বাজেট পর্যালোচনায় ড. আকবর আলী খান
নির্বাচনী বছরে বাজেটের টাকা ব্যয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ
প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৩, ২২:১২
বাজেটের টাকা যাতে নির্বাচনের পেছনে ব্যয় না হয় সেজন্য নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান। তিনি বলেছেন, আগামী অর্থ বছর নির্বাচনের বছর। এই বছরে বাজেটের টাকা যাতে নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করা না হয় সে জন্য নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় বিধি নিষেধ জারি করতে পারে। এছাড়া নির্বাচনে ব্যয়ের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা থাকা উচিত বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।
গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে প্রস্তাবিত বাজেটের উপর এক পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সমন্বয় আয়োজিত পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির এমেরিটাস ফেলো খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। আলোচনায় অংশ নেন সমুন্নয়ের গবেষণা তত্ত্ব্বাবধায়ক দিলরুবা ইয়াসমিন চৌধুরী ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টান্যাশনাল এন্ড স্ট্রাটেজিক স্ট্যাডিজের (বিজ) সিনিয়র রিসার্স ফেলো ড. মাহফুজ কবির।
খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, বাজেটে সাত দশমিক দুই শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তা বাস্তবসম্মত, তবে এটা অর্জন করা কঠিন। আগামী বছর যদি রাজনৈতিক অস্থিরতা কম থাকে, ব্যবসায়ীরা ঠিকমত ব্যবসা করতে পারে এবং সরকার যদি সহায়তা দেয় তাহলে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। এছাড়া প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় আমাদের প্রবৃদ্ধির হারও ভাল হওয়াকে তিনি ইতিবাচক বলেছেন। বাজেট শিল্পায়নের জন্য কতটা সহায়ক এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সঙ্কট ও সম্ভাবনা একই সঙ্গে অবস্থান করছে। তবে শিল্পায়নের বিষয়টি নির্ভর করছে উপযুক্ত বিনিয়োগ পরিবেশের উপর।
কালো টাকা সাদা করা বিষয়ে তিনি বলেন, সব সরকারই এই সুযোগ দিয়ে আসছেন। এর পেছনে যুক্তি প্রচুর পরিমাণ কালো টাকা মূল ধারায় আসবে। কিন্তু কালো টাকা খুব বেশি সাদা হচ্ছে না। মনে হয়, একটি শক্তিশালী চক্র এর পেছনে কাজ করছে। তিনি বলেন, এ সুযোগ যদি দিতেই হয় তাহলে শুধুমাত্র নির্ধারিত একটি খাতে নয় জনগণের কল্যাণ ও সামাজিক উন্নয়ন যেমন, হাসপাতাল ও শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যয়ের সুযোগ থাকা উচিত। এছাড়া ট্যাক্স দিয়ে শিল্প প্রতিষ্ঠানেও এটা ব্যয়ের সুযোগ থাকা দরকার।