নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভাবে অভিযানে ভাটা

পরিবেশ অধিদফতর

ইত্তেফাক রিপোর্ট

অর্গানোগ্রামে আছে ম্যাজিস্ট্রেট থাকবে আটজন। আছে একজন। পর্যাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট না থাকায় পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে পারছে না পরিবেশ অধিদফতর। একই অবস্থা অন্যান্য বিভাগীয় কার্যালয়ে। আবার অনেক সময় পদায়ন করা হলেও তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা থাকে না। ক্ষমতা অর্পণের জন্য প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণের পর দেখা যায় যে, ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা অর্পণের আদেশ আসার আগেই বা কিছুদিন পর তাদেরকে বদলি করা হয়েছে। এমতাবস্থায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর। চিঠির এই অনুলিপি সম্প্রতি হাইকোর্টে দাখিল করেছে অধিদফতর। হাইকোর্ট বলেছে, জনবল না থাকায় অধিদফতর কাগুজে বাঘে পরিণত হবে। একইসঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আদালতের আদেশের কপি মন্ত্রণালয়ে গেছে বলে জানান রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।

নিয়োগ সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়েছে, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে পরিবেশদূষণকারী ও পরিবেশগত ছাড়পত্রবিহীন শিল্পকারখানা/প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন শপিং ব্যাগ বাজারজাতকরণ ও ব্যবহার রোধকল্পে এবং যানবাহনের কালোধোঁয়া ও উচ্চ শব্দ দ্বারা সৃষ্ট দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রশমনকল্পে অভিযান পরিচালনা, দূষণকারী ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, পাহাড় কর্তন/মোচন ও জলাধার ভরাটকরণসহ প্রতিবেশ ব্যবস্থার ক্ষতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঢাকা মহানগর কার্যালয়সহ খুলনা, রাজশাহী, বগুড়া, সিলেট, বরিশাল ও রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের জন্য ছয়জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রেষণে নিয়োগ/পদায়ন করা একান্ত জরুরি। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন/বিধির আওতায় ক্ষমতা অর্পণসহ পদায়ন করা হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ পদায়নের সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে পারেন।

এছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পরিবেশ অধিদফতরের এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমের মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অধিকাংশ পদ শূন্য থাকায় অধিদফতরের পক্ষে মোবাইল কোর্ট ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নির্ধারিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না বলেও ওই চিঠিতে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত গত মাসে আদালতে হাজির হয়ে পরিবেশ অধিদফতরের বায়ুমান ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক জিয়াউল হক বলেছিলেন, নভেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত বায়ু দূষণ খারাপ অবস্থায় থাকে। এজন্য ৫০ ভাগ দায়ী ইটভাটাগুলো। আর স্থাপনা নির্মাণের জন্য দায়ী ২৫-৩০ ভাগ। আদালত বলে, দেশে যত ইটভাটা চলছে এর মধ্যে বেশিরভাগই অবৈধ। কিন্তু এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে আপনারা ভাটার মালিকদের অনুমোদনের আবেদনপত্র ফেলে রাখেন। এতে করে দুর্নীতি বাড়ছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, অর্গানোগ্রামে যে সংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট থাকার কথা সেখানে রয়েছে একজন। ফলে জনবলের অভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা যাচ্ছে না।