ঝুলে গেছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট গঠন প্রক্রিয়া

ঝুলে আছে ‘ন্যাশনাল পুলিশ ব্যুরো অব কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট’ গঠন প্রক্রিয়া। জঙ্গি ও চরমপন্থি দমনের লক্ষ্যে গত বছরের শুরুতে বিশেষায়িত এ ইউনিট গঠনের কাজ শুরু করা হয়। অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় তখনই সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে একটি চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা হয়। ২০১১ সালের ২৩ আগস্ট পুলিশ সদর দফতর থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হলেও চলতি বছরের বাজেটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ ধরনের ইউনিট গঠনের কোন নির্দেশনা নেই। এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) একেএম শহীদুল হক বলেন, এই ইউনিট গঠনের প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর জঙ্গি ও চরমপন্থি কার্যক্রম দমনের জন্য পুলিশের কোন বিশেষ ইউনিট গঠন করা যায় কিনা এ সংক্রান্ত গবেষণা হয়। ২০১১ সালের এপ্রিলে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশনের এক সেমিনারে অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম শহীদুল হক জঙ্গি ও চরমপন্থি দমনে ‘ন্যাশনাল পুলিশ ব্যুরো অব কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট’ নামে পৃথক একটি ইউনিট চালু করার প্রস্তাব করেন। পরে এ বিষয়টি পুলিশ সদর দফতরের প্ল্যানিং এ্যান্ড রিসার্চ (পরিকল্পনা ও গবেষণা) শাখা গবেষণা করে ২০১১ সালের ২৩ আগস্ট একটি নতুন ইউনিট গঠনের প্রস্তাব পাঠায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের সভাপতিত্বে পুলিশ বিভাগে জনবল নিয়োগ সংক্রান্ত একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইজিপি এবং স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। এই সভায় ‘ন্যাশনাল পুলিশ ব্যুরো অব কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট’ গঠনের একটি সুুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করা হয়। ঐ রূপরেখায় বলা হয়, একজন অতিরিক্ত আইজিপি ( গ্রেড-১), ২ জন অতিরিক্ত আইজিপি (গ্রেড-২), ৮ জন ডিআইজি, ১৫ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, ৩০ জন এসপি, ৩০ জন অতিরিক্ত এসপি এবং ৪ জন এএসপিসহ ৯শ’ ৮২ জন পুলিশ সদস্য নিয়ে গঠন করা হবে ন্যাশনাল পুলিশ ব্যুরো অব কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। ঢাকায় স্থাপিত সদর দফতর থেকে সারাদেশে এই ইউনিটটি শুধুমাত্র জঙ্গি ও চরমপন্থি কার্যক্রম দমনে কাজ করবে। গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমীতে পুলিশের ২৯তম বিসিএসের এএসপিদের প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ন্যাশনাল পুলিশ ব্যুরো অব কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট’ গঠনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে বলে ঘোষণা দেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে সমপ্রতি পুলিশ সদর দফতরে ‘ন্যাশনাল পুলিশ ব্যুরো অব কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট’ গঠনের কার্যক্রম সার্বক্ষণিক তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ রক্ষার জন্য একজন ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে নিযুক্ত করা হয়েছে। অথচ প্রস্তাবিত বাজেটে এ ব্যাপারে কোন দিকনির্দেশনা নেই।