এমসিসিআই-এর বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বাজেট বাস্তবায়নই প্রবৃদ্ধি অর্জনের চাবিকাঠি
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০১৩, ২১:০৮
আগামী অর্থবছরের জন্য ঘোষিত বাজেটে জিডিপির প্রবৃদ্ধি লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে সাত দশমিক দুই শতাংশ। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বাস্তবায়নই এ প্রবৃদ্ধি অর্জনের চাবিকাঠি বলে মনে করছে মেট্রপলিট্যান চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)। এ বাজেটকে তারা উচ্চভিলাষী এবং চ্যালেঞ্জযুক্ত বাজেট উল্লেখ করেছে।
বাজেট বিশ্লেষণে এমসিসিআই বলেছে, ভৌত ও সামাজিক খাতের উন্নয়নের প্রতি লক্ষ্য রেখে প্রস্তাবিত বাজেট দেশের মানুষের জীবন-মানের উন্নয়ন ঘটাবে এবং অধিকতর কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করবে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে পদ্মাসেতুসহ যোগাযোগ, বিদুত্ ও জ্বালানী, শিক্ষা, পল্লী উন্নয়ন, ভৌত অবকাঠামো পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহ নির্মাণ এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে বেশি বরাদ্দ দেয়াকে অভিনন্দন জানিয়েছে এমসিসিআই। কৃষি খাতে কম বরাদ্দ রাখায় হতাশা প্রকাশ করলেও এখাতে চলমান ভর্তুকী বরাদ্দের জন্য এ চেম্বার সন্তোষ প্রকাশ করেছে। এছাড়া পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার জন্য নতুন প্রনোদনা, মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানি ও অন্তর্বর্তীকালীন কাঁচামালের শুল্ক কমানো, ব্যক্তি আয়করের নিন্মতম সীমা বাড়ানো, বাড়ী ভাড়া ভাতা অব্যাহতির পরিমাণ বাড়ানো, বেতনভোগী এবং ছোট ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে আয়কর রির্টান ফরম সহজতর করার বিষয়কে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছে এ চেম্বার।
এমসিসিআই বলেছে, সরকার ব্যাংক থেকে যে পরিমাণ ঋণ নেয়ার লক্ষমাত্রার ঠিক করেছে তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকলে বেসরকারী খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধিকে ব্যহত করবে। এজন্য অর্থেক বিকল্প উত্স খোঁজার জন্য সযত্ন হওয়ার কথা বলা হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুত্ প্রকল্পসমূহের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা ও জাতীয় কয়লা নীতি অবিলম্বে ঘোষণা করে যথাযথ মাইনিং পদ্ধতি গ্রহণ করে দেশে মজুত থাকা মূল্যবান সম্পদ ব্যবহার করা উচিত বলেও এ চেম্বার মত দিয়েছে। জ্বালানী এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে খাতে সরকারের বাস্তবায়ন করার সক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া লক্ষ্য অর্জনের অন্য কোন বিকল্প নেই।
বাজেটে জিডিপি, রেমিট্যান্স এবং বিনিয়োগের হার বৃদ্ধির উপর জোর দেয়া হলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য সরকারকে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এছাড়া পুজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে কোম্পানীগুলোকে নিরুত্সাহিত করতে পারে এবং এগুলোর লভ্যাংশ বিতরণে সক্ষমতা কমতে পারে বলে মত দিয়েছে এমসিসিআই। বাজেটে অঘোষিত আয়কে সাদা করার সুযোগ দেয়া দেয়াতে হতাশ হয়েছে এমসিসিআই। এতে টাক্সদাতারা ট্যাক্স দিতে নিরুত্সাহীত হতে পার বলে এমসিসিআই মনে করছে।