মিয়ানমারে দুর্ঘটনায় পড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজের পাইলট ও যাত্রীসহ দশজন শুক্রবার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। মিয়ানমারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী জানিয়েছেন, বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে ওই দশজন ইয়াঙ্গুন থেকে দেশের পথে রওনা হবেন।
‘বিশেষ ফ্লাইটে তাদের যাত্রার প্রক্রিয়া চলছে। তাদের মধ্যে ছয় জন যাত্রী এবং দুর্ঘটনা কবলিত বিমানের চারজন ক্রু রয়েছেন।’ তবে আহত যাত্রীদের মধ্যে কারা ফিরছেন, তা জানাতে পারেননি রাষ্ট্রদূত। আহত পাইলট ও ক্রুদের আনতে শুক্রবার বিকালে ঢাকা থেকে ইয়াঙ্গুনের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে বিমানের ওই বিশেষ ফ্লাইট। বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ সে সময় বলেছিলেন, দুইজন পাইলট, দুইজন কেবিন ক্রু এবং দুইজন গ্রাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার ওই ফ্লাইটে ফিরবেন। ইয়াঙ্গুনের হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আহত যাত্রীদের মধ্যে কেউ ছাড়া পেলে এবং দেশে ফিরতে চাইলে তাদেরও নিয়ে আসা হবে।
ঢাকা থেকে ২৯ জন যাত্রী, চারজন ক্রু ও দুজন গ্রাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারসহ মোট ৩৫ জন আরোহী নিয়ে বুধবার বিকালে মিয়ানমারের পথে রওনা হয়েছিল বিমানের ফ্লাইট বিজি ০৬০। কিন্তু ইয়াঙ্গুনে নামার সময় উড়োজাহাজটি বজ ঝড়ের কবলে পড়ে এবং অবতরণের পর রানওয়ে থেকে ছিটকে যায়। বিমানের আরোহীদের সবাই ওই দুর্ঘটনায় কমবেশি আঘাত পান, মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিমানের ড্যাশ ৮-কিউ ৪০০ উড়োজাহাজটি।
আরোহীদের মধ্যে অন্তত দশজনকে বিমানবন্দরেই প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হয়। ১৮ জনকে ভর্তি করা হয় বিমানবন্দরের কাছে স্থানীয় একটি হাসপাতালে। তাদের মধ্যে চারজনকে বুধবার রাতেই হাসপাতাল থেকে রিলিজ করে দেওয়া হয়। বাকিদেরকে উন্নত চিকিত্সার জন্য একটি ক্লিনিকে ভর্তি করে বিমান কর্তৃপক্ষ।
দুর্ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে আসা ছবিতে ওই বিমানের পাইলট শামীম নজরুলকে রক্তাক্ত অবস্থায় পায়ে হেঁটে বিমান থেকে টার্মিনালে আসতে দেখা যায়। তিনিও শুক্রবার ফিরছেন বলে শাকিল মেরাজ জানিয়েছেন।