ছাতকের ইংলিশ টিলা ধসে পড়ার আশংকা

ছাতক পৌর শহরের বাগবাড়ি গ্রামের সুউচ্চ টিলায় জর্জ ইংলিশের সমাধিস্থল। এ সমাধিস্থলটি ইতিহাসে এক পুরনো স্মৃতি। ১৮৫৭ সালে শহরের বাগবাড়ি এলাকার সাহেব টিলায় স্বামী জর্জ ইংলিশের স্মৃতি রক্ষার্থে স্ত্রী হেনরি ইংলিশ একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেন। যা ইংলিশ টিলার সাহেব মিনার নামে পরিচিত। স্মৃতি সৌধ নির্মাণের পর থেকে এটি একটি দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়। টিলা ও সাহেব মিনার দেখতে দূর-দূরান্তের দর্শনার্থীরা এখানে ভীড় জমাতেন। কালক্রমে হেনরি ইংলিশ স্বদেশে চলে গেলে স্মৃতিসৌধসহ এ টিলাটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এক পর্যায়ে সাহেব টিলার ১.৯২ একর ভূমি দীর্ঘমেয়াদী বন্দোবস্ত গ্রহণ করেন বাগবাড়ি গ্রামের মরহুম আবুল মহসিন বট মিয়া। বন্দোবস্ত গ্রহণের পর বন্দোবস্তের শর্ত ভঙ্গ করে টিলার মাটি কাটা শুরু হয় এবং ০.৬০ একর ভূমি বক্তার বেগম নামক এক মহিলার কাছে বিক্রি করা হয়। এতে গ্রামের মনির উদ্দিন বাদি হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘদিন মামলা পরিচালনার পর সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ২০০৩ সালে টিলাটি সরকারি সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে বন্দোবস্ত বাতিলের আদেশ দেন। এরপর ভূমি আপিল বোর্ডে রিভিউ মামলা হয়। এ মামলায়ও টিলাটি সরকারের সম্পদ হিসেবে রায় দেয়া হয়। কিন্তু টিলার আশপাশের দখলদাররা এখনো দখল ছেড়ে যায়নি। টিলার চারপাশে সরকারি সম্পদ দখল করে অবৈধভাবে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে অর্ধশতাধিক পরিবার। টিলার চারপাশের মাটি বিক্রি করার ফলে সাহেব মিনারও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যেকোন মুহূর্তে টিলা ও মিনারটি ধসে মারাত্মক ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা করছেন স্থানীয়রা। সরকারি এ টিলাটি কেউ রক্ষণাবেক্ষণ করছে না। টিলার অধিকাংশ ভূমি দখল করে নেয়া হয়েছে। ২০০৩ সালে তত্কালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান নোটিস দিয়ে ও মাইকিং করে টিলার পাশে বসবাসকারীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও কাজ হয়নি।