সিরিয়ার জন্য রেকর্ড ৫০০ কোটি ডলার সাহায্য চেয়েছে জাতিসংঘ

গৃহযুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার জনগণের জন্য পাঁচশ’ কোটি ডলারের জরুরি সাহায্য চেয়েছে জাতিসংঘ। এর আগে ১০০ কোটি ডলারের তহবিলের যে আবেদন জাতিসংঘ জানিয়েছিল তার সঙ্গে এখন এই বছরে আরো ৪০০ কোটি ডলার সাহায্যের আবেদন জানানো হয়েছে। সংস্থাটির ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় সাহায্যের আবেদন। জাতিসংঘের হিসাব মতে, যুদ্ধের কারণে চলতি বছরের শেষ নাগাদই সিরিয়ার মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক (১ কোটিরও বেশি) মানুষের জন্য এ সাহায্যের প্রয়োজন পড়বে। সিরিয়া পরিস্থিতির অবনতির কথা তুলে ধরে শুক্রবার জেনেভার সংবাদ সম্মেলনে সিরিয়ার জন্য ওই সাহায্যের আহ্বান জানান জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার অ্যান্টনিও গুটারেস। এদিকে, রেকর্ড পরিমাণ সাহায্যের যে আবেদন জানানো হয়েছে তা সংগ্রহ করতে বেশ কষ্ট হবে বলে স্বীকার করেছেন জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কারণ, জাতিসংঘের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এ বছরের প্রথম ছয়মাসে প্রয়োজনীয় ১৫০ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুত তহবিলই এখনো পূরণ হয়নি। তহবিল যোগানোয় এ গড়িমসির জন্য সমালোচিত হয়েছে দাতাদেশগুলো। জাতিসংঘ কর্মকর্তারা বলছেন, তহবিলে এ পর্যন্ত জমা হয়েছে মাত্র ১২০ কোটি ডলার। কিন্তু শুক্রবার জাতিসংঘ বলেছে, সিরিয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে এখন নতুন করে বিপুল অঙ্কের ওই সাহায্য চাওয়া হয়েছে। সিরিয়ায় বর্তমানে প্রতি তিনজনে একজনের জরুরি মানবিক সহায়তা দরকার বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের জরুরি ত্রাণ সমন্বয়ক ভ্যালেরি আমোস। জানুয়ারি এবং এপ্রিলের মধ্যে সিরিয়ায় উদ্বাস্তু মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে বলে জানান তিনি। জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিরিয়ায় ১৫ লাখ মানুষ শরণার্থী হয়েছে। বছর শেষে তা ৩৫ লাখে পৌঁছতে পারে। গুটারস বলেন, এখন শরণার্থী শিবিরে প্রতিদিন গড়ে সাত হাজার মানুষ যোগ হচ্ছে। শুধুমাত্র সিরিয়ার অভ্যন্তরেই ৭০ লাখ মানুষের জরুরি সাহায্য প্রয়োজন যারা ঘর-বাড়ি হারিয়েছে। ইউনিসেফ জানিয়েছে, সিরিয়ায় যুদ্ধের ভয়াবহতার শিকার প্রায় ৪০ লাখ শিশুকে রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে মানবিক সাহায্য প্রয়োজন। যুদ্ধের কারণে সিরিয়া তাদের একটি তরুণ প্রজন্ম হারাবে বলে আগেই সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ