মঠবাড়িয়ায় দুই ডাকাতের চোখ উত্পাটন, আহত এক ডাকাতের মৃত্যু

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় গত শনিবার রাতে এক সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি করে পালানোর সময় এলাকাবাসী তিন ডাকাতকে আটক করে গণপিটুনি দিয়েছে। এদের মধ্যে দুই ডাকাতের চোখ তুলে নিয়েছে এলাকাবাসী এবং অন্যজনকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে। এদিকে গতকাল রবিবার হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ডাকাত মোস্তফা ঘরামীর মৃত্যু হয়েছে। অন্য দুইজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। পুলিশ ডাকাতদের কাছ থেকে একটি বন্দুক ও দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার পশ্চিম মিঠাখালী গ্রামের সৌদি প্রবাসী শাহ আলম হাওলাদারের ঘরে ৮/১০ জন ডাকাত ঢুকে তার ছেলে ও স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ২১ ভরি স্বর্ণসহ প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে। পরে ডাকাতরা শাহ আলমের প্রতিবেশী মতি জমাদ্দারের বাড়িতে ডাকাতির প্রস্তুতি নেয়। এসময় জমাদ্দার বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। বাড়ির লোকজন ডাকাতদের ধাওয়া করে তিনজনকে আটক করে। ডাকাতরা পালানোর সময় তিন রাউন্ড গুলি করে। আটককৃত ডাকাত মোস্তফা ঘরামী ও নোমানের চোখ তুলে নেয় এলাকাবাসী। আর শাহজাহানকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। পুলিশ তিনজনকে উদ্ধার করে ওই রাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। চিকিত্সাধীন ডাকাত নোমান ও শাহজাহানের অবস্থার অবনতি ঘটলে গতকাল সকালে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। মঠবাড়িয়া হাসপাতালে মোস্তফার মৃত্যু হয়েছে। মঠবাড়িয়া থানার ওসি আবদুর রব খান জানান, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি অস্ত্র ও একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে এবং ডাকাতির ঘটনায় শাহ আলম হাওলাদারের ছেলে রুবেল বাদী হয়ে একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেছেন। তিনি আরো জানান, অস্ত্র ও ডাকাতি মামলায় ওই তিন ডাকাতকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। পিরোজপুর জেলা পুলিশ সুপার এসএম আক্তারুজ্জামান জানান, গ্রেফতারকৃত শাহজাহান, নোমান ও মোস্তফা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। তারা পিরোজপুর, বাগেরহাট ও বরগুনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন ডাকাতি ও দস্যুবৃত্তির সাথে জড়িত। মঠবাড়িয়া থানা সূত্রে জানা যায়, মোস্তফা ১৯৮৫ সালে একটি হত্যা মামলায় ২২ বছর সাজা খেটে ২০০৭ সালে ছাড়া পেয়ে পুনরায় ডাকাত দল তৈরি করে। শাহজাহান ও নোমানের বিরুদ্ধে মঠবাড়িয়া, ভাণ্ডারিয়া, পাথরঘাটাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক ডাকাতির মামলা রয়েছে। ডাকাত মোস্তফা নিহত হওয়ায় তার নিজ এলাকা বাদুরা গ্রামে এলাকাবাসী মিষ্টি বিতরণ করেছে।