চট্টগ্রাম কর অঞ্চলের নিয়োগ পরীক্ষা
প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৩, ২১:৩৮
দেশের রাজস্ব খাতকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর অঞ্চলগুলোতে জনবল নিয়োগসহ বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা, রাজশাহী, বরিশাল ও কুমিল্লা কর অঞ্চলে এমসিকিউ পদ্ধতিতে নিয়োগ পরীক্ষা হয়েছিল। যারা এমসিকিউতে বেশি নম্বর পেয়েছে তাদেরকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। কিন্তু চট্টগ্রাম কর অঞ্চলের ২, ৩, ৪ নম্বর শাখার এমসিকিউ পদ্ধতিতে হলেও ভালো জিপিএধারী এবং নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রিধারীদের অনেকের কাছে পরীক্ষার প্রবেশপত্র পাঠানো হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ২, ৩, ৪ নম্বর শাখার মতো শুরুতে কাউকে বাদ দেননি চট্টগ্রাম করঅঞ্চল-১ কর্তৃপক্ষ। বরং মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দানের লক্ষ্যে এমসিকিউ পদ্ধতিতে ৫০ নম্বরের বাছাই পরীক্ষা নেওয়া হয়। লিখিত পরীক্ষা ১৭-৫-২০১৩ তারিখে গ্রহণের কথা থাকলেও নেওয়া হয় ৩১-৫-২০১৩ তারিখে। ২২ মে এমসিকিউতে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কাছে একটি নোটিস প্রেরণ করা হয়, যাতে লেখা ছিল বাংলা ৩০, ইংরেজি ৩০, গণিত ২০, সাধারণ জ্ঞান বিষয় থেকে ২০ নম্বরের প্রশ্ন করা হবে।
কিন্তু পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্ন দেখে মনে হলো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নয় বরং অঘোষিত রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। ১০০ নম্বরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ৮০ নম্বরের রচনা লেখার রীতি বাংলাদেশের নিয়োগ পরীক্ষার ইতিহাসে অভূতপূর্ব বলা চলে। শুধু তাই নয়, সাধারণ জ্ঞানকে রচনা আকারে পরীক্ষা নেওয়ার নজিরও চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-১ সৃষ্টি করেছে। পিএসসির অধীনে সাব রেজিস্ট্রার, শিক্ষা অফিসারসহ অন্যান্য পদে ২০০ নম্বরের মধ্যে সর্বোচ্চ ২০ নম্বর থাকে রচনা লেখার জন্য। অন্যদিকে সমবায় ও রেলওয়ের ১০০ নম্বরের পরীক্ষার মধ্যে রচনা ১০ নম্বর বাকিটা ছোট ছোট প্রশ্ন করা হয়। যাতে উত্তর সঠিক হলে পূর্ণ নম্বর আর ভুল হলে কোনো নম্বর পাওয়া যায় না। খুলনা কর অঞ্চল এই পদ্ধতি অনুসরণ করেছে। পরিশেষে চট্টগ্রাম কর অঞ্চল মৌখিক পরীক্ষাসহ নিয়োগের পরবর্তী ধাপগুলোতে স্বচ্ছতা ও নিয়মতান্ত্রিকতার প্রতি গুরুত্ব দেবে বলে আশা করি।
মো. হামিদ খান,
শিক্ষার্থী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা ১১০০