সাভারে শামীমের খুনি পুলিশদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন
প্রকাশ : ০৭ জুন ২০১৩, ২২:৫৫
সাভারে পুলিশ হেফাজতে হেমায়েতপুর এলাকার ব্যবসায়ী শামীম সরকার হত্যার ঘটনায় গতকাল শুক্রবারও এলাকা ছিল উত্তাল। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসি ও নিহতের স্বজনরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে। এতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে এক ঘন্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়। এদিকে এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে দুইটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে।
শামীম হত্যা ঘটনায় ৫ জনকে আসামি করে সাভার থানায় মামলা করেছে নিহতের বড় ভাই আমিনুর রহমান। এ মামলায় ৪ জন গ্রেফতার রয়েছে। বাকি এক এএসআই পলাতক রয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় শামীম সরকারের নামাজের জানাজা হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ডে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উপর অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আইন প্রতিমন্ত্রী এ্যাড: কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। তিনি শামীম হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর ও অভিযুক্ত পুলিশের সহকারী দারোগা আকিদুল ইসলামকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। এ সময় এলাকার শতশত জনগণ বিভিন্ন মামলার অজুহাতে এলাকার নিরীহ জনগণের উপর পুলিশের নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরেন। সাদা পোশাকধারী পুলিশ এলাকার ধনাঢ্য ব্যক্তিদের টার্গেট করে আটকের পর স্পর্শকাতর বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানির হুমকি দিয়ে লাখ লাখ টাকার ঘুষ বাণিজ্য করে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। নিহত শামীম সরকারকে এসআই এমদাদ এর আগেও একটি মোটর সাইকেল চুরির মামলায় আটক করে ছয় লাখ টাকা ঘুষ আদায় করে ছেড়ে দেন। মিথ্যা ঘটনায় আটকের পরও জীবন বাঁচাতে ওই দারোগাকে ঘুষ দিয়ে সে সময় ছাড়িয়ে আনা হয় বলে নিহতের ছোট ভাই বিপ্লব জানান।
এদিকে আইন প্রতিমন্ত্রী জানাজা শেষে চলে যাবার পর সাড়ে ১০টার দিকে গ্রামবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) হাবিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় পৃথক দুইটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। অতিরিক্ত ডিআইজি মিজানুর রহমানকে প্রধান করে একটি এবং ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক হোসেনকে প্রধান করে অপর তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। অভিযুক্ত সহকারী দারোগা আকিদুল ইসলামকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।
এমদাদ-আকিদুলের যত অপকর্ম
এসআই এমদাদ ও আকিদুল ইসলাম যেন মানিক জোড়। এমদাদ সাভার থানায় সিভিল টিমের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তারা মাইক্রোবাস নিয়ে সারা সাভার চষে বেড়াতেন। চালাতেন গ্রেফতার বাণিজ্য। গত ১৮ মার্চ গভীর রাতে এমদাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও গোলাবারুদ ভর্তি একটি পিকআপ ভ্যান ছেড়ে দেয়ারও অভিযোগ উঠেছিল। আইজিপির কাছে লিখিতভাবে এই অভিযোগ করেছিলেন অস্ত্র উদ্ধারে অংশ নেয়া অপর এসআই রজব আলী। এমদাদকে অভিযুক্ত করে রজব আলী আইজি, ডিআইজি বরাবর অভিযোগ দায়ের করলেও এমদাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। উল্টো রজব আলীকে রাঙামাটি বদলি করে দেয়া হয়। এছাড়া মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে ভাগলপুরের আকাশ নামের এক যুবককে আটক করে ৫০ হাজার টাকা আদায় করেন তিনি। সম্প্রতি এএসআই আকিদুল উলাইল এলাকার আমান নামের এক ব্যবসায়ীকে আটক করে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েও না ছেড়ে একটি ভাঙচুরের মামলার আসামি দেখিয়ে কোর্টে প্রেরণ করেন। এ ধরনের ঘুষ বাণিজ্যের শত অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।