বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে

আগামী ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটে মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে মোট ৪৩ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বরাদ্দ মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) ১৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন মিলে মোট ১৩ হাজার ১৭৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন মিলে ১১ হাজার ৯৩৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বরাদ্দের সুপারিশ করা হয়েছে। দুই মন্ত্রণালয়ে মোট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২৫ হাজার ১১৪ কোটি ৬০ টাকা। অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তব্যে বলেন, সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষার প্রসারে আমরা নিরলসভাবে কাজ করেছি। ইতোমধ্যে আমরা জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ প্রণয়ন করেছি। শিক্ষার সুযোগ বঞ্চিত গরীব ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণয়ন করেছি ‘শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট আইন, ২০১২’। গঠন করেছি শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট। তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত বৃদ্ধির জন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আরো প্রায় ২ হাজার প্রধান শিক্ষক ও ৬৯ হাজার ৪০৪ জন সহকারী শিক্ষক এবং রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আরো ৯ হাজার ৫০০ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছি। সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছি। এ লক্ষ্যে ৩৭ হাজার ৬৭২টি সহকারী শিক্ষকের পদে নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি শহরের কর্মজীবী শিশুদের জন্য ৭টি বিভাগীয় শহরে ৬ হাজারেরও বেশি শিখন কেন্দ্রের মাধ্যমে ১ লাখ ৬৬ হাজার শিক্ষার্থীকে মৌলিক শিক্ষা প্রদানের কার্যক্রম চলছে। প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ সমপ্রসারণের লক্ষ্যে ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করেছি। প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের চাকরি সরকারিকরণের কাজ শুরু করেছি। অব্যাহত রেখেছি প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপবৃত্তি প্রদান কার্যক্রম। এছাড়া ২০১২ সাল থেকে স্নাতক ও সমপর্যায় পর্যন্ত উপবৃত্তি প্রদান প্রক্রিয়া সমপ্রসারণ করেছি।