[ আ ন্ত র্জা তি ক ]

গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার মহাসংকটে তুরস্ক

জুন মাস শুরু হতে না হতেই ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে এরদোগান সরকার বিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠছে তুরস্ক কি স্বৈরতন্ত্রের দিকে ধাবিত হচ্ছে? ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান ও দর্শনের অধ্যাপক সেইলা বিন হাবীব ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-এ প্রকাশিত প্রবন্ধে তুরস্কের স্বৈরতান্ত্রিক মোড় (Turky’s authoritarian turn) বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। অনেক রাজনৈতিক গবেষক মনে করেন যে, ১৯২৩ সনে কামাল পাশার নেতৃত্বে সেক্যুলার তুরস্কের প্রতিষ্ঠার পর ক্রমান্বয়ে সেক্যুলার গণতন্ত্রের মডেল নির্মাণের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও রাষ্ট্রটি সব সময়ই সামরিক এলিট ও বিচারিক প্রহরায় সৌখিন স্বৈরতান্ত্রিক গণতন্ত্রের মানসপুত্রদের নিয়ে এলিট প্রশাসনিক ব্যবস্থায় শাসিত হয়ে আসছে। তারা আরো মনে করেন যে, বর্তমানে গুল-এরদোগান সরকার সফলভাবে গণপ্রতিনিধিত্বকারী সাংবিধানিক ব্যবস্থা (Representative Constitutional Court) প্রণয়ন করে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক কাঠামোর ভিত্তিপ্রস্তর নির্মাণ করেছেন। এভাবে আধুনিক তুরস্কে গণতন্ত্র-স্বৈরতন্ত্র বিতর্ক আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এরদোগান সরকারের বিরুদ্ধে স্বৈরতন্ত্রের অভিযোগে নানা ইস্যু উত্থাপিত হচ্ছে। কয়েক মাস আগে প্রকাশ্য জনসমাগমস্থলে মদ্যপান ও মদ্য বিনোদন নিষিদ্ধ সংক্রান্ত সংসদীয় উদ্যোগ গ্রহণে সেক্যুলার, বাম ও পাশ্চাত্যানুসারীরা এরদোগান সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ উসকে দিচ্ছেন। এদের কেউ কেউ চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন যে, ‘মদ্যপান যদি পাপই হয়ে থাকে, তাহলে মদ্যপান করে আমিই এ পাপটি করতে চাই। সরকার আমাকে মদ্যপান না করতে বাধ্য করার ক্ষমতা রাখে না। কারণ, আমি মদ্যপান করা বা না করার স্বাধীনতা ভোগ করতে চাই।’ এরদোগান বিরোধী আরেকটি অভিযোগ হলো, স্বাস্থ্য বীমা সংক্রান্ত তুরস্ক সরকারের নতুন নীতি, যেখানে জাতীয় স্বাস্থ্য বীমা ব্যবস্থায় গর্ভপাতের সুবিধা সংযোজিত হয়নি। এমনকি প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়িপ এরদোগান এক জাতীয় ভাষণে বলেছেন যে, প্রত্যেক তুর্কী রমণীর উচিত কমপক্ষে তিনটি সন্তানের জননী হওয়ার গৌরব অর্জন করা। এমন নীতিকে নারীর জরায়ু ও সন্তান ধারণের স্বাধীনতা খর্ব করেছে বলে এরদোগান বিরোধীরা প্রচার করছেন। এরদোগান বিরোধী তৃতীয় অভিযোগ হলো, সংবাদপত্র, সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকের স্বাধীনতা, শিল্পকর্ম ও শিল্পীর স্বাধীনতা এবং সর্বোপরি সমাবেশ অনুষ্ঠান ও প্রতিবাদ-বিক্ষোভের স্বাধীনতা বর্তমান সরকার হরণ করছে বিভিন্নভাবে। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযান হলো এরদোগান সরকারের প্রস্তাবিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস নীতি, যেখানে রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা (Presidential system)কে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার (Parliamentary system) জায়গায় প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এরদোগান বিরোধীদের আশঙ্কা হলো যে, খুবই জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী এরদোগান পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে স্বৈরতন্ত্র, স্বেচ্ছাতন্ত্র ও ধর্মতন্ত্রের ভিত্তিতে তুরস্কে একনায়ক ব্যবস্থার প্রবর্তন করতে সক্ষম হবেন, ফলে ১৯২১ সনে প্রতিষ্ঠিত সেক্যুলার গণতন্ত্রের পুনরাবর্তনের সকল পথ রুদ্ধ হয়ে পড়বে। সেক্যুলার, বাম ও পাশ্চাত্যানুসারীদের এ সমস্ত অভিযোগ এতদিন কেবল চাপা দীর্ঘশ্বাসে আচ্ছাদিত ছিল। কিন্তু ইস্তাম্বুলের গেজী পার্ক ও তাকসিম চত্বরের আংশিক ধ্বংস করে বিপণী বিতান ও অটোমান সাম্রাজ্যের আদলে সামরিক কেন্দ্র স্থাপনে সরকারের উদ্যোগের বিরোধিতা করে ৩১শে মে থেকে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, তা এরদোগান সরকারের বিরুদ্ধে সর্ববহত্ চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছে। অতি দ্রুতভাবে বাহ্যত এ পরিবেশবাদী আন্দোলন আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুলের গণ্ডি পার হয়ে অন্য শহরে ছড়িয়ে পড়ছে এবং তুরস্কের স্বৈরতান্ত্রিক মোহনায় নতুন অধ্যায়ের অভিযোগ তুলছে। বিশাল উসমানীয় খিলাফত আফ্রো-এশিয়া ও ইউরোপ- এ তিন মহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূখন্ড নিয়ে গণমুখী, গণসুখী ও জনদরদী এক অসাধারণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রবর্তন করে। এই গণমুখী, গণসুখী ও জনদরদী শাসনে শাসক ও শাসিত, রাজা ও প্রজা, ধনী ও দরিদ্র সুবিচার, সমানাধিকার, সৌভ্রাতৃমূলক পরিবেশে বসবাস করতো, যেখানে সাম্য, মৈত্রী, বন্ধুত্ব, সুবিচার রাষ্ট্রিক জীবনের মূল বৈশিষ্ট্য হিসেবে প্রতিপালিত হতো। ১৮৯৯ সনের কতিপয় অত্যাচারী তুর্কী শাসক কর্তৃক আরবদের প্রতি নির্যাতনমূলক নীতি গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত খিলাফত ব্যবস্থার সুপ্রসাসন, সুশাসন, সুবিচার, সুষম অর্থনৈতিক বিন্যাস পৃথিবীতে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে জাজ্বল্যমান ছিল। উসমানীয় খিলাফতের শৌর্য-বীর্যে ঈর্ষান্বিত ও প্রকম্পিত ইউরোপীয় ভীরু, কাপুরুষ, স্বৈরতান্ত্রিক ধর্মতান্ত্রিক খ্রীস্টীয় যাজক রাজাগণ খিলাফত ব্যবস্থা ধ্বংসের নীল নকশা প্রণয়নে আপ্রাণ চেষ্টা করেন। প্রাক-ওয়েস্টফালীয় খ্রীস্টীয় (Pre-West Phalian) রাজা-রানিদের মত ওয়েস্টফালীয় (West phalian) জাতি-রাষ্ট্র (nation-states) এবং এর নেতৃত্বদানকারী সেক্যুলার এলিট শাসকগণ এবং আরো পরে উত্তর ওয়েস্টফালীয় ইউরোপীয় সেক্যুলার গণতন্ত্রিগণ খেলাফত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তাদের দুরভিসন্ধি অব্যাহত রাখেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ইউরোপীয়দেরকে সেই মোক্ষম সুযোগ এনে দেয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের রণাঙ্গনে মিত্রশক্তির (allied powers) বিরুদ্ধে অক্ষশক্তির (axis powers) যে বৈশ্বিক লড়াই হয় সেই লড়াইয়ে উসমানীর খিলাফত অক্ষশক্তির অন্যতম সদস্য ছিল। গোপন চুক্তির ফলে ইউরোপীয়রা আফ্রো-এশীয় আরব যুবকদের খিলাফত বিরোধিতার পুরস্কার হিসেবে তাদের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেয়। ফলে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির পরাজয়ের ফলে খিলাফত ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ে। উসমানীয় খিলাফত ছিঁড়ে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে ইউরোপীয়দের সহযোগিতা ও বন্ধুত্বে কামাল আতাতুর্কের নেতৃত্বে সেক্যুলার গণতান্ত্রিক তুরস্কের যাত্রা শুরু হয়। আধুনিক তুরস্কে তুর্কী লালটুপী, ইসলামী ধর্মীয় পোশাক, হিযাব-নিকাব নিষিদ্ধ হয়, আরবী ভাষায় আযানও নিষিদ্ধ হয়। নতুন রাষ্ট্রটি ইসলাম ধর্মের চিহ্নগুলো মুছে দিতে রাষ্ট্রীয় নীতি প্রণয়ন করে। আধুনিক তুরস্কের গণতান্ত্রিক যাত্রা বিভিন্নভাবে বিশ্লেষিত হয়েছে এবং সেই ব্যাখ্যায় তুরস্ককে একটি উন্নয়নশীল ও নিম্নগামী রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এক সময়কার বৈশ্বিক বৃহত্ শক্তিকে হার্ভার্ড বিশেষজ্ঞ হান্টিংটন (samuel P Huntington) ছিন্নভিন্ন দেশ (torn country) হিসেবে বিশ্লেষণ করেছেন। কামাল পাশার সেক্যুলার মতাদর্শ অনুসরণ করে পরবর্তীকালে আধুনিক তুরস্কের সেক্যুলার কর্ণধারগণ বিচারিক প্রশ্রয় ও সামরিক এলিটদের সমর্থনে স্বৈরতান্ত্রিক এলিট গণতন্ত্রের (authoritarion elite democracy) প্রবর্তন করেন। সেই সেক্যুলার ব্যবস্থা এত বেশি স্বৈরতান্ত্রিক ছিল যে, তা অপসারণে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এরদোগানের সংস্কার সর্বমহলে প্রশংসিত হয়। সেইলা বিন হাবীব তাঁর প্রবন্ধে পুরাতন সেক্যুলার এলিটদের অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা অপনোদন করে এরদোগান কর্তৃক জনপ্রতিনিধিত্বকারী সাংবিধানিক ব্যবস্থা (Representative Constitutional Court) প্রবর্তনের প্রক্রিয়াকে উত্তম সংস্কার (good reform) হিসেবে অভিহিত করেছেন। এরদোগান সরকার সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার সাথে চেতনাগত দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়। এরদোগানের এ সংস্কার প্রস্তাব তুরস্কের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় এক নতুন অধ্যায় সংযোজন করবে, সন্দেহ নেই। তবে এরদোগান সরকারকে নির্মোহ বিশ্লেষণে গণতান্ত্রিক চেতনা এমনভাবে সমুন্নত রাখতে হবে, যাতে ক্ষমতায় সুষ্ঠু পৃথকীকরণ (separation of powers) প্রক্রিয়া প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যাতে প্রেসিডেন্ট নিরঙ্কুশ ক্ষমতার চর্চা করে স্বৈরতন্ত্রের অভিযোগে কলঙ্কিত হতে না পারেন। তুরস্কের রাজনীতিতে ইসলাম ধর্মের প্রযোজ্যতা ঐতিহাসিক, ঐতিহ্যিক ও পরাবাস্তবিকতার (superrealism) আলোকে প্রস্ফুটিত। মূলত রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ধর্মের অন্তর্ভুক্তি বৈশ্বিক ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় প্রমাণিত, শাশ্বত ও জীবন্ত। সভ্যতার শুরু থেকে গ্রীক, রোমীয়, আসীরীয়, সুমেরীয়, ইন্দো-উপত্যকা সভ্যতা, চৈনিক সভ্যতা, মিসরীয় সভ্যতা, ব্যাবিলনীয় সভ্যতার সর্বত্র রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও ধর্মীয় নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ ধনাত্মক সম্পর্কের (strong positive relationship) উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। প্রাক ওয়েস্টফালীয় ব্যবস্থায়ও (pre-westphalian) ইউরোপসহ অন্যত্র রাজনীতি ও ধর্মের অবিভাজ্যতার ইতিহাস দেদীপ্যমান। ওয়েস্টফালীয় ব্যবস্থায় জাতি-রাষ্ট্র ও আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সেক্যুলার ধারণা জন্মলাভ করার পর মাত্র কয়েকশ’ বছরের জন্য কেবল ধর্ম ও রাজনীতির বিভাজ্যতার (separation between politics and religion) ধারণা টিকে থাকে। বিশেষত: ৯/১১ পরবর্তী বিশ্বব্যবস্থা ওয়েস্টফালীয় সেক্যুলার ব্যবস্থার প্রতি নানারূপ চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়। একবিংশ শতাব্দীর যাত্রার সাথে সাথে তাই উত্তর-ওয়েস্টফালীয় (post westphalian system) ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়, যেখানে ধর্মরাষ্ট্র, রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ নির্ণায়ক, নির্ধারক ও উপাদান হিসেবে পুনঃবিবেচিত হতে থাকে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অধ্যাপক বর্তমান সময়কে “ঈশ্বরের শতাব্দী” (God’s century) হিসেবে আখ্যায়িত করে রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে ধর্মের অবিভাজ্যতার অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপিত করেন। রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রভাব ব্যাখ্যা করেছেন জার্মান দার্শনিক ও সমাজতাত্ত্বিক ম্যাক্স ওয়েবার তাঁর “The protestant ethics and the sprit of capitalism” গ্রন্থে। তার মতে উদার গণতন্ত্রের সুকুমার বৈশিষ্ট্যগুলো চয়িত হয়েছে খ্রীস্টবাদের ধর্মীয় রীতি-নীতি থেকে। অর্থাত্ আধুনিক গণতন্ত্রের স্থাপনা রচিত হয়েছে খ্রীস্টীয় ধর্মের ভিত্তিতে। সে কারণে আরেক হার্ভার্ড অধ্যাপক যুক্তরাষ্ট্রকে “ঈশ্বরের দেশ” (God’s country) হিসেবে বর্ণনা করে ধর্মের দ্বারা যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতি পরিচালিত, সেই সত্যতা তুলে ধরেছেন। এরদোগান সরকার কর্তৃক তুরস্কের গণতন্ত্রে ইসলাম ধর্মের মৌলিক নীতির সতর্ক সংযোজন ও সাবলীল সমন্বয়কে দোষ হিসেবে বিবেচনা করা তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক বিশ্লেষণে মূর্খতা হিসেবে বিবেচিত হতে বাধ্য। যুক্তরাষ্ট্রের এক খ্রীস্টান সেক্যুলার লেখক মাইকেল এইচ হার্ট তার “The 100” শীর্ষক গ্রন্থে নির্বাচিত ১০০ মনীষীর মধ্যে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) কে শীর্ষস্থানে অধিষ্ঠিত করে তাঁর ধর্মীয় ও সেক্যুলার সমন্বয়ের প্রশংসা করেছেন। অর্থাত্ ইসলাম ধর্ম আধুনিক রাষ্ট্রে সংযোজিত হয়ে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক কাঠামো রচনায় গৃরুত্বপূর্ণ, জবাবদিহিমূলক ও স্বচ্ছ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। এরদোগান সরকার তুরস্কের রাজনীতিতে সে দেশের চিরায়ত সংস্কৃতিকে পুনঃস্থাপন করতেই কেবল ইসলামের সেই মৌলিক বিষয়গুলোর প্রাধিকার নিশ্চিত করতে চাচ্ছেন, যেগুলো সুশাসন, সুবিচার, সুখ, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। মদ্যপান সকল সমাজে ঘৃণিত, সকল যুগে প্রত্যাখ্যাত। মুসলিম তুরস্কে এমন ঘৃণিত অভ্যেস বন্ধের উদ্যোগের বিরোধিতা অরুচিকর, বেমানান ও গণতান্ত্রিক চেতনা বিরোধী। সনাতন, মার্ক্সীয় এবং উন্নয়ন অর্থনীতিবিদগণের প্রায় সকলে একমত যে, মানবসন্তানই মানবসভ্যতার পরম সম্পদ, যা ধ্বংস করা মানব সভ্যতার ধ্বংসেরই নামান্তর। তুর্কী সন্তান বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু তা যে গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর এমন উপসংহারে উপনীত হওয়া গণতান্ত্রিক ধারণার দেউলিয়াত্বেরই বহিঃপ্রকাশ। পরিশেষে, এরদোগান সরকার যেন কোন বিদ্রোহ বিক্ষোভকে অবমূল্যায়ন না করতে পারে, সেজন্য সরকারের সকল বিভাগকে সতর্ক থাকতে হবে। গণআন্দোলন, গণবিক্ষোভ বিশ্লেষণ করে তার কারণ অন্বেষণ করতে হবে এবং জনস্বার্থে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের চাওয়া-পাওয়ার ভিত্তিতে সেই উদ্বেগ দূর করতে হবে। কোনভাবেই শক্তি প্রয়োগ করে স্বৈরতান্ত্রিক উপায়ে যেন কোন বিদ্রোহ দমনে এরদোগান সরকার কলঙ্কিত না হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি দিতে হবে। জনগণের বিক্ষোভের ভাষা জনদরদের অনুভূতিতে অনুধাবন করতে হবে। লেখক :সহযোগী অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় mramin68@yahoo.com