‘আনপ্রেডিক্টেবল’ তকমাটা পাকিস্তান ক্রিকেটের সঙ্গে একদম শুরু থেকেই জুড়ে আছে। ১৯৯২ সালে এমন অবস্থা থেকে ফিরে এসে বিশ্বকাপ জিতেছিল পাকিস্তান, যা ছিল বাকিদের কল্পনার বাইরে। এমনকি ২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তান যখন চ্যাম্পিয়ন হলেও টুর্নামেন্ট তারা শুরু করেছিল একেবারেই আন্ডারডগ হিসেবে।
ফলে, পাকিস্তান ক্রিকেট দল কখন কি করে ফেলে, সেটা আগাম বলে দেওয়া মুশকিল। এই যেমন: চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের পর তাদের বড় কোনো সাফল্য নেই। ব্যর্থ হয়েছে এশিয়া কাপে। হোম কন্ডিশনে হেরেছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। সম্প্রতি ইংল্যান্ড সফরেও বলার মতো কোনো সাফল্য এখনো পাকিস্তান দলের নেই।
তবুও বিশ্বকাপের আগে তাদের সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ, তারা ‘আনপ্রেডিক্টেবল’। যদিও এই তকমায় বিরক্ত দেশটির সাবেক অধিনায়ক আজহার আলী। তিনি আইসিসিকে বলেন, ‘বারবার আনপ্রেডিক্টেবল হওয়াটা বেশ বিরক্তিকর। আমরা জানি, আমরা যে কোনো অবস্থা থেকে ফিরে আসতে পারবো। তখন আমরা বাকিদের জন্য বেশ ভয়ংকরও হয়তো হয়ে উঠতে পারবো। আমরা বিশ্বকাপে আগে ভালো করেছি। এমনকি যখন আমাদের কেউ পাত্তাও দিচ্ছিল না, তখনো আমরা নিজেদের সামর্থ্যের সুনাম ধরে রেখেছি। যে কোনো সময় আমরা ভালো ফলাফল নিয়ে আসতে পারি। এটাই আমাদের বিশেষ করে তুলেছে।’
ইংল্যান্ডের মাটিতেই দুবছর আগে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছিল পাকিস্তান। এটা মাথায় রেখেই পাকিস্তানের সম্ভাবনা দেখছেন আজহার আলী। তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় ইংলিশ কন্ডিশনে খেলতে পছন্দ করি। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা ইংল্যান্ডে বেশ কয়েকবার খেলেছি। সাফল্যও পেয়েছি। এখন আবার পাঁচটি ওয়ানডে খেলছি। সবমিলিয়ে আমরা আশাবাদী। আশা করি এই গ্রীষ্মে আবারো আমরা কাপ তুলে ধরতে পারবো।’
আজহার এখন আর পাকিস্তানের ওয়ানডে দলের অংশ নয়। তার মতোই গেল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ী দলের আরেক সদস্য মোহাম্মদ আমির নিজেকে রঙিন পোশাকে হারিয়ে খুঁজছেন।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে পাকিস্তান হারায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে। সেই ম্যাচে সবচেয়ে বড় পারফরমার ছিলেন মোহাম্মদ আমির। শুধু ফাইনাল নয়, গোটা আসর জুড়েই দারুণ ছন্দে ছিলেন বাঁ-হাতি এই পেসার।
যদিও, এর পর থেকেই বাজে সময় শুরু হয় স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারির জের ধরে পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা এই তরুণের। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর থেকে যে ১০১টি ওভার তিনি ওয়ানডেতে করেছেন এর মধ্যে পেয়েছেন মোটে পাঁচটা উইকেট। বোলিং গড় ৯২.৬০। এই পরিসংখ্যানটা মোটেও আমিরের সঙ্গে যায় না। সেজন্য বিশ্বকাপের দলে আমিরকে রাখা হয়নি।
বাঁ-হাতি এই পেসারের আশা অবশ্য এখনো শেষ হয়ে যায়নি। দল ঘোষণার জন্য ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির বেঁধে দেওয়া সময়সীমা ২৩ মে। দলগুলো চাইলে সেই সময়ের মধ্যে দলে পরিবর্তন আনতে পারবে, সেটাও আইসিসির টেকনিক্যাল কমিটির কোনো অনুমতি ছাড়াই। আমির এখন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে ব্যস্ত। এখানে ভালো কিছু করলে হয়তো বিশ্বকাপের দলেও জায়গা হবে।
আজহার আলী বলেন, ‘এটা নির্বাচকদের ওপর নির্ভর করছে। আমির অবশ্যই দারুণ বোলার। তবে, শেষ কিছুদিন ওয়ানডেতে সে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পারফরম করতে পারছে না। তবে, আমরা সবাই জানি ও বিশ্বমানের বোলার। এখন দেখার ব্যাপার নির্বাচকরা ওর ওপর আদৌ কতটা ভরসা রাখতে পারেন।’
বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ৩০ মে। ৩১ মে ট্রেন্ট ব্রিজে পাকিস্তানের প্রথম প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগামীকাল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলবে পাকিস্তান। এর আগে একমাত্র টি-টোয়েন্টি হারলেও প্রথম ওয়ানডে ভেসে গেছে বৃষ্টিতে।