অবসর চিন্তা উড়িয়ে দিলেন সেরেনা

সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে ফ্রেঞ্চ ওপেন জয়ের পরও অবসরের চিন্তা মাথায় আনছেন না সেরেনা উইলিয়ামস। বছরের দ্বিতীয় গ্র্যান্ড স্ল্যামটির ফাইনালে গতবারের চ্যাম্পিয়ন মারিয়া শারাপোভাকে হারিয়ে ১১ বছর পর রোলা গ্যারোতে নিজের দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের পর সেরেনা একথা বলেন। অগ্রজ ভেনাস উইলিয়ামসকে হারিয়ে ২০০২ সালে সেরেনা যখন প্রথমবার ফ্রেঞ্চ ওপেন জেতেন সেসময় তার বয়স মাত্র ২০। এরপর গত এগার বছরে জিতেছেন আরো ১৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম। গত বছর পূর্ণ করেছেন ক্যারিয়ার গোল্ডেন স্ল্যামও (চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম এবং অলিম্পিক স্বর্ণপদক)। কিন্তু রোলা গ্যারোতে দ্বিতীয় শিরোপাটি বার বারই হাত ফসকে যাচ্ছিল। তবে পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র ২৯টি গেম খোয়ানো সেরেনা এবার আর ভুল করলেন না। আগের আসরের চ্যাম্পিয়ন শারাপোভাকে ৬-৪, ৬-৪ গেমে হারিয়ে ভুললেন গত বছর প্রথম রাউন্ডে বিদায় নেয়ার হতাশা। শিরোপার সঙ্গে সেরেনার সঙ্গী হলো রেকর্ডও। ক্রিস এভার্টকে টপকে ওপেন যুগে সেরেনাই এখন ফ্রেঞ্চ ওপেনের সবচেয়ে বেশি বয়সী চ্যাম্পিয়ন (৩১ বছর ২৫৬ দিন)। বয়স হয়ে গেছে প্রায় ৩২। রেকর্ডের পাশাপাশি তাই স্বাভাবিকভাবেই চলে আসছে তার অবসরের বিষয়টাও। তবে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে সেরেনার ফর্মও ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। টানা ৩১ ম্যাচ ধরে অপরাজিত সেরেনা সম্ভবত তার ক্যারিয়ারের সেরা সময়টাই পার করছেন। রূপালি পর্দার বিখ্যাত অভিনেত্রী গ্রেটা গার্বোর পথ ধরে সেরেনা ফর্মের তুঙ্গে থেকেই বিদায় নিতে চান কিনা সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করেছেন সেই প্রশ্নও। সেরেনার জবাবটাও ছিল দুর্দান্ত। তিনি বলেন, ‘কি অদ্ভুত তুলনা, আমি এবং গ্রেটা গার্বো। আমি অবশ্যই ফর্মের তুঙ্গে থেকে বিদায় নিতে চাই। এটাই আমার লক্ষ্য। তবে আমি সেরা ফর্মে আছি সেটা কিভাবে বুঝলেন?’ বয়সকে শুধু একটি সংখ্যা ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে নারাজ সেরেনা আরো বলেন,‘আমি সত্যিই বিশ্বাস করি, বয়সটা সংখ্যা ছাড়া আর কিছু না। কারণ, শারীরিকভাবে এতটা ভালো আমি কখনো বোধ করিনি। আমি ভালো বোধ করছি এবং আমাকে দেখতেও ভালো লাগছে।’ হলিউডের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অভিনেত্রী হিসেবে স্বীকৃত গার্বো মাত্র ৩৫ বছর বয়সে বিদায় জানান হলিউডের আলো ঝলমলে জগেক। মুখের কথার মতো গত শনিবারের ফাইনালেও সেরেনা ছিলেন দুর্দান্ত। তীব্র গতির যেই সার্ভগুলোতে শারাপোভাকে এলোমেলো করে দিয়েছিলেন, ম্যাচ শেষে সেরেনা কথা বললেন সে বিষয়েও। তিনি বলেন,‘আমার মনে হয় ভেনাসের সাথে বড় হওয়ার সময়টাতেই এই ব্যাপারটা ঘটেছে। সে খুবই জোরে সার্ভ করতো। তাকে দেখে আমারও ইচ্ছে হতো ওরকমটা করার। আর (আজকের ম্যাচে) আমার গ্রাউন্ডস্ট্রোকগুলো ঠিকভাবে হচ্ছিল না। তখন আমি নিজেকে বললাম, সেরেনা তোমার একমাত্র পথ হচ্ছে এইচ মারা।’ বোঝাই যাচ্ছে বয়সকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে কোর্টে থাকাটাই বেশি উপভোগ করছেন সেরেনা। আর সেটা স্বীকারও করলেন হাসিমুখেই,‘আমি আসলেই খুব ভাল আছি। যতক্ষণ সেখানে (কোর্টে) থাকি তার প্রতিটি মুহূর্তই আমি উপভোগ করি। আমার সবসময়ই মনে হয়, আমার সেরা খেলাটা সবসময়ই সামনে পড়ে আছে।’ এভার্ট এবং নাভ্রাতিলোভার ১৮ গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা থেকে মাত্র দুই ধাপ পিছিয়ে থাকা সেরেনা প্রতিদিনই চান নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে। নিজের লক্ষ্যের কথা জানিয়ে তিনি আরো বলেন,‘আমি সবসময়ই বলে এসেছি, আমার বিশ্বাস আমি প্রতিনিয়তই উন্নতি করতে পারবো। তাই আমার সবসময়ই লক্ষ্য থাকে ঐ পর্যায়ে নিজেকে নিয়ে যাওয়ার। হয়তো সেই চেষ্টাই আমি করে যাবো।’ এএফপি/ টেলিগ্রাফ