ঠিকাদারদের বকেয়া বিলের দাবিতে কুমিল্লা সওজ’র প্রধান ফটকে তালা
প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৩, ২২:৪৫
বকেয়া বিল পরিশোধের দাবিতে সড়ক ও জনপথ (সওজ) কুমিল্লা জোন কার্যালয়ের প্রধান ফটকসহ ৩ প্রকৌশলীর অফিসকক্ষে ক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা তালা লাগিয়ে দিয়েছে। নগরীর শাকতলা এলাকার সওজ কার্যালয়ে গতকাল রবিবার এ ঘটনা ঘটে। আগামী চারদিনের মধ্যে বকেয়া বিল পরিশোধ করা না হলে ঠিকাদাররা আরো কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সওজ কুমিল্লা জোনের আওতায় কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ‘জরুরি পুনর্বাসন’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে ১১টি প্রকল্পে মোট ৪৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকার কাজ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা সম্পন্ন করে। এর মধ্যে তাদেরকে ৩৯ কোটি ৫০ লাখ টাকার বিল পরিশোধ করা হয়। বাকি ৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা দীর্ঘদিন বকেয়া রয়েছে। ওই বকেয়া বিল পরিশোধ করতে ঠিকাদাররা দীর্ঘ দিন ধরে সওজ’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিকট মৌখিকভাবে আবেদন করে আসছিলেন। বিল না পেয়ে ঠিকাদাররা ক্ষুব্ধ হয়ে গতকাল সকাল ১০টার দিকে ৭টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আগামী ৪ দিনের মধ্যে বিল পরিশোধ করার জন্য দাবি জানিয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর নিকট আবেদন দাখিল করেন। একই দাবিতে ক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা গতকাল সকাল ১১টার দিকে সওজ কার্যালয়ের প্রধান ফটকসহ সবগুলো ফটকে এবং ৩ প্রকৌশলীর অফিসকক্ষে তালা লাগিয়ে দেয়। এ সময় নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুর রহিম তার কার্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। সওজ’র প্রধান ফটকে গতকাল সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত তালা ঝুলছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। তবে ছোট একটি গেট (পকেট গেট) দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে আসা-যাওয়া করতে দেখা গেছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম বলেন, আমি গতকাল ১টা পর্যন্ত অফিসে ছিলাম। তবে তালা লাগানোর মতো কোন ঘটনা ঘটেনি। ঠিকাদাররা আপনার অফিস কক্ষে গতকাল সকাল ১১টায় তালা লাগাচ্ছে এমন ছবিও রয়েছে এমন প্রশ্নে তিনি এ প্রতিবেদকের মোবাইল ফোনের সংযোগ কেটে দেন। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মফিজুল ইসলাম জানান, ঠিকাদারদের আবেদনের বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলীকে অবহিত করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আন্দোলনকারী মো. কবির হোসেন ভূঁইয়া, জহিরুল ইসলাম কামাল, রমিজ উদ্দিন, দেলোয়ার হোসেন বাবুল, ইসহাক মিয়া, আনিছুর রহমানসহ অন্য ঠিকাদাররা বলেন, আমরা ব্যাংক হতে ঋণ নিয়ে ও বিভিন্নভাবে ঋণগ্রস্ত হয়ে নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করেছি। এ অবস্থায় আমরা বকেয়া বিলের জন্য আবেদন করেও কোন সাড়া না পেয়ে গতকাল সকাল ১১টার দিকে সওজ’র প্রধান ফটকসহ নির্বাহী প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর অফিসকক্ষে তালা লাগিয়ে দিয়েছি।