দেবিদ্বারে তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগে এক ইউপি সদস্যকে আটক করেছে থানা পুলিশ। গণধর্ষণের অভিযোগে ওই তরুণী গতকাল শুক্রবার দেবিদ্বার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিলে বিকালে উপজেলার ভানী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার নবীরুল ইসলাম নবীকে আটক করে পুলিশ।
তরুণী লিখিত অভিযোগে জানান, চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি দুপুরে ওই তরুণী তার স্বামীকে নিয়ে ভানী ইউনিয়নের সূর্যপুরের রাস্তা দিয়ে স্বামীর বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার প্রান্তি গ্রামে যাওয়ার পথে ইউপি সদস্য নবীরুল ইসলামের নেতৃত্বে শামিম, আকাশ, পাখিসহ অজ্ঞাত আরও ৮/৯ জন তাদের গতিরোধ করে। নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিলে ইউপি সদস্য নবীরুল বিয়ের কাবিননামা দেখতে চান। বিয়ের কাগজপত্র দেখালে ইউপি সদস্য বলেন, ওই কাগজপত্র ভুয়া। নবীরুলের সঙ্গে থাকা আকাশ নামে এক যুবক ওই তরুণী ও তার স্বামীকে বেধড়ক মারধর করেন। ইউপি সদস্য নবীরুল ইসলাম ২০ হাজার টাকা দিলে তা সমাধানের প্রস্তাব দেন। ওইদিন সন্ধ্যায় টাকা নিয়ে আসেন তরুণীর স্বামী। ২০ হাজার টাকা নেওয়ার পরও স্ত্রীকে রেখে স্বামীকে নিজের বাড়ি চলে যেতে বলেন ওই ইউপি সদস্য। স্বামী চলে গেলে শামিম, পাখি, আকাশসহ আরো কিছু অজ্ঞাত যুবক তরুণীকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে জঙ্গলে নিয়ে যান। সেখানে ইউপি সদস্য ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে। পাখি, আকাশ ও শামীমসহ ৭/৮ জন যুবকও পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ ব্যাপারে ভানী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান মুকুল জানান, ওই তরুণী এতদিন কেন কালক্ষেপণ করলো? এ কাজে জড়িতের প্রমাণ পেলে আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে।
দেবিদ্বার থানার ওসি মো. জহিরুল আনোয়ার জানান, ইউপি সদস্য নবীরুলকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ভুক্তভোগী তরুণীর মেডিক্যাল রিপোর্টের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।