নেতাকর্মীদের ঐক্যের চেষ্টায় মান্নান ও আজমত
কাজী রফিক, টঙ্গী (গাজীপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১০ জুন ২০১৩, ২১:৫৮
নবগঠিত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পূর্ব মুহূর্তে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী অধ্যাপক এম.এ মান্নান তার পক্ষে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। অধ্যাপক মান্নান দীর্ঘদিন গাজীপুরের বিএনপির রাজনীতি থেকে নির্বাসিত ছিলেন। গাজীপুরে বিএনপির নেতাকর্মীরা সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে দীর্ঘদিন তাকে পাশে পায়নি। গাজীপুর সিটি নির্বাচনে হঠাত্ বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট মনোনীত মেয়র প্রার্থী হিসেবে গাজীপুরের রাজনীতির মাঠে ভোটের লড়াইয়ে তিনি এসেছেন। তবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন থাকায় বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী হিসেবে তার পক্ষে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে অনেকটাই বেগ পেতে হচ্ছে। এতে নির্বাচনী লড়াইয়ে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছেন ১৮ দলীয় মনোনীত মেয়র প্রার্থী অধ্যাপক এম.এ মান্নান।
এদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক টঙ্গী পৌরসভার তিনবার নির্বাচিত মেয়র অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর যাবত্ টঙ্গী পৌরসভার মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জেলার অন্য এলাকার নেতাকর্মীদের সম্পর্কে তেমন খোঁজ-খবর নিতে পারেনি। এতে জেলা পর্যায়ের কিছু নেতাকর্মী তার প্রতি মান-অভিমান নিয়ে বসে আছেন। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আজমত উল্লাহ খান এসব নেতাকর্মীর মান ভাঙানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকটা সফলকামও হচ্ছেন। ১৪ দল মেয়র প্রার্থী আজমত উল্লা দলীয় নেতাকর্মীদের মান ভাঙিয়ে আট-ঘাট বেঁধে নামতে পারলে ভোটের লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে থাকবেন বলে সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন।
তাছাড়া গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-২ আসনের প্রায় অধিকাংশ এলাকা নবগঠিত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভেতর পড়েছে। এ অঞ্চলটি আওয়ামী ঘরানার বলেই সুপরিচিত। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন দলীয়ভাবে না হলেও ভোটের লড়াইয়ে প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত হওয়ায় দলীয় প্রভাব ভোটের লড়াইয়ে এসে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। নবগঠিত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকার এবারের ভোটার সংখ্যা ১০ লাখ ২৬ হাজার ৯৩৮ জন যা বিগত সংসদ নির্বাচনের সময়কার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। এতে আওয়ামী লীগপন্থি ভোটার যেমন বেড়েছে তেমনি বিএনপিপন্থি ভোটার সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এবার তাই গাজীপুর সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে জোট-মহাজোট প্রার্থীর মধ্যে ভোটের লড়াই জমে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।