রাজশাহীতে বাজেটের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

বাজেট নিয়ে রাজশাহীর রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান সভাপতি আলহাজ্ব আবু বাক্কার আলী বাজেটকে উচ্চাভিলাষী আখ্যায়িত করে কিছু ক্ষেত্রে সংযোজন ও বিয়োজন করার দাবি জানান। তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রেল ও কৃষিখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবির পাশাপাশি কৃষিখাতের ভর্তুকি ৯ হাজার কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে কমপক্ষে ১২ হাজার কোটি টাকা প্রস্তাব করেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে ব্যাংক সুদ কমানোর এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম ছাড়া অন্যান্য সিটি এলাকার সর্বনিম্ন কর জেলা শহরের সমান অর্থাত্ দুই হাজার টাকা নির্ধারণেরও দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, বিশাল বাজেট বাস্তবায়ন অসম্ভব নয়, কিন্তু চ্যালেঞ্জিং। সুশাসন, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হবে। রাজনৈতিক সহিংসতা বাজেট বাস্তবায়নে অন্তরায় হতে পারে। এফবিসিআইয়ের পরিচালক ও রাজশাহী চেম্বারের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী সরকার বলেন, বাজেট গণমুখী হয়েছে। নাসিব রাজশাহী জেলা সভাপতি লিয়াকত আলী বলেন, বাজেট সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। বাজেটকে ইতিবাচক আখ্যায়িত করেছেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সদ্য সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এবং রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা। অন্যদিকে বাজেটকে গণবিরোধী ও গরীব মারার বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন রাজশাহীর সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, বাজেটে সহজশর্তে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেয়ায় দুর্নীতি উত্সাহিত হবে। ফলে গরীবকে আরো গরীব এবং ধনীকে আরো ধনী হওয়ার সুযোগ দেবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর রফিকুল ইসলাম বলেন, এটি আগামী নির্বাচনকে প্রভাবিত করার বাজেট। সরকারের ফান্ডে টাকা নেই, অথচ সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কিছু নতুন কাজ করে তা দেখিয়ে জনগণের কাছে ভোট চাইবে। কিন্তু এতে ব্যাংকগুলো ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে। সার্ক চেম্বারের আজীবন সদস্য ও রাজশাহী চেম্বারের সাবেক সভাপতি লুত্ফর রহমান বলেন, বাজেটে এনবিআর থেকে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা কর আদায়ের যে প্রস্তাব করা হয়েছে তা উচ্চাভিলাষী। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিগত ৩ মাসের মত আবারো হরতাল আসলে আমদানি-রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হবে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে না। দেশে বিনিয়োগ হবে না, বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান হবে না। ফলে আগামীতে যে সরকার আসবে, তার জন্য এই বিশাল বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে। এটি স্রেফ নির্বাচনী বাজেট। একে কোনোভাবেই জনকল্যাণমুখী বাজেট বলা যায় না।