[ রা জ নী তি ]
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট ও বিপর্যস্ত অর্থনীতি
প্রকাশ : ১০ জুন ২০১৩, ২২:০৬
বর্তমানে দেশ এক কঠিন ও জটিল সময় অতিক্রম করছে। সরকারের অনমনীয় মনোভাব-দমন নিপীড়ন, বিরোধী দলের আন্দোলন ও বিপন্ন-বিপর্যস্ত-ভঙ্গুর অর্থনীতি; এক অজানার গন্তব্যে চলছে বাংলাদেশ। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যহত করছে। সবাই সংলাপ ও সমঝোতার কথা বললেও কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সরকারের পক্ষ থেকে একদিকে সংলাপের বক্তব্য আসে অন্যদিকে বিরোধীদের দমনে চলে খড়গ। বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় সর্বজন স্বীকৃত ও গৃহীত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় এরূপভাবে বিরোধী দলের উপর দমন নিপীড়নের নজির খুব কমই লক্ষ্য করা যায়। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় বিরোধী দলের রয়েছে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান। এ ব্যবস্থায় যে দলের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ সমর্থন দিয়ে থাকে কিংবা যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায় তারা সরকার গঠন করে। সরকারের ছায়াসঙ্গী হিসেবে থাকবে বিরোধী দল। এ জন্যই বিরোধী দলকে বলা হয় ছায়া-সরকার। গণতান্ত্রিক ধারা ও প্রক্রিয়া চলমান রাখতে হলে প্রয়োজন বিরোধী মত ও চিন্তার বহিঃপ্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা। কিন্তু বাংলাদেশে এই সংস্কৃতির চর্চা খুব কমই লক্ষ্য করা গেছে। ক্ষমতাসীনরা সব সময় তাদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য বিরোধীদের উপর দমন-নিপীড়ন-অত্যাচার অব্যাহত রাখে, যা কেবল মাত্র স্বৈরতান্ত্রিক কিংবা একনায়কতন্ত্রে লক্ষ্য করা যায়।
সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্বাধীনতা যুদ্ধে অবতীর্ণ হয় এদেশের সর্বস্তরের জনগণ। ৩০ লক্ষ্য শহীদের রক্তের বিনিময়ে রক্ষা হয় এদেশের মানুষের স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশের অধিকার। কিন্তু স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ ঘটেনি। ১৯৭৩ সালের প্রথম সংসদ নির্বাচনের পর সংসদকে শাসন বিভাগের রাবার-স্ট্যাম্পে পরিণত করা হয়। ১৯৯১ থেকে সংসদীয় গণতন্ত্র চালু হওয়ার পর নতুন সম্ভাবনা দেখা যায়। সরকারি দল ও বিরোধী দল বিভিন্ন সংকটকালীন মুহূর্তে একত্রিত হয়ে কাজ করার অনেক নজির থাকলেও এটি এখন দিবাস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। কোন ঘটনা ঘটলেই বিরোধী দলের বিরুদ্ধে মামলা, ডাণ্ডাবেড়ী, রিমান্ড, পুলিশী নির্যাতন এখন নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিরোধী দলের সকল ধরনের কাজের উপর একধরনের অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। মিছিল মিটিং কিংবা সমাবেশে নামলেই তাদের নামে দেয়া হচ্ছে মামলা, ঢুকানো হচ্ছে জেলে। এসকল ঘটনা আগেও ঘটতো। কিন্তু বর্তমান সময়ের ঘটনা অতীতের সকল ঘটনাকে ম্লান করে দিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধী দলের নিপীড়ন, হত্যা ও মামলা অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমান সরকারের আমলে প্রায় ১০ হাজার মামলায় বিএনপির প্রায় তিন লাখ নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে রয়েছে ১৪টি মামলা। শুধু রাজধানীতেই রয়েছে ২-৩ হাজার মামলা। গত বছরের এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন থানায় প্রায় ১৫০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ১৫ মাসে চট্টগ্রাম বিভাগে ১৮ দলীয় নেত-কর্মীদের বিরুদ্ধে ২৭৫টি মামলায় এজহারভুক্ত আসামি ১৪ হাজার ৮৪৬ জন। অজ্ঞাত পরিচয়ে আসামি হিসেবে রয়েছে আরো এক লাখ ১০ হাজার ৫৪৫ জন। ২০১২ সালে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, নোয়াখালি, ফেনী, লক্ষ্মীপুর জেলায় ১৮ দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ৫৯টি মামলায় এক হাজার জন এজহারভুক্ত আসামি এবং ছয় হাজার ৮২৫ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়। শুধু চট্টগ্রাম জেলায় গত ১৫ মাসে ৬৫টি মামলায় ২৩ হাজার ৪৯০ জনকে আসামি করা হয়েছে। রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় প্রায় ২০০ মামলায় অন্তত ৫০ হাজার নেতা কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। খুলনা বিভাগের জেলাগুলোর মধ্যে সর্বাধিক ৭৩টি মামলা হয়েছে সাতক্ষীরা জেলায়। এতে আসামি করা হয় ১৭ হাজারের বেশি। রংপুর বিভাগের আট জেলায় মোট মামলা ৮৩টি। এসব মামলায় প্রায় ৯ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ২০০ জনকে। বিএনপিরর কোন কোন নেতার বিরুদ্ধে ৫০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের বিরুদ্ধে রয়েছে ৭৮টি মামলা।
বিরোধী নেতা-কর্মীদের হত্যা, গণগ্রেফতার গণরিমান্ড ও ডাণ্ডাবেড়ি পরানোর মত চরম স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করা গেছে। ১৭ মার্চ ১৮ দলীয় জোটের ১৫১ জন নেতাকর্মীকে আটক করার পর ডাণ্ডাবেড়ী পরিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। রাজনৈতিক কারণে গ্রেফতারকৃত বিরোধীদলের নেতা কর্মীকে হাইসিকিউরড প্রিজন সেলে বন্দি এবং ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে আদালতে হাজির করার নজির এর আগে দেখা যায়নি। দেশের শীর্ষ স্থানীয় আইনজীবীসহ বিভিন্ন মহল থেকে বলা হয়েছে ফৌজদারী আইনে আসামিদের ডাণ্ডাবেড়ি পরানোর কোনো বিধান নেই। সাধারণত দুর্ধর্ষ খুনি, সন্ত্রাসী, ডাকাত, সিরিয়াল কিলার বা আউট ল’দের ডাণ্ডাবেড়ী পরানো হয়। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের সন্ত্রাসী, খুনি, ডাকাতের সাথে এক করে ফেলা হয়েছে। সুস্থ ও গণতান্ত্রিক ধারার রাজনীতির ক্ষেত্রে এটি একটি অশনী সংকেত। একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এটা কখনো কাম্য হতে পারে না। অথচ অতীতে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ‘রাজবন্দী’র মর্যাদা দেয়া হত।
পুলিশের বর্তমান কর্মকাণ্ড নিয়েও বিভিন্ন মহলে কথা উঠেছে। পুলিশের কাছ থেকে নিরাপত্তা ও সাহায্য পাবার পরিবর্তে মানুষ ‘পুলিশি ঝামেলা’ এড়িয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখাকেই শ্রেয় মনে করে। এই পুলিশ সম্পর্কেই একবার রবীন্দ্রনাথ মন্তব্য করেছিল “উহাদের লালায়ও বিষ আছে”। বর্তমান সরকার এই ‘নিরাপত্তা বাহিনী’কে নিরাপত্তা দেবার পরিবর্তে নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। পুলিশও বসে নেই। সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার করছে। নামে বে-নামে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে জামিনের নামে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে যেখানে বাংলাদেশের পুলিশ কিংবা সেনাবাহিনী শান্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সেখানে সরকার পুলিশকে ব্যবহার করে দেশকে একটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করছে।
সংবিধানের ১১নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে ‘প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে.......’। কিন্তু প্রকৃত প্রস্তাবে এই ধারার বিপরীত চিত্র এক এক সরকারের সময় লক্ষ্য করা গেছে। বিরোধী দল কিংবা বিরোধী মত দমনে সরকারের ভূমিকা দেখে আর মনে হয় না যে বাংলাদেশে জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধিদল সরকার পরিচালনা করছে। এটিকে ‘নয়া একনায়কতন্ত্র’ বললেও অত্যুক্তি হবে না। অন্যভাবে বলা চলে দেশে চলছে এখন ‘ইলেকটেড ডিকটেটরশিপ’ কিংবা ‘ডেমোক্রেটিক ডিকটেটরশিপ’। সরকার যেন বিরোধী কোন পথ কিংবা মতকেই সহ্য করতে পারছে না।
এরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে অন্যতম কারণ হলো আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে সংশয়। বিরোধী দলের ‘নিদর্লীয় সরকার ছাড়া নির্বাচনে অংশ না নেয়া’ আর সরকার দলের ‘সংবিধানের অধিনেই নির্বাচন হবে’ এই অনড় মনোভাব চলমান সংকট তৈরি করছে। বিশেষত সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করার পর এই সংকট তৈরি হয়। দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধী দলীয় জোট নিদর্লীয় সরকারের জন্য আন্দোলন করে আসছে। কিন্তু আন্দোলনে নানা ধরনের প্রশাসনিক বাধা দেয়া হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে বিএনপি সহ ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ স্থানীয় নেতাকর্মীদের। মুক্তি দেয়ার পর কারাফটক থেকে পুনরায় গ্রেফতার করা হচ্ছে। বাধ্য হয়ে বারবার হরতাল দিচ্ছে বিরোধী দল। সরকারই যেন হরতালের ইস্যু তৈরি করছে। এইচএসসি পরীক্ষার আগে পরীক্ষার্থীরা একটি সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল সরকার যেন হরতাল দেয়ার কোন ইস্যু তৈরি না করে। কিন্তু সরকার বিরোধী দলকে দমন করতে গিয়ে একটার পর একটা হরতালে ইস্যু তৈরি করছে।
হরতাল গণতান্ত্রিক কর্মসূচি হলেও এটি কোন দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়। ইতোমধ্যে বিরোধী দলের কিছু নেতার মুখ থেকেও হরতালের ক্ষতির কথা উঠে এসেছে। কিন্তু তাদের দাবী সরকারই বিরোধী দলকে বাধ্য করছে হরতাল দিতে। ইউএনডিপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিটি হরতালে গড়ে ৫ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা ক্ষতি হয় জিডিপির। অপর এক হিসেবে দেখা গেছে, প্রতিটি হরতালে দেশের মোট অর্থনীতির অন্তত ২০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া আমদানি-রফতানিতেও অন্তত ১০ শতাংশ ক্ষতি হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য কমে যাচ্ছে প্রায় ৪৪ শতাংশ। অপরদিকে দ্রব্যমূল্য বাড়ছে প্রায় ১০ শতাংশ। হরতালে বিদেশি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে অন্যদেশমুখী হচ্ছেন। সরকারের প্রশাসন দলীয়করণ, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে ব্যর্থতা, শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারী, হলমার্ক কেলেঙ্কারী, ব্যাংক থেকে অধিক ঋণগ্রহণ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী, নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে ব্যাংক, বিভিন্ন আর্থিক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ওপর অযাচিত হামলা, খবরদারি, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন করতে না পারা ইত্যাদি বিনিয়োগ কমে যাওয়ার জন্য দায়ী। এর পাশাপাশি কমে যাচ্ছে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য। অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যও নেমে যাচ্ছে আশঙ্কাজনকভাবে। কমে যাচ্ছে সরকারি ব্যাংক, বীমাসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লেনদেন। ব্যাহত হচ্ছে শেয়ারবাজারের বেচাকেনা। আর জনদুর্ভোগের তো অন্ত থাকছে না।
৫/৬ বছর আগে শিল্পখাতে ব্যাপক হারে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আসতে শুরু করেছিল। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে পরবর্তী ৫ বছরে দেশে মোট ১০ বিলিয়ন ডলারের সরাসরি বিনিয়োগ আসবে বলে বিনিয়োগ বোর্ড থেকে সে সময় ধারণা দেয়া হয়। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং সরকারের অদূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলো একে একে চলে গেছে। বিপর্যয় দেখা দিয়েছে শিল্পোত্পাদনে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য মতে বাংলাদেশে বেকারত্বের হার ১৪ দশমিক ২ শতাংশ। এর ওপর এখন প্রতিবছর নতুন করে ১৩ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে যোগ হচ্ছেন। নতুন কর্মসংস্থান তৈরির চাপ রয়েছে অর্থনীতির ওপর। আর এ জন্য নতুন বিনিয়োগের বিকল্প নেই। কিন্তু বিনিয়োগ বাড়ছে না। চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনের জন্য দুই দলের ওপর চাপ দিচ্ছেন ব্যবসায়ী সমপ্রদায়। সুশীল সমাজ, বিভিন্ন পেশাজীবী এবং প্রভাবশালী দেশগুলো সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের দাবি জানাচ্ছেন। কিন্তু দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড়। বিশেষ করে সরকারের অনড় মনোভাবই বেশি লক্ষ্যণীয়। ‘দেশের অর্থনীতি গোল্লায়’ যাক কিন্তু যেনতেন প্রকারে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারকে আবার ক্ষমতায় আসতে হবে। সরকারের এ মানসিকতার পরিবর্তন না হলে বিপর্যস্ত অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে যাবে। তখন রাষ্ট্রের সম্পদ লুণ্ঠনের প্রতিযোগিতায় মত্ত থাকা রাজনীতিক, আমলাসহ সমাজের ওপর তলার মানুষের সমস্যা না হলেও সাধারণ মানুষ নিদারুণ কষ্টে পড়ে যাবেন।
সম্প্রতি একটি জরিপে দেখা গেছে ৮৫ শতাংশ মানুষ বলেছে, দেশের সামগ্রিক অবস্থা খারাপ বা খুব খারাপ। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের একটিই উপায়। আর তা হল সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা। এর জন্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই। কেননা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে প্রয়োজন পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও পরমত সহিষ্ণুতা। সমাগ্রিক বিষয়টাকে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষভাবে বিবেচনা করতে হবে। এক চোখা মনোভাব নিয়ে দেখলে হবে না। সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ সরকারকেই গ্রহণ করতে হবে।
লেখক :অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
e-mail: drshamsulalamgp@gmail.com