উত্সবমুখর সংসদে ডিজিটাল বাজেট ছিলো না বিরোধী দল
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০১৩, ২২:৩৯
বর্তমান মহাজোট সরকারের শেষ এবং আগামী অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট উত্সবমুখর পরিবেশে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে বাজেট উপস্থাপনের আগে সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন করা হয়।
সরকারি দলের অধিকাংশ সদস্যের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, দাতা সংস্থার প্রতিনিধি, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গণমান্য ব্যক্তিরা এসময় উপস্থিত ছিলেন। বাজেট বক্তৃতা শুনতে সংসদে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন। তবে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা অধিবেশনে যোগদান থেকে বিরত থাকেন। বাজেট উত্থাপন শেষে অর্থ বিল-২০১২ সংসদে উত্থাপন করা হয়।
ডিজিটাল বাজেট!
বাজেট পেশ উপলক্ষে সকাল থেকেই পুরো সংসদ ভবন জুড়ে ছিলো উত্সবমুখর পরিবেশ। বাজেট বক্তৃৃতা উপস্থাপনের জন্য অধিবেশন কক্ষে চারটি বড় স্ক্রিন স্থাপন করা হয়। স্পিকারের আসনের পিছনে দু’টি এবং দু’পাশের দর্শক গ্যালারির পাশে দু’টি স্ক্রিন ছিলো। চারটি বড় স্ক্রিনের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বাজেট বক্তৃতার পুরো অংশ ধারাবাহিকভাবে প্রদর্শন হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেতা, স্পিকার ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের পাশে চারটি এলসিডি মনিটর বসানো হয়। বাজেট বক্তৃতার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো ডিজিটাল পদ্ধতিতে উপস্থাপন করা হয়। শারীরিক অসুস্থতার কারণে কখনো দাঁড়িয়ে আবার কখনো বসে বাজেট বক্তৃতা করেন অর্থমন্ত্রী।
বিকাল তিনটা ১১ মিনিটে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন। এর আগে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে কালো ব্রিফকেস নিয়ে সংসদে প্রবেশ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি আসনে গিয়ে দু’পাশে বসা মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অধিবেশনের শুরুতে কোরআন তেলওয়াত শেষে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্পিকার বলেন, আপনি বাজেট উত্থাপনের অনুমতি চাইতে পারেন। এসময় অর্থমন্ত্রী দাঁড়ালে অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত সংসদ সদস্যরা করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। পরে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে অর্থ মন্ত্রী বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে বাজেট বক্তৃতা শুরু করেন।
অর্থ বিল উত্থাপন
বাজেট বক্তৃতা শেষে অর্থ মন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সংসদে অর্থ বিল-২০১৩ উত্থাপন করেন। সরকারের আর্থিক প্রস্তাবাবলী কার্যকরণ এবং কতিপয় আইন সংশোধনের লক্ষ্যে বিলটি উপস্থাপন করা হয়। আগামী ৩০ জুন বিলটি পাস হবে।
অনুপস্থিত বিরোধী দল
সরকারের শেষ বাজেট উপস্থাপনকালে সংসদে অনুপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের সদস্যরা। এর আগের চার অর্থ বছরের বাজেট অধিবেশনও তারা বর্জন করেছিলেন। বিরোধী দল চলতি অধিবেশনে যোগ দিলেও গত বুধবার সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে বাজেট পেশকালে উপস্থিত থাকবে না বলে ঘোষণা দেয়। বিরোধী দলের সদস্যরা গতকাল সংসদ ভবনে উপস্থিত থাকলেও অধিবেশন কক্ষে যাওয়া থেকে বিরত ছিলেন। বিরোধী দলীয় নেতার কার্যালয়ে বসেই তারা বাজেট বক্তৃতা শোনেন।
সংসদ ভবন ঘিরে নিরাপত্তা বেষ্টনি
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য ভিআইপিদের আগমন উপলক্ষে সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় সকাল থেকেই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়। র্যাব-পুলিশসহ গোয়েন্দা সংস্থার বিপুল সংখ্যক সদস্য পুরো ভবনে কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলেন। একমাত্র বৈধ পাস ছাড়া আর কাউকে সংসদ ভবন এলাকায় প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। এমনকি দর্শক গ্যালারিতে পাস ইস্যুতেও ছিল কড়াকড়ি। সে কারণে দর্শক গ্যালারির অনেক আসনই ছিল ফাঁকা।
অর্থমন্ত্রীর সপ্তম বাজেট
এবারের বাজেট নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সপ্তমবারের মতো বাজেট প্রস্তাব পেশ করলেন। এর আগে এইচএম এরশাদের শাসনামলের প্রথম দিকে ১৯৮২-৮৩ ও ১৯৮৩-৮৪ অর্থবছরের দু’টি বাজেট পেশ করেছিলেন তিনি। বয়সে প্রবীণ হলেও সংসদে বাজেট পেশকালে অর্থমন্ত্রীকে বেশ তেজদীপ্ত মনে হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বাজেট বক্তৃতকালে উত্ফুল্ল¬ ও হাস্যোজ্জ্বল অর্থমন্ত্রী মাঝে-মধ্যেই হাস্যরসের মাধ্যমে অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত সবাইকে মাতিয়ে রাখেন।