আদালত অবমাননার দায়ে তিন জামায়াত নেতার সাজা

আদালত অবমাননার দায়ে জামায়াতে ইসলামীর তিন নেতাকে সাজা দেয়া হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও ঢাকা মহানগর শাখার নায়েবে আমীর হামিদুর রহমান আযাদ এমপিকে তিন মাসের কারাদণ্ড ও তিন হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেকেরই আরো দুই সপ্তাহের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তাদের অনুপস্থিতিতে এই দণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া ঢাকা মহানগর শাখার সহকারী সেক্রেটারি সেলিম উদ্দিন ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করায় তাকে এক হাজার টাকা জরিমানা এবং ট্রাইব্যুনাল চলাকালীন দণ্ড প্রদান করা হয়েছে। গতকাল রবিবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়, জামায়াতের দুই নেতাকে গ্রেফতার অথবা তাদের আত্মসমর্পণের পর থেকে এ দণ্ড কার্যকর হবে। গতকাল ট্রাইব্যুনাল তার আদেশে বলে, পুলিশের প্রতিবেদনে রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আযাদকে পলাতক দেখানো হয়েছে। কিন্তু তারা জনসমক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। এমপি আযাদ সংসদেও গেছেন। তারা ট্রাইব্যুনালে হাজির না হয়ে আদালত অবমাননা করেছেন। গত ২ জুন জামায়াতের তিন নেতার আদালত অবমাননার বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ঐদিন সেলিম উদ্দিন ট্রাইব্যুনালে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে জামায়াতের অপর ২ নেতার পক্ষে কোন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। শুনানি শেষে আদালত ৯ জুন আদেশের দিন ধার্য করেন। উল্লেখ্য, ৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মতিঝিলে জামায়াতের এক সমাবেশে সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘রায়ের পর রায়, এরপর বহু প্রতিক্রিয়া আছে। বিষয়টি হালকাভাবে দেখলে চলবে না। দেশকে ‘গৃহযুদ্ধ’ থেকে বাঁচাতে হলে বিতর্কিত ট্রাইব্যুনাল থেকে রায় দেয়ার কোনো সুযোগ নাই।’ একই সমাবেশে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘স্কাইপ সংলাপের গোপন তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পর এ ট্রাইব্যুনাল আর এক মুহূর্তও চলতে পারে না।’ এছাড়া রফিকুল ইসলাম খান গত ৫ ফেব্রুয়ারি প্রেস ব্রিফিংয়ে ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে একই ধরনের বক্তব্য দেন।