ফিলিস্তিন-ইসরায়েল শান্তি প্রক্রিয়া লইয়া যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
প্রকাশ : ১০ জুন ২০১৩, ২২:০৪
ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল যদি শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ‘‘গুরুত্ব প্রদর্শন না করে’’ তাহা হইলে প্রক্রিয়া হইতে সরিয়া দাঁড়াইতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অফ স্টেইট জন কেরি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সে সদ্য-প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা এই তথ্য জানাইয়াছেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হইতেছে যে, নির্বাচনের পূর্বে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল শান্তি প্রতিষ্ঠা করাকে দ্বিতীয় মেয়াদে অন্যতম প্রধান কাজ হিসাবে বিবেচনা করিবার ঘোষণা দিলেও, বারাক ওবামা প্রশাসন বিষয়টি লইয়া এক্ষণে সর্বোচ্চ মাত্রায় সময় বিনিয়োগে খুব একটা উত্সাহী নহে।
ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিন দায়িত্ব লওয়া হইতে এখন অবধি চারবার ইসরায়েল সফর করিয়াছেন জন কেরি। সিরিয়া ও ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুকে লইয়া সফর করিয়াছেন ২৩টি দেশ। কিন্তু জানা যাইতেছে যে, দ্বিতীয় ইস্যুটির ক্ষেত্রে অবস্থার তেমন কোন পরিবর্তন দেখা যাইতেছে না বলিয়া অন্তরালে নিরাশ হইতে শুরু করিয়াছে মার্কিন প্রশাসন। ইহা একটি লক্ষ্য করিবার মত বিষয় বটে। মার্কিন প্রশাসন মনে করিতেছে যে, শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে বিবদমান দুই পক্ষের কেহই আন্তরিক নহে। ইহাছাড়া উভয় পক্ষই স্ব-স্ব অবস্থানে অনড় থাকিয়া অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত করিতেছে বলিয়া মনে করিতেছে যুক্তরাষ্ট্র। উল্লেখ্য, ইসরায়েল কর্তৃক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করিয়া বসতি-স্থাপন অব্যাহত থাকা অবস্থাতে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করাকে অর্থহীন বলিয়া মনে করিতেছে ফিলিস্তিন। অন্যদিকে, ইসরায়েল জানাইয়া রাখিয়াছে যে, কোন ধরনের পূর্বশর্তের মধ্যে থাকিয়া শান্তি প্রক্রিয়া লইয়া অগ্রসর হইবার ব্যাপারে তাহার আপত্তি রহিয়াছে। এমতাবস্থাতেই চলিতেছে দিনের পর দিন। এইভাবে চলিতে থাকিলে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়টি এক পর্যায়ে আসিয়া আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টির আড়ালে চলিয়া যাইবার আশঙ্কা রহিয়াছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের সর্বশেষ অবস্থানের মধ্যেও তেমন এক আলামত দেখা যাইতেছে। মার্কিন প্রশাসন মনে করিতেছে যে, ফিলিস্তিন-ইসরায়েল দ্বন্দ্ব ব্যতীত ‘‘পৃথিবীতে আরো অনেক অনেক বিষয় রহিয়াছে’’। ‘‘বত্সরের পর বত্সর’’ এই বিষয় লইয়া মগ্ন হইয়া থাকার ব্যাপারে বর্তমানে মার্কিন প্রশাসন যে এক ধরনের অনীহার স্তরে আসিয়া পৌঁছিয়াছে তাহাও জানানো হইয়াছে।
এখন কথা হইতেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি হাত তুলিয়া লয় তাহা হইলে মূল ক্ষতিটা হইবে ফিলিস্তিনের; ইসরায়েলের নহে। ইসরায়েল ইচ্ছামত অবৈধ বসতি স্থাপন করিয়া যাইবে এবং ফিলিস্তিনিরা সম্ভবত কিছুই করিতে পারিবে না। এমতাবস্থাতে স্বভাবতই যুগের পর যুগ ধরিয়া ন্যায়বিচার বঞ্চিত ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ আরো বাড়িয়া যাইবে। প্রধান শক্তি যুক্তরাষ্ট্র তাহাই চাহিতেছে কি? ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে কাহার অবস্থান ন্যায়সঙ্গত সেই রায় আন্তর্জাতিক সমপ্রদায় অনেক দিন পূর্বেই দিয়া রাখিয়াছে। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করিয়া প্রলম্বিত বিবাদটি মিটাইয়া ফেলাই হইতেছে এক্ষণে প্রধান কর্তব্য। কিন্তু উক্ত কর্তব্য পালনে ব্রতী না হইয়া উভয় পক্ষকে সমানভাবে দায়ী করিয়া শান্তি প্রক্রিয়া হইতে সরিয়া যাইবার সম্ভাবনার ইঙ্গিত করিয়া যুক্তরাষ্ট্র বস্তুত ফিলিস্তিনীদের স্বার্থের বিপক্ষে দাঁড়াইয়াছে বলিয়া প্রতীয়মান হইতেছে।