রামগড়ের পাহাড়ী আমের কদর বাড়ছে দেশ জুড়ে

এক সময়ে বনজঙ্গলে পরিপূর্ণ অনাবাদি পাহাড়ি টিলায় এখন সারি সারি আম বাগান। আসাদ গাজী এবার পাহাড়ে আমের বিপ্লব ঘটিয়েছেন। এবার ১৫ লাখ টাকার আম বিক্রির আশা তার। রাজশাহী কিংবা চাঁপাইনবাবগঞ্জের মত এ পার্বত্য এলাকাকেও আমের জন্য বিখ্যাত করতে চান তিনি। বাণিজ্যিক ভিত্তিক পরিকল্পিত আম চাষ করে বৃক্ষপ্রেমী আসাদ গাজী পাহাড়ে উন্নত জাতের আম উত্পাদনের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছেন। ফরমালিন মুক্ত হওয়ায় তার বাগানের আমের কদর সবার কাছেই বেশি। রামগড় উপজেলা সদর হতে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে হাফছড়ি ইউনিয়নের বড়পিলাক এলাকায় ১৫ একর টিলা ভূমিতে তিনি আম বাগান গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তার বাগানে দুই-আড়াই হাজারটি ফলন্ত আম গাছ আছে। আম বাগানের মাঝেই তার বসতবাড়ি। ৬৮ বছর বয়সী আসাদ গাজী জানান, এবছর প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ফলন হয়েছে। প্রতিটি আম্রপালি গাছে গড়ে ৬০ কেজির মত আম ধরেছে। অন্যান্য জাতের আমের ফলনও প্রায় সমান। এরই মধ্যে রূপালি ও আম্রপালি তোলা শুরু হয়েছে। খুচরা ৫০-৬০ টাকা এবং পাইকারি ৪০-৪৫ টাকা কেজি দরে আম বিক্রি করছেন। আসাদ গাজী বলেন, এবছর ১২-১৫ লাখ টাকার আম বিক্রির আশা করছেন। আসাদ গাজী বলেন, ১৯৯৮ সালে তিনি প্রথমে এক একর জায়গায় আমের চারা রোপণ করে বাগান করা শুরু করেন। সেসময় রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে তিনি বিভিন্ন জাতের আমের চারা কিনে আনেন। এসব আম গাছে ভাল ফলন পেয়ে পরবর্তীতে বনজঙ্গলে পরিপূর্ণ অনাবাদি জায়গা কিনে ধাপে ধাপে প্রায় ১৫ একর টিলায় আম বাগান গড়ে তোলেন। প্রতি বছরই তিনি বাগান সম্প্রসারণ করছিল। বাজারে আসল জাতের আমের চারা পাওয়া যায়না বলে তিনি নিজেই বড় নার্সারি গড়ে তুলেছেন।