সিলেট সিটি নির্বাচনে গুরুত্ব পাচ্ছে ‘জলাবদ্ধতা’ ইস্যু

সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নগরীর পুরানো সমস্যা ‘জলাবদ্ধতা’ ইস্যুটি বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। বৃষ্টি হলেই মেয়র প্রার্থী কামরান-আরিফের বিতর্কে তীব্রতা পায় জলাবদ্ধতা নিয়ে। একজন বলেন, আন্তরিকতার অভাবে এ সমস্যার সমাধান হয়নি। আরেকজন বলেন, এখন জলাবদ্ধতা আগের চেয়ে অনেক কম। এর সমাধানে অনেক কাজ হয়েছে। টেলিভিশন প্রতীকধারী ১৪ দলের মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বর্তমানে ভরা বৃষ্টির মৌসুমকে কাজে লাগানোর চেষ্টায় আছেন। তিনি জলাবদ্ধ এলাকায় গিয়ে ভোটারদের বলছেন নগরীতে ৯টি ‘ছড়া’, অসংখ্য খাল ও প্রবাহমান একটি নদী থাকতে এই শহরে জলাবদ্ধতা থাকতে পারে না। এটা আন্তরিকতার অভাব। তিনি তার টেলিভিশন প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করে বলেছেন, নির্বাচিত হলে তিনি ছড়া-খালকে লেকে পরিণত করে নগরীকে প্রথমেই জলাবদ্ধতামুক্ত ও নাগরিক সুবিধা সম্বলিত একটি উন্নত নগরীতে পরিণত করবো। আরিফুল হক নগরীর পুঞ্জিভূত সমস্যাগুলো তুলে ধরে এগুলোর সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। অপরদিকে ১৮ দলের মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান বিভিন্ন স্থানে জনসংযোগকালে নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা সম্পর্কে বলছেন, আগে বৃষ্টি হলে বৃষ্টির পানি স্থায়ী লাভ করতো। এখন কয়েক ঘন্টার মধ্যে নেমে যায়। আর তা সম্ভব হয়েছে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ছড়া’, খাল সংস্কারের ফলে। তিনি সিলেটে ৫শ কোটি টাকার কাজ করেছেন বলে দাবি করেন। কামরান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এবং মাষ্টার প্ল্যানের মাধ্যমে মডেল নগরী গড়তে ভোটারদের নিকট আনারস প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করছেন। একই সঙ্গে ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীতে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পের কাজ চলছে বলেও উল্লেখ করেন। এদিকে জলাবদ্ধতার মধ্যেও গতকাল রবিবার শিবগঞ্জ, রায়নগর, দর্জিবন্দ, চারাদিঘীর পার, তেররতন, ধোপাদীঘির পার, হাওয়াপাড়া, তাঁতিপাড়া, চৌহাট্টা, কুমারপাড়া, মহলে আবদুল্লা, মানিক পীর রোড, চন্দন টুলা, আম্বরখানা, কাজীরবাজার এলাকায় গণসংযোগ করেন ১৮ দলের মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। জনসংযোগকালে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মুবিন চৌধুরী (বীর বিক্রম), এডভোকেট ফজলুর রহমান, সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া, সাবেক সিলেট পৌরসভার চেয়ারম্যান আ ফ ম কামাল, অধ্যাপক ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল, ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এম এ কাইয়ুম, কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসভাপতি তাজুল করিম, ঢাকা মহানগর যুবদলের সাধারণ সমপাদক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে গতকাল নগরীর সুবিদবাজার, বন কলাপাড়া, নূরানী আবাসিক এলাকা, হাজীপাড়া, দাঁড়িয়াপাড়া ও মির্জাজাঙ্গাল, জিন্দাবাজারে আল-হামরা শপিং সিটি, সিটি সেন্টার, ফেডারেল ট্রেড সেন্টার, কাজী ম্যানশন, কাকলী শপিং সিটি, লতিফ সেন্টারসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন ১৪ দল সমর্থিত নাগরিক কমিটির মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। গণসংযোগকালে কামরান বলেন, তিনি পুনরায় নির্বাচিত হলে মাস্টারপ্ল্যান দ্রুত বাস্তবায়ন করে পরিকল্পিত নগরী গড়ে তোলা হবে। এ সময় তার সঙ্গে সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, ব্যবসায়ী নেতা আলহাজ্ব তুরণ মিয়া, অ্যাডভোকেট রাধিকা রঞ্জন হোম চৌধুরীসহ ১৪ দলের নেতাকর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সিসিকের ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ডের ১৩৮ জন ও নয়টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ৩৪ জন কাউন্সিলর প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা গতকাল গণসংযোগ করেন। তারা নিজ নিজ ওয়ার্ডের উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। শতাধিক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে আরিফের পক্ষে জনসংযোগ ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত মেয়র পদপ্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর টেলিভিশন মার্কার সমর্থনে সিলেট বিভাগের শতাধিক উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়র, ভাইস চেয়ারম্যান ও ইউপি চেয়ারম্যানগণ রবিবার নগরীর আম্বরখানা, দরগা গেইট, চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার, কোর্ট পয়েন্ট, বন্দর পয়েন্ট, সুরমা পয়েন্ট, লালদিঘীরপাড় এলাকায় গণসংযোগ করেন। নগরীর শ্যামলী কমিউনিটি সেন্টারে গতকাল চেয়ারম্যানদের সমন্বয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছাতক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী মিজানের সভাপতিত্বে ও জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জয়নাল আবেদীনের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জি কে গউছ, কানাইঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, গোয়াইনঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল হেকিম চৌধুরী, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ আল হোসাইন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ, দোয়ারা বাজার উপজেলা চেয়ারম্যান ডাঃ মোঃ আব্দুল কুদ্দুস, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শহিদুর রহমান রোমান, জৈন্তাপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মুহিবুল হক মুহিব, গোয়াইনঘাট উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান খোদেজা রহিম কলি, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মদিনা আক্তার, তাজপুর ইউপি চেয়ারম্যান এমরান রব্বানী, নিজপাট জৈন্তাপুর ইউপির চেয়ারম্যান এম এ মালিক মানিক, আলী নগর ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ মামুন, ফুলবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল হাসান সাহান, বাদেপাশা ইউপি চেয়ারম্যান রেহান উদ্দিন রায়হান, নন্দির গাও ইউপি চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ শাহিন, চিকনাগুল ইউপি চেয়ারম্যান এবি এম জাকারিয়া, মাইজগাও ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাসিত, টুকের বাজার ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস শহিদ, লেংঙ্গুরা ইউপি চেয়ারম্যান লুত্ফুল হক খোকন, জৈন্তাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসাইন, রুস্তমপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম প্রমুখ।