চট্টগ্রামে অব্যবহূত নবনির্মিত কাস্টমস অকশন শেড

জমির মালিকানা নিয়ে জটিলতা

সালাহউদ্দিন মো. রেজা, চট্টগ্রাম অফিস

কাস্টমস অকশন শেডের জমির মালিকানা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম বন্দরের ভেতরে থাকা অকশন শেড স্থানান্তর হচ্ছে না। বন্দরের ভেতরে থাকা প্রায় ৫ একর জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম কাস্টমস অকশন শেড পরিচালিত হয়ে আসছে। এ অকশন শেডে আমদানি-রফতানি পণ্যের নিলাম হয়ে থাকে। ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক চুক্তির আওতায় বন্দরের ভেতরে জেটি ও ইয়ার্ড এলাকায় থাকা অকশন শেড বাইরে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দর ভবন সন্নিকটে বন্দর স্টেডিয়ামের সম্মুখে সমপরিমাণ জমির উপর ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি অকশন শেড নির্মাণ করে। চট্টগ্রাম বন্দরের ভেতর কন্টেইনার জট কমানোসহ বন্দরে পণ্য হ্যান্ডলিং বৃদ্ধির লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে কাস্টমস অকশন শেড সরানোর চেষ্টা চালিয়ে আসছে।

এদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ নবনির্মিত অকশন শেড গত ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম কাস্টমসকে বুঝিয়ে দেয়। কিন্তু কাস্টমস অকশন শেড বুঝে পেলেও বন্দরের ভেতর থেকে তারা সম্পূর্ণরূপে সরে আসছে না। দীর্ঘদিন ধরে বন্দরের ভেতরের জায়গা খালি করে নতুন অকশন শেডে না আসায় বন্দরের পক্ষ থেকে কাস্টমসকে কয়েকবার তাগাদা দেয়া হয়। অন্যদিকে চট্টগ্রাম কাস্টমসের পক্ষ থেকে গতকাল বুধবার এবং গত ১৭ এপ্রিল পরপর দু’টি পত্রে নতুন অকশন শেডের মালিকানার দলিলপত্র বুঝিয়ে দেয়ার অনুরোধ করা হয়। চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানকে দেয়া পত্রে নবনির্মিত অকশন শেডের নিরাপত্তার জন্য ইতিপূর্বে কাস্টমসের ২০০ আনসার সদস্যের আবাসনের ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়। তাছাড়া নতুন অকশন শেডের দু’টি গুদামের অবস্থা ভালো না বলে উল্লেখ করা হয়। চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার কাজী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নবনির্মিত অকশন শেডের মালিকানার দলিল বন্দর কর্তৃপক্ষ হস্তান্তরের সঙ্গে সঙ্গে তারা বন্দরের ভেতরের দখল ছেড়ে দেবে। তিনি বলেন, বন্দরের ভেতরে থাকা বর্তমান অকশন শেডের জমির মালিক চট্টগ্রাম কাস্টমসের। কারণ এ অকশন শেডের জন্য তারা বন্দরকে কোনো ভাড়া প্রদান করেন না।

অপরদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৯৫৬ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের অধিগ্রহণকৃত পোর্ট অ্যাক্টের তৃতীয় সিডিউল অনুযায়ী কাস্টমসের পুরাতন অকশন শেডের জমির মালিক চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। কাস্টমসের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী নবনির্মিত অকশন শেডের জন্য কাস্টমস ভাড়া প্রদান করবে। তাছাড়া কাস্টমস বন্ডেড এলাকায় আনসারের আবাসন গড়ে তোলা বন্দরের দায়িত্ব নয়। জানা যায়, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে গত সপ্তাহে চট্টগ্রাম কাস্টমসকে বন্দরের ভেতরে থাকা তাদের অকশন শেড সম্পূর্ণরূপে খালি করে দেয়ার জন্য পত্র দেয়া হয়েছে। পত্রে কাস্টমসকে এক সপ্তাহের সময় দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের ডেপুটি ম্যানেজার (এস্টেট) জিল্লুর রহমান জানান, নবনির্মিত কাস্টমস অকশন শেড বুঝিয়ে দেয়ার পরও আসছে না। জানা যায়, পুরানো কাস্টমস অকশন শেড স্থানে আরো অন্তত ১০ হাজার কন্টেইনার রাখা যাবে। বন্দর বছরে প্রায় ৩ লক্ষ কন্টেইনার বেশি হ্যান্ডলিং করতে পারবে।