলো সাড়া ফেলতে পারছে না খারাপের চাপে। কিশোর-যুবক ও সামাজিক অবস্থার কথা ভেবে সরকার বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি পর্ণসাইট বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশেই নির্মিত মানহীন, কুরুচিপূর্ণ মিউজিক ভিডিও, নাটকে ইন্টারনেট সয়লাব। যা নির্মাণে ব্যক্তিগত বিনিয়োগ করা হয়ে থাকে।

মেধাবী তরুণদের ভালো কাজে উত্সাহিত করতে সরকারি পর্যায়ে বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করা গেলে হয়তো আমরা আশানুরূপ, ব্যতিক্রমী কিছু পেতাম।

ঢাকা