আবার ঢাকায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে আকসু!

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি গত সপ্তাহের সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, দিন সাতেকের মধ্যে আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিটের (আকসু) রিপোর্ট পেয়ে যাবেন তারা। কিন্তু সেটা এখন অসম্ভবই হয়ে পড়েছে আকসু প্রতিনিধিদের আবার ঢাকা আগমনে। গত রবিবার রাতে ঢাকা পৌঁছে আরও এক দফা জিজ্ঞাসাবাদ করছে আকসুর দু’ সদস্যের প্রতিনিধি দল। আকসু প্রতিনিধিরা এই সফরেও যে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেবেন না; সেটা বিসিবি কর্মকর্তাদের কথাতেই বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু বিসিবি কিছুতেই বলতে রাজী নয় যে, এবার আকসু ঠিক কাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তবে গোপন সূত্রের খবর বলছে যে, এই দফায় বেশ কয়েকজন তারকা খেলোয়াড় এবং বিসিবির কয়েকজন কর্মকর্ত, বিশেষ করে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের কয়েকজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে আকসু প্রতিনিধিরা। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, স্পট ফিক্সিংয়ে অভিযোগ ওঠা খালেদ মাহমুদ সুজন, খালেদ মাসুদ ও মোহাম্মদ রফিককেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে আকসু। কাল বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নিজামুদ্দিন চৌধুরী সুজন আকসুর আরও এক দফা তদন্তের স্বার্থে আসার ব্যাপারটি স্বীকার করলেও তারা কী করছে না করছে, সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারলেন না, ‘তদন্তের স্বার্থে আরো কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই দুই সদস্যের একটি আকসু প্রতিনিধি দল কাল (রবিবার) রাতে ঢাকায় এসেছেন। আমরা তাদের সাথে কথা বলিনি। তাই কাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে, এ ব্যাপারে কিছুই বলতে পারবো না।’ সেই সঙ্গে সুজনই পরিষ্কার অনুমান করলেন যে, এ সপ্তাহেও আসলে রিপোর্ট আর পাওয়া সম্ভব হবে না, ‘যেহেতু চূড়ান্ত রিপোর্টের পরিবর্তে তারা আবার তদন্তের কাজেই ঢাকা এসেছেন, তাই আমার মনে হয় এ সপ্তাহেও স্পট ফিক্সিংয়ের ব্যাপারে চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়া সম্ভব নয়।’ রিপোর্টের চেয়ে এখন ক্রিকেট অঙ্গনে প্রধান গুঞ্জন হয়ে উঠেছে, কাকে কাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে আকসু? একটা জোর গুজব ছিল সারাদিন যে, এ দফায় সাবেক অধিনায়ক ও বর্তমান নির্বাচক হাবিবুল বাশার ও সাবেক জাতীয় দল তারকা সানোয়ার হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে আকসু। কিন্তু দু’জনই এই ‘গুজব’ অস্বীকার করেছেন। ক’দিন আগে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের চেয়ারম্যান সেলিম চৌধুরী টিভিতে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে হাবিবুল বাশার সুমনের নাম উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে দাবি করলেন সুমন। কাল তিনি ইত্তেফাককে বলেন, ‘আকসু আমাকে এখন পর্যন্ত কিছুই বলেনি। তারা আমাকে ডাকেনি, ডাকবে কিনা সে ব্যাপারেও আমি কিছু জানি না।’ অস্বীকার করেছেন জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড় সানোয়ার হোসেনও। সানোয়ারের নাম আলোচনায় এনেছিলেন আরেক অভিযুক্ত তারকা মোহাম্মদ রফিক। এই ক্রিকেটারও বললেন, ‘আমি আজই লন্ডন থেকে ঢাকায় এসেছি। আকসুর জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।’ বিসিবির বিশ্বস্ত একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, আকসু ঢাকায় এসে বোর্ডের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে কথা বলেছে। এমনকি বিপিএল কর্মকর্তাদের সাথেও আকসু বৈঠকে বসেছিল বলে সূত্র জানিয়েছে। সুমন ও সানোয়ার অস্বীকার করলেও আকসু এই দুইজনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করবে বলে জানা যায়। তবে আলোচনায় এরকম অনেক নাম থাকলেও সেগুলো নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো কথা বলতে রাজী নয় বিসিবি। নিজেদের এই অবস্থানের কথা পরিষ্কার করে বললেন প্রধান নির্বাহী, ‘সন্দেহের তালিকায় অনেকের নাম থাকতে পারে। বিসিবিও সঠিক তথ্য না পেলে তাদের নাম প্রকাশ করবে না কিংবা প্রকাশ করা ঠিক হবে না।’ আকসুর ঢাকা সফরের পেছনে আরেকটি কারণ থাকতে পারে বলে ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের ধারণা। বিপিএল ছাড়াও কিছু আন্তর্জাতিক ম্যাচে স্পট ফিক্সিংয়ের গন্ধ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। সেই ম্যাচগুলোর তদন্ত করতেই আকসু এবার দুইদিনের সফরে ঢাকা এসেছেন। সে ব্যাপারেও বিসিবি নীরব। সিইও জানিয়েছেন, বিসিবির কাছে তারা এখন পর্যন্ত জানায়নি কেন তারা ঢাকায় এসেছেন। তবে আকসু চূড়ান্ত রিপোর্ট যাই দিক না কেন বিসিবির তাতে পূর্ণ আস্থা থাকবে।