সিরাজদিখানে বর্ষায় একমাত্র বাহন নৌকা

বর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে। সিরাজদিখান ও আশেপাশের উপজেলার নিম্নাঞ্চল বর্ষা মৌসুম শুরুর সাথে সাথে পানিতে তলিয়ে যায়। পানি থৈ থৈ করে। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে এসব এলাকার জনসাধারণের চলাচলের প্রধান মাধ্যম নৌকা। তাই ঐসব এলাকায় নৌকার কদর এখন বেড়ে গেছে। সিরাজদিখান উপজেলার আশে-পাশে বিভিন্ন কারখানায় দিন-রাত নৌকা তৈরির কাজ চলছে। ফলে নৌকা তৈরি মিস্ত্রীদের ব্যস্ততা ও মজুরি বেড়ে গেছে। নৌকা তৈরির প্রধান উপকরণ কাঠ। তাই কাঠ ব্যবসায়ীদের ব্যবসাও ভাল হচ্ছে। হাট-বাজার ও রাস্তার পাশে এখন নৌকা বিক্রয় করতে দেখা যাচ্ছে। উপজেলার চরবিশ্বনাথ গ্রামের কাঠ মিস্ত্রি বলরাম মণ্ডল জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার কিছু পূর্বে অর্থাত্ জ্যৈষ্ঠে মাস থেকে নৌকা তৈরি শুরু করে ভাদ্র মাস পর্যন্ত করে থাকেন। এ মৌসুমে প্রায় দেড় শত নৌকা তৈরি করে বিক্রয় করতে পারবেন বলে আশা করেন। কারণ এ বছর পানির চাপ একটু বেশি বলে মনে হয়। গত বর্ষা মৌসুমে তিনি প্রায় একশত নৌকা তৈরি করে বিক্রি করেছেন। তিনি আরো জানান, যে বছর বর্ষায় পানি বেশি হয় সে বছর নৌকা বিক্রি বেশি হয় এবং দামও বেশি পাওয়া যায়। বর্তমানে এলাকায় কোষা নৌকার কদর বেশি। কড়ই ও চাম্বল কাঠের তৈরি নৌকা বেশি চলে। তিনি আরোও জানান, একটি কোষা নৌকা তৈরি করতে সাধারণত একজন মিস্ত্রির পুরোদিন লেগে যায়। এবছর নৌকা তৈরির সামগ্রী যেমন কাঠ, তারকাঁটার দাম বেশি ও মিস্ত্রির মজুরিও বেশি হওয়ায় খরচও বেশি এবং বিক্রিও বেশি দামে করতে হচ্ছে। এ বছর দশ হাত লম্বা দুই হাত পাশ একটা কোষা নৌকা বিক্রয় করছেন প্রায় চার হাজার টাকা থেকে বিয়াল্লিশ শত টাকা। অথচ গত বছর বিক্রি করেছেন বত্রিশত থেকে পঁয়ত্রিশ শত টাকা।