সাগর পথে মালয়েশিয়া যাত্রায় বাড়ছে মৃত্যু ও বন্দী সংখ্যা

টেকনাফ উপকূল দিয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাত্রা অব্যাহত রয়েছে। এতে সাগরে অনেকের মৃত্যু ঘটেছে। হাজার হাজার লোক মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও শ্রীলংকার কারাগারে বন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। গত দুইদিনে টেকনাফ ও উখিয়ায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নোয়াখালী, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী ও সিরাজগঞ্জ জেলার ৬০ মালয়েশিয়াগামীকে আটক করে প্রশাসন। পাচার চক্র সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েক বছর ধরে তারা সহজ সরল লোকদের প্রলোভন দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে সাগরে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। পাচারকারী চক্র টেকনাফ উপকূলীয় এলাকাকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করে মালয়েশিয়া পাচার অব্যাহত রাখে। এই চক্র রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলার লোকজনকে টার্গেট করে পাচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। গত ৪ জুন দমদমিয়া বিজিবির দুই মাইক্রো ও ৩ দালালসহ ঢাকা নারায়ণগঞ্জের ২০ জনকে আটক করে। এতে কক্সবাজারের ফজল আলীর ছেলে তাজুল ইসলাম (৩৫), উখিয়া পালংখালীর আব্দুল হামিদের ছেলে জসিম উদ্দিন (২০), টেকনাফ কাঞ্জর পাড়ার হাবিবুল হকের ছেলে জিয়াবুল ইসলাম (২৭)কে দালাল হিসাবে এবং পাচারে জড়িত আরো ৬ জনকে পলাতক আসামি করে মানব পাচার আইনে মামলা করে বিজিবি। এছাড়া গত ৫ জুন কক্সবাজার গোয়েন্দা পুলিশ সাগরপথে মালয়েশিয়া যেতে টেকনাফ আসার পথে উখিয়া বালুখালী এলাকা থেকে ৪০ জনকে আটক করে। এরা নোয়াখালী, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও সিরাজগঞ্জ জেলার বাসিন্দা। এ পথে মালয়েশিয়া যাবার চেষ্টাকালে ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ, যশোর, বগুড়া, খুলনা, নোয়াখালী, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী ও সিরাজগঞ্জ জেলার লোকজন আটক হয়েছে। জাহাজ যোগে মালয়েশিয়া পাঠানোর নামে প্রতারণা করে এদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় লাখ লাখ টাকা। এ ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দিদারুল ফেরদাউস জানান, অবৈধ পথে মানব পাচার চক্রের বিরুদ্ধে শ্রীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।