সাভার থানায় ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

সাভার মডেল থানায় শামীম সরকার নামে এক ব্যবসায়ীকে ধরে এনে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। শামীমের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা ঘুষ চেয়ে না পাওয়ায় পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে দাবি করেছে তার ছোট ভাই বিপ্লব। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানার এসআই এমদাদ ও সাভার মডেল থানার এএসআই আকিদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনার পর ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ থানায় জমা দিয়ে পলাতক রয়েছেন আকিদুল ইসলাম। এসআই এমদাদ ও দুই কনস্টেবলকে সাভার থানায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এদিকে ব্যবসায়ী হত্যার প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উত্তাল হয়ে ওঠে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা। এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক তিন ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। আগুন ধরিয়ে দেয় ট্টাফিক পুলিশ বক্সে। জানা গেছে, গত বুধবার রাত ১০টার দিকে মোল্লা সিএনজি পেট্রোল পাম্পের সামনে থেকে ব্যবসায়ী শামীম সরকার ও সাইদুল ইসলামকে ধরে থানায় নিয়ে আসে এসআই এমদাদ ও এএসআই আকিদুল ইসলাম। শামীমের পরিবারের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা ঘুষ চাওয়া হয়। নিহতের ছোট ভাই বিপ্লব জানান, আমার ভাই নিরপরাধ, তাই তিনি ঘুষ দিতে রাজী হননি। শুরু হয় তার উপর নির্যাতন। এক পর্যায়ে শামীম নিস্তেজ হয়ে পড়লে অস্ত্র উদ্ধারের কথা বলে রাত দেড়টার দিকে হেমায়েতপুরের ট্যানারি এলাকায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার মৃত্যু হলে পুলিশ মিটফোর্ড হাসপাতালে লাশ ফেলে রেখে আসে। পুলিশ বলছে, শামীমের বিরুদ্ধে ২০০২ সালে দায়ের করা একটি মামলা ছিল। ওই ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তবে নিহতের ছোটভাই বিপ্লব জানিয়েছে, ওই মামলা থেকে অনেক আগেই খালাস পেয়েছেন তার বড় ভাই। নিহতের মামা আবদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়ের করা হবে। পুলিশ হেফাজতে শামীমের মৃত্যু হয়েছে- এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে গতকাল সকাল থেকেই এলাকাবাসী ও স্বজনরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। হাজার হাজার জনতা দুপুরে এ ঘটনার প্রতিবাদে ও পুলিশের বিচার দাবি করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে জনতা সড়কের উপর ট্রাফিক পুলিশ বক্সে ভাংচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয়। ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে দোষী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে জনতা অবরোধ তুলে নেয়। বিকাল ৪টায় সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আকিদুলকে পাওয়া যাচ্ছে না। আকিদুল ও এসআই এমদাদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।