গণতন্ত্র ও দেশের স্বার্থে মুলতবি প্রস্তাবটি ফের সংসদে আনুন

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সংসদের চলতি অধিবেশনে প্রত্যাহার করা বিএনপির মুলতবি প্রস্তাব আবারো সংসদে উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, গণতন্ত্রের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে আপনারা যে প্রস্তাব ফিরিয়ে নিয়েছেন তা আবার দিন। আগামী নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে সংসদে প্রাণবন্ত আলোচনা করুন। আমরা আপনাদের কোনো প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করবো না। আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আমরা কথা দিচ্ছি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে আমরা যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করব না। গতকাল শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক কর্মীদের ঐক্যের লক্ষ্যে আয়োজিত ‘ঐক্য কনভেনশন’ এ দেয়া শুভেচ্ছা বক্তব্যে সৈয়দ আশরাফ এসব কথা বলেন। বিএনপি আলোচনার পথ রুদ্ধ করে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চায় মন্তব্য করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগের বিকল্প বিএনপি নয়। গণতন্ত্র, আওয়ামী লীগ ও সরকারের বড় শত্রু এখন জামায়াত ও হেফাজতে ইসলাম। আওয়ামী লীগের বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বামপন্থী দলগুলোকে সংঘবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা যারা বামদল করছেন তারা ঐক্যবদ্ধ হন। যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করতে আপনাদের ঐক্য প্রয়োজন। আর এই ঐক্যই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের বিকল্প শক্তি হিসেবে আপনাদের গড়ে তুলবে। সৈয়দ আশরাফ বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, বিএনপি সংসদের মাধ্যমে জাতির কাছে তাদের বক্তব্য তুলে ধরবে। আমরাও সংসদের মাধ্যমে জাতির কাছে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরব। এটাই রাজনীতির সংস্কৃতি। কিন্তু কিছুক্ষণের জন্য খালেদা জিয়া সংসদে এসে তাদের মুলতবি প্রস্তাব তুলে নিলেন। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো, তারা আলোচনা চায় না। তারা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চায়। প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সমালোচনা করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, বিএনপি এতই দেউলিয়া হয়ে গেছে যে সরকারি দলের সঙ্গে রাজনৈতিক মোকাবেলায় আসতে চায় না। তাই তারা জামায়াত ও হেফাজতের কোলে আশ্রয় নিয়েছে। এটা দেশের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ ঘটনা। আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিএনপির সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, আগে বিরোধী দল বাজেটবিরোধী মিছিল করতো। বর্তমান বিএনপি তা না করে একটি দায়সারা সাংবাদিক সম্মেলন করে দায়িত্ব শেষ করেছে। বিএনপির বাজেট প্রতিক্রিয়ার সমালোচনায় আশরাফ আরো বলেন, বাজেট প্রতিক্রিয়ায় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সাহেব বাজেট বিশ্লেষণে গেলেন না তিনি ছোট একটি কথা বললেন বিগ বিউটিফুল বেলুন। প্রধান বিরোধী দলের কাছে জনগণ এ ধরনের বক্তব্য আশা করেনি। আমরা আশা করেছিলাম বিরোধী দল বাজেটকে বিশ্লেষণ করবেন। বাজেটের যে সকল প্রস্তাব জনবান্ধব সে প্রস্তাবসমূহ বাস্তবায়নে সরকারকে সহযোগিতা করবেন। বাজেটে জনবিরোধী প্রস্তাব বাতিল করতে সরকারকে চাপ সৃষ্টি করবে। বাজেট নিয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির বিশ্লেষণ জনগণের কাছে খুব বেশি ‘গ্রহণযোগ্য’ হবে না উল্লেখ করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, বাজেট নিয়ে এনজিও বা অন্যান্য ফোরামের বিশ্লেষণ করার চেয়ে বিরোধী রাজনৈতিক বলয়ের ব্যাখ্যা জনগণের কাছে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য। কিন্তু রাজনৈতিক শূন্যতার কারণে এবার জনগণ সেটা পায়নি। সিপিডির বাজেট প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সিডিপির প্রধান কর্মকর্তা নন। তারপরও তিনি বাজেট নিয়ে মন্তব্য করেছেন। আমাদের সন্দেহ হয় এটা সিপিডির না দেবপ্রিয় সাহেবের ব্যক্তিগত বাজেট প্রতিক্রিয়া। সিপিডির মতো ইনস্টিটিউটও আজকে দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। একটি রাজনৈতিক সরকারের বিরোধী একটি এনজিও হতে পারেন না। বুদ্ধিজীবীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কিছু সংখ্যক তথাকথিত বুদ্ধিজীবী টেলিভিশনে টকশোতে আসেন। তুলা উত্পাদন ব্যাহত, অকাল বন্যার কারণ, বাজেট ইত্যাদি সব বিষয়ে তারা পণ্ডিত। পৃথিবীর সকল বিষয় ও ডিসিপ্লিনে তারা পণ্ডিত। এরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায় না, নির্বাচন চায় না। এরা চায় কিছু দিনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হতে। যারা টকশোতে গিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রস্তাব উত্থাপন করেন তারা গণতন্ত্র চায় না। তারা পাকিস্তানি সামরিক শাসকদের দাস ছিলেন। তাদের দিয়ে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকতে পারে না। সম্মেলনের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, অতীতের মুখ চেনা শক্তি জামায়াত-বিএনপি ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তারা ক্রমেই হিংস্র হয়ে উঠছে। ওরা দেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে চায়। ওদের হাত থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে আমাদের ঐকবদ্ধ হতে হবে। রাশেদ খান মেনন বলেন, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ধারাকে আরো শক্তিশালী করে বাহাত্তরের সংবিধানে পুরোপুরি ফিরে যেতে হবে। তিনি বলেন, আমরা ঐকবদ্ধ হতে না পারলে মৌলবাদী জঙ্গিবাদীদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা যাবে না। শরিফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া জামায়াত-হেফাজতে ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে সাংবিধানিক ধারা ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র করছে। এদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাম প্রগতিশীল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে সরকারে এবং বিরোধী দলে থাকতে হবে। সে লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের বিকল্প হিসেবে বাম প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকবদ্ধ হতে হবে।