বাজেটে ক্ষুব্ধ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০১৩, ২২:৫৩
বাজেটে নতুন এমপিও বা জাতীয়করণের বিষয়ে কোন অর্থ বরাদ্দ না থাকায় ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীরা। তারা বলছেন, শিক্ষকদের জীবন আর্থিক কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে এমপিওভুক্তির দাবি জানিয়ে আসছেন। শিক্ষামন্ত্রীও আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু বাজেটে এর কোন প্রতিফলন নেই।
শিক্ষকরা তাদের দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে বলেন, প্রস্তাবে শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাসে আমরা বাজেট ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছিলাম। কিন্তু আমাদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। এ কারণে আন্দোলন ছাড়া বিকল্প পথ নেই বলে জানান শিক্ষকরা।
গত বৃহস্পতিবার বাজেট প্রস্তাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জন্য ১৩ হাজার ১৭৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দ করে। এই বরাদ্দের মধ্যে চাকরি জাতীয়করণ বা এমপিও খাতে বরাদ্দ রাখা হয়নি।
শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মোঃ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষকরা মানবেতন জীবনযাপন করছেন। কখনো না খেয়ে দিনযাপন করছেন। অথচ বাজেটে তাদের উন্নয়নের কোন বরাদ্দ নেই। এটা মেনে নেয়া যায় না। আমরা দীর্ঘদিন অপেক্ষা করছি। আশা ছিল, শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণ হবে । কিন্তু বাজেটে এ বিষয়ে কোন বরাদ্দ রাখা হয়নি। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করবো। এ সময়ের মধ্যে সুস্পষ্ট কোন ঘোষণা না এলে লাখ লাখ শিক্ষক ক্লাসরুম ছেড়ে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো। আন্দোলনের সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি এশারত আলী বলেন, এমপিওর দাবিতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করেছি। সর্বশেষ গত জানুয়ারি মাসে আন্দোলন করতে গিয়ে অনেক শিক্ষক আহত হয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, বাজেট পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। আমরা অপেক্ষা করলাম। কিন্তু কিছুই হলো না। ১৮ জুন গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন হয়েছে। বৈঠকের আলোকে আমরা নতুন করে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবো।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো: ইয়াদ আলী খান বলেন, ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরের বাজেটে বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের ঘোষণা নেই। দেশের ৯৫ ভাগ শিক্ষার্থীর শিক্ষাদান করেও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আজ অবহেলিত, বঞ্চিত। বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের বিভিন্ন দাবি পূরণের জন্য সরকারকে বার বার তাগাদা দিলেও সরকার কর্ণপাত করেনি। সরকার শিক্ষকদের দাবি উপেক্ষা করেই চলছে। শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল দেবার কথা বললেও আজ পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। অচিরেই শিক্ষকসমাজ সরকার ঘোষিত সকল কার্যক্রম হতে বিরত থেকে আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের দাবি আদায় করবে।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি নজরুল ইসলাম রনি বলেন, এ বাজেট শিক্ষা ও শিক্ষক-বান্ধব নয়। বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীরা দীর্ঘদিন থেকে তাদের দাবি আদায়ে আন্দোলন করে আসলেও সরকার তাদের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করছে। শিক্ষকদেরকে এমপিওভুক্তির মিথ্যা আশ্বাস দেয়া হয়েছিল। অচিরেই শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না হলে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি বাছিরউদ্দিন বলেন, শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে চাকরি জাতীয়করণ ও নন-এমপিওদের এমপিওভুক্তির দাবিতে অন্দোলন করে আসলেও সরকার তাদের ন্যায্য দাবিকে অগ্রাহ্য করেছে। এটা মেনে নেয়া যাবে না। আমরা আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছি।
উল্লেখ্য, এমপিও প্রদানের পেছনে সরকারকে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়। এ ব্যয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মোট বাজেটের ৬২ ভাগ। দেশে ২০০৪ সাল পর্যন্ত এমপিওভুক্ত স্কুলের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৪৯০টি। কলেজ ২ হাজার ৩৯৭টি, মাদ্রাসা ছিল ৭ হাজার ৩৪২টি, কারিগরি প্রতিষ্ঠান ছিল ৬৬৩টি, অন্যান্য ৪০৬টি। এর পরে দীর্ঘদিন এমপিও বন্ধ ছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও নতুন এমপিও খাতে কোন বরাদ্দ রাখা হয়নি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেড় হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ৪৯ হাজার শিক্ষক এমপিওভুক্ত হন। বর্তমানে সারাদেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে ২৭ হাজার ৩০৭টি। শিক্ষকদের দাবি, বর্তমান দেশে ৭ হাজারের বেশি নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।