সন্ত্রাস কমে যাওয়ায় প্রচারণায় শিক্ষিতদের অংশগ্রহণ বেড়েছে
প্রকাশ : ০৭ জুন ২০১৩, ২০:৩৯
পেশী শক্তির মহড়া বা তেমন কোন হুমকি-ধমকি না থাকায় নগরীর মধ্যবিত্ত পরিবারের উচ্চ শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। কেউ কেউ আবার কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন। এ বছর নতুন মুখের ভিড় সবচেয়ে বেশি। নগরীর সত্, যোগ্য, শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে। বিভিন্ন ওয়ার্ডের পুরনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের কাউন্সিলর প্রার্থীরা পড়েছেন এবার নতুন মুখের প্রার্থীদের চ্যালেঞ্জের মুখে। বিগত নির্বাচনে ৩০টি ওয়ার্ডের মধ্যে সিংহভাগ কাউন্সিলরই বিএনপি দলীয় প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। এদের মধ্যে ৫ জন বিজয়ের পর পরই আওয়ামী লীগ দলীয় বিজয়ী মেয়র শওকত হোসেন হিরনের হাতে ফুল দিয়ে বিএনপি ত্যাগ করেন। যারা বিএনপিতে থেকেই কাউন্সিলর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন তারা গত মেয়াদে তেমন সুবিধা করতে পারেননি। তার উপর এবার নতুন মুখের কাউন্সিলর প্রার্থীদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। নগরীর এক সময়ের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা দীর্ঘদিন গা-ঢাকা দিয়ে থাকার পর নগরীতে ফিরে এলেও তারা ভোল পাল্টেছেন। কেউ আইন ব্যবসা করছেন আবার কেউ কাউন্সিলর প্রার্থীও হয়েছেন। একদা সন্ত্রাসী এসব প্রার্থীর আচার আচরণ এখন অতি নম্র ভদ্র। বিনয়ী হয়ে তারা ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন। কণ্ঠে নেই সেই উচ্চৈঃস্বরের হুংকার। তাদের এই নতুন রূপ ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। এবারের নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে ছোট খাটো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় নেই কোন পেশী শক্তির প্রদর্শন। এলাকাভিত্তিক প্রায় ৫শ’ ছোট খাটো সন্ত্রাসীকে পুলিশ আটক করেছে। পাড়া মহল্লার এসব ছিঁচকে সন্ত্রাসী ধরা পড়ায় নির্বাচনী প্রচারণাও অনেকটা নির্বিঘ্ন হয়েছে। পুলিশ কমিশনার গণমাধ্যমকে জানান, বর্তমানে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের আটকের জন্য আবাসিক হোটেল ও বাসা বাড়িতে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। চেক পোস্ট বসিয়ে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। পরিবেশ ভাল থাকায় নিম্নমধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত পরিবারের সত্, যোগ্য ও শিক্ষিত ছেলে-মেয়েরা এবারে নির্বাচনী প্রচারণায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন। নতুন ভোটার হওয়া উদীয়মান এসব তরুণ-তরুণীদের পক্ষে ভেড়ানোর জন্য প্রার্থীরা নানান কৌশল অবলম্বন করছেন। তবে তাদের টাকার প্রলোভন দেখানো একটি খারাপ দিক বলে উল্লেখ করেছেন সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন। এদিকে দল ক্ষমতায় না থাকায় বিরোধী জোটের কাউন্সিলর প্রার্থীরা এলাকাবাসীর প্রত্যাশা তেমন একটা পূরণ করতে পারেনি। ফলে নতুন মুখের প্রার্থীদের কদর বেড়েছে ওয়ার্ডগুলোতে। অবহেলিত এলাকাগুলোর সাবেক কাউন্সিলররা জানান, তাদের দলীয় মেয়র নির্বাচিত না হওয়ায় তারা এলাকার ভোটারদের তেমন একটা মন রক্ষা করতে পারেননি। তবে এবার নির্বাচিত হলে দলীয় মেয়র নগর ভবনে পেলে তারা এলাকাবাসীর প্রত্যাশা পূরণৃে সক্ষম হবেন।
প্রবল বর্ষণে প্রার্থীরা বিপাকে
প্রবল বর্ষণে সিটি নির্বাচনের প্রার্থীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে শুরু হওয়া বৃষ্টি গতকাল শুক্রবার সকালে প্রবল আকার ধারণ করে। বর্ষায় স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে প্রার্থীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সকাল ১০ টা পর্যন্ত ২০ মিলি মিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। গতকাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বর্ষণ অব্যাহত ছিল।