পবিত্র শবে মেরাজ পালন
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০১৩, ২২:৪৪
যথাযোগ্য মর্যাদা এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সারাদেশে পবিত্র শবে মেরাজ পালিত হয়েছে। হিজরি রজব মাসের ২৬ তারিখ রাতে মহান আল্লাহর ইচ্ছায় ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে সাথে নিয়ে যান। পবিত্র নগরী মক্কা শরিফ থেকে তিনি ফেরেশতার সাথে সপ্তম আসমান পার হয়ে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সাক্ষাত্ লাভ করে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসেন। আর জন্যই এ মহিমান্বিত রাতটি প্রতিটি মুসলমানের কাছে অত্যন্ত পবিত্র।
পবিত্র শবে মেরাজ হচ্ছে মহানবীর (সা.)-এর ঊর্ধ্বলোকে পরিভ্রমণের ঐতিহাসিক ও অলৌকিক ঘটনার স্মারক দিবস। মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি দেশের মতো বাংলাদেশেও এ রাত যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালিত হয়। প্রতিটি মুসলমান পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, জিকির-আসকার, দোয়া-দরুদ, মিলাদ মাহফিলসহ ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে এ রাতে আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি কামনা করেছেন। এদিকে শবে মেরাজ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বাদ মাগরিব জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা মুহাম্মদ সালাহউদ্দীনসহ বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরামরা শবে মেরাজ নিয়ে ওয়াজ করেন।
হাদিসে বর্ণিত রয়েছে যে, হযরত মুহাম্মদ (সা.) রজব মাসের ২৬ তারিখ রাতে আল্লাহ প্রেরিত বোরাক নামক বাহনে যাত্রা করে প্রথমে কাবা শরিফ থেকে ফিলিস্তিনের বায়তুল মোকাদ্দাস মসজিদে যান। আগে দুনিয়াতে আসা অন্যান্য নবী-রাসুলের সাথে তিনি সেখানে দু’রাকাত নফল নামাজ আদায় করেন। এরপর ঊর্ধ্বলোকে সফর শুরু করেন। এ সময় তিনি নভোমণ্ডল, বেহেশত-দোজখ ও সৃষ্টির অনেক অজানা রহস্য প্রত্যক্ষ করাসহ পূর্ববর্তী নবীদের সাক্ষাত্ লাভ করেন।
মহানবী সপ্তম আসমান অতিক্রম করার পর আরশে আজিমে ধনুক পরিমাণ দূরত্বে থেকে মহান আল্লাহ পাকের দিদার লাভ করেন এবং সরাসরি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সাথে তাঁর কথোপকথন হয়। শবে মেরাজের সফরেই দুনিয়াতে উম্মতে মোহাম্মদীর জন্য দিনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে নির্ধারিত হয়।