ঘূর্ণিঝড় মহাসেনে ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণাঞ্চলের ৩ জেলায় ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ

অতিসমপ্রতি দক্ষিণ উপকূলের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভয়াল ঘূর্ণিঝড় মহাসেনে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ জেলার জন্য সরকার ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। বরাদ্দকৃত টাকায় তিন জেলার ক্ষতিগ্রস্তদের বসতঘর নির্মাণের জন্য ৩০ জুন সর্বশেষ সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। বরগুনা, ভোলা ও পটুয়াখালী জেলার জন্য এ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়। ক্ষতিগ্রস্ত জেলার মধ্যে পটুয়াখালীর জন্য ১৩ কোটি, বরগুনায় ৯ কোটি ও ভোলা জেলার জন্য ৮ কোটি টাকায় মোট ১৫ হাজার নতুন ঘর নির্মাণ করা হবে। বরাদ্দকৃত এ টাকায় তিন জেলায় বসতঘর নির্মাণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার রাতে বরিশাল সার্কিট হাউজে সভা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক আব্দুল ওয়াজেদ। বিভাগীয় কমিশনার মো: নূরুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ঐ সভায় তিন জেলার জেলা প্রশাসক ছাড়াও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারা (পিআইও) উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত বরিশালের জেলা প্রশাসক মো: শহীদুল আলম ও জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা চিত্তরঞ্জন দাস ইত্তেফাককে জানান, ১৬ মে উপকূলের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় মহাসেনের আঘাতে ঐ তিন জেলার ১৫ হাজার বসতঘর বিধ্বস্ত হয়। বর্ষা মৌসুমে ঐ ১৫ হাজার পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। তাদের দ্রুত বসতঘর নির্মাণ করে দেয়ার জন্য সরকার জরুরিভাবে ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। ঐ টাকায় বসতঘর নির্মাণের জন্য উপজেলা ভিত্তিক কমিটি গঠন করে ৩০ জুনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রত্যেক উপজেলায় ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ স্ব-স্ব উপজেলা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। জেলা প্রশাসক, পিআইও এবং ইউপি চেয়ারম্যানগণ সদস্য হিসাবে থাকবেন। একেকটি ঘর নির্মাণ ও মেরামতের জন্য সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঐ কমিটি খরচ করতে পারবেন। তবে যেভাবেই হোক ৩০ জুনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার জন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কাজের অগ্রগতি ও মান সম্পর্কে মনিটরিং করা হবে বলে বৈঠক সূত্র জানিয়েছে। বৈঠকে স্বচ্ছতার সাথে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত টাকায় নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে কোন অনিয়ম পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।