বেসরকারী খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমেছে

বিদ্যুত্-গ্যাসের অভাব ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিনিয়োগের পরিবেশ না থাকায় বেসরকারী খাতের ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি বেশ খানিকটা কমে গেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) এ খাতে ৩২ হাজার ৩১৬ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ হয়েছে। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে বিতরণ হয়েছিলো ৪৯ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা। এবিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিপুল পরিমাণে বৈদেশিক রেমিট্যান্স আসছে। প্রবাসীদের পাঠানো এ রেমিট্যান্সের বিপরীতে টাকার বিনিময়ের ফলে দেশীয় মুদ্রা সরবরাহ এমনিতেই বেড়েছে। এ কারণে ব্যাংকগুলো বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ সীমিত রাখার চেষ্টা করছে। যদিও ব্যবসায়ীরা বলে আসছেন, ব্যাংক ঋণে উচ্চ সুদ ও প্রয়োজনীয় বিদ্যুত্-গ্যাসের অভাবে তারা নতুন বিনিয়োগে যাচ্ছেন কম। এতে করে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশ কয়েকটি মুদ্রাণীতিতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমানোর লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতির ঘোষণাপত্রে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কিছুটা বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়। আগের ১৬ শতাংশ থেকে লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ১৮ দশমিক ৩০ শতাংশ ঋণ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে চাহিদা কম থাকায় ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করতে পারছে না। বেশ কিছু ব্যাংকের কাছে বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগযোগ্য তহবিল পড়ে আছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের এপ্রিল মাস শেষে বেসরকারি খাতে মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৪০ হাজার ২১৮ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময় শেষে যা তিন লাখ ৯০ হাজার ৬৬৩ কোটি টাকা ছিলো। এতে করে ১২ মাসের গড় হিসেবে এপ্রিল শেষে ঋণ বেড়েছে ১২ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এর আগে ২০১১-১২ অর্থবছর শেষে যা ১৯ দশমিক ৭২ শতাংশ ছিলো এবং তার আগের অর্থবছর শেষে ঋণ প্রবৃদ্ধি হয়েছিলো ২৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ।