বিদ্যুত্ উত্পাদন করতে পারবে আরইবি
প্রকাশ : ০৭ জুন ২০১৩, ২২:৩৮
বিদ্যুত্ উত্পাদন করার ক্ষমতা পাচ্ছে আরইবি। এমন নিময় রেখেই অধ্যাদেশ পরিবর্তন হচ্ছে আরইবির। একই সাথে পরিবর্তন হবে প্রতিষ্ঠানের নাম। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড আইন ২০১৩ এ এই নিয়ম রাখা হচ্ছে। নতুন আইনে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড করা হচ্ছে। আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিয়ে আগামী সংসদ অধিবেশনে তা উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে। বর্তমানে সরকারিভাবে শুধু পিডিবি ও তার অধীনস্থ কোম্পানি বিদ্যুত্ উত্পাদন করে।
নতুন আইনে বিদ্যুত্ গ্রাহককে সক্ষম করতে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড প্রয়োজনে তার সমিতি বা অন্য কোন গোষ্ঠীকে ঋণ দিতে পারবে। আবার সরকার ছাড়াও কোন সংস্থা বা ব্যক্তির কাছ থেকে অনুদান, দান বা ঋণ নিতে পারবে। অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড প্রয়োজনে বিদ্যুত্ উত্পাদনও করতে পারবে।
খসড়া আইনে বলা হয়েছে, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড যেখানেই কাজ করবে তা পল্লী এলাকা হিসেবে বিবেচিত হবে। তা সে পৌর এলাকা হলেও। কৃষি উন্নয়ন ও গ্রামীণ শিল্প স্থাপন এবং সমাজের অনুন্নত অংশের আয় বাড়ানো ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সহায়তা দিতে বিদ্যুত্ ব্যবহার বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগী হবে। বিদ্যুতের ব্যবহার বাণিজ্যিক ও আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে।
আরইবি চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মইনউদ্দিন বলেন, দি রুরাল ইলেকট্রিফিকেশন বোর্ড অর্ডিন্যান্স ১৯৭৭-এর কার্যকারিতা শেষ হওয়ায় পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ‘বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড আইন ২০১৩’ করা হচ্ছে।
নতুন আইন অনুযায়ী এই প্রতিষ্ঠান সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্বে অন্যদের সাথে সমঝোতা ও চুক্তিবদ্ধ হতে পারবে। নিজেই দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিতে পারবে। আরইবি জনসেবক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য হবে। এই প্রতিষ্ঠানের চাকরি সরকারের জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সার্ভিস হিসেবে গণ্য হবে। খেলাপি গ্রাহকদের আইন অনুযায়ী সংযোগ বিচ্ছিন্ন করবে।
যে এলাকায় আরইবিকে দায়িত্ব দেয়া হবে সেখানে অন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা বিদ্যুত্ সংযোগ দিতে পারবে না বা বৈদ্যুতিক লাইন বাড়াতে পারবে না।
বিদ্যুত্ সম্প্রসারণের কাজে তাদের নিজম্ব এলাকার যেকোন স্থানে খুঁটি বা স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে। সেক্ষেত্রে শুধু ঐ জমির মালিক বা দখলদারকে ২৪ ঘণ্টা আগে নোটিস দিতে হবে। বিদ্যুত্ পরিচালনা, বিতরণ ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অধিগ্রহণ ছাড়াও ভূগর্ভে, ভূমিতে, ভূমির ওপরে তার, খুঁটি, বন্ধনী, যন্ত্রপাতি এবং অন্য স্থাপনা স্থাপন করতে পারবে। কোন স্থানের জমি প্রয়োজন হলে তা জনস্বার্থে আবশ্যক বলে গণ্য হবে। কোম্পানির ১২ জন বোর্ড সদস্য থাকবেন। তারমধ্যে চেয়ারম্যান ও আরো পাঁচজন সার্বক্ষণিক সদস্য থাকবেন।