এক এগারোর কুশীলবরা শক্তি নিয়েই মাঠে নেমেছে :প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০১৩, ২২:৪৯
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ওয়ান ইলেভেনের (১/১১) কুশিলবরা সামরিক শাসকদের ঘাড়ে ভর করে ক্ষমতায় যেতে বেশ শক্তি নিয়েই মাঠে নেমেছে। যেসব ষড়যন্ত্রকারী মাইনাস টু ফর্মুলা দিয়েছিল তাদের ফর্মুলা ব্যর্থ হলেও ষড়যন্ত্র থেমে নেই। তারা অলস বসে নেই। তারা চাচ্ছে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার যেন পদে পদে ব্যর্থ হয়। গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পদ্ধতি তাদের মোটেও ভাল লাগে না।
গতকাল শনিবার গণভবনে শরিয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা বলেন, ওয়ান ইলেভেনে কেউ কেউ দল গঠন করার ব্যর্থ চেষ্টা করেছিলেন। আমাদের দেশে একটি শ্রেণী আছে, যাদের ক্ষমতায় যাওয়ার ইচ্ছা আছে, কিন্তু জনগণের কাছে যাওয়ার সাহস নেই, ভোটে দাঁড়ানোর ক্ষমতা নেই। তারা চান যে কোনোভাবে দেশে অস্থিতিশীলতা লেগে থাকুক। তত্ত্বাবধায়কসহ বিগত সরকারগুলো সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষকদের তত্পরতা আগামীতে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করবে সরকার। চলতি মাসের শেষের দিকে পদ্মা সেতু নির্মাণে আন্তর্জাতিক টেন্ডার (দরপত্র) আহ্বান করা হবে। আগামী নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে সরকারে আনলে এই সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করা হবে। তিনি বলেন, একটি মহলের ষড়যন্ত্রের কারণেই পদ্মা সেতু প্রকল্পে নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ বিরোধী দল ভেস্তে দিচ্ছে। সংসদে মুলতবি প্রস্তাব প্রত্যাহার করে বিএনপি গোটা জাতিকে দেখাল যে তারা আলোচনা চায় না। কিন্তু সরকারি দল চায়। তিনি বলেন, তারা প্রস্তাব দিয়ে ভেবেছিল আমরা আলোচনা করব না। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা যাবে। কিন্তু কার্য উপদেষ্টা বৈঠকে যখনই আমরা আলোচনার সিদ্ধান্ত নিলাম, তখন তারা তা প্রত্যাহার করে নিল! তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রচলিত সংসদীয় গণতন্ত্রের রীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশে আগামী দশম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। নিরবচ্ছিন্ন গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত ও সংবিধান সমুন্নত রেখে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী’ বলে যারা মন্তব্য করছেন তাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উচ্চাভিলাষ না থাকলে রাজনীতি করি কার স্বার্থে? জনগণের কল্যাণ ও উন্নয়নে আমাদের উচ্চাভিলাষ রয়েছে। আসলে কিছু কিছু ‘আঁঁতেল’ শ্রেণী আছেন, যাদের কিছুই ভালো লাগে না। সরকার যা-ই কিছু করে, তার সবকিছুর মধ্যেই খারাপ দেখেন তারা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজস্ব আদায় করেই স্বনির্ভর দেশ গড়ে তুলতে চাই। আর কত বিদেশি সাহায্য নির্ভর বাজেট দিব। নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে হবে। আমরা কি সারাজীবন পরনির্ভরশীল থাকবো? অবশ্য এটা করলে এই ‘আঁঁতেল’ শ্রেণী কনসালটেন্সি করতে পারে। কিছু চুরি করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত প্রায় ৫ হাজারের অধিক নির্বাচনের বিবরণ তুলে ধরে বলেন, একটি নির্বাচন নিয়েও কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেনি। একটি দল ক্ষমতায় থাকতে নির্বাচন যে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, তা আমরা প্রমাণ করেছি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকরকে কেন্দ্র করে আগামী দিনেও তাণ্ডবের আশঙ্কা করে দলের নেতাকর্মীদের সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর সূচনা বক্তব্যের পর তাঁর সভাপতিত্বে নেতৃবৃন্দের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু হয়। এতে জেলার সাংগঠনিক রিপোর্ট তুলে ধরেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রব মুন্সীসহ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও মহিলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলী, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ, সতীশ চন্দ্র রায়, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ড. আলাউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, বিএম মোজাম্মেল হক, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মান্নান খান, উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, কেন্দ্রীয় নেতা একেএম এনামুল হক শামিম প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন।