বিরোধী দলবিহীন গণতন্ত্র চায় সরকারি দল

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেছেন, আসুন আমরা গঠনমূলক সমালোচনা করি। সংখ্যায় আপনারা আমাদের চেয়ে ৭ গুণ বেশি। গলার আওয়াজও আমাদের চেয়ে ৭ গুণ বেশি। কিন্তু যুক্তি, জ্ঞানে আপনারা আমাদের সাথে পারবেন না। আমরা সংসদে থাকতে চাই। কিন্তু এটা নির্ভর করবে সরকারি দলের আচরণ ও মাননীয় স্পিকার আপনার ওপরে। সরকারি দলের সদস্যদের বলব সংসদের পরিবেশ ঠিক রাখতে চাইলে জিয়াউর রহমান, বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নিয়ে কোন অশালীন বক্তব্য দেবেন না। যদি দেন তাহলে পল্টা জবাব পাবেন। আমি আপনাদের বলতে চাই, আপনারা সংখ্যায় বেশি হতে পারে কিন্তু ‘নাথিং উইল গো আনচ্যালেঞ্জড’। আর সংসদ ওই পর্যায়ে গেলে সংসদ আবার অকার্যকর হয়ে যাবে। মাননীয় স্পিকার আপনাকে বলব, সংসদের স্বাভাবিক পরিবেশটা বজায় রাখতে, যাতে করে এ সংসদের শেষদিন পর্যন্ত আমরা এখানে থাকতে পারি। গতকাল সোমবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে সম্পূরক বাজেটের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে মওদুদ আহমদ এসব কথা বলেন। বাজেট আলোচনায় তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী সংসদে আমাদের অনুপস্থিতিকে ন্যাশনাল ট্র্যাজেডি বলেছেন। কিন্তু আমি বলতে চাই, ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত আপনারা যে ঐতিহ্য সৃষ্টি করেছেন। আমরা সেটা কেবল অনুসরণ করেছি। পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের উদ্ধৃতি দিয়ে মওদুদ বলেন, আমাদের মন্ত্রী আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, সংসদ অধিবেশনে শুধু সার্কাস হয়। এখানে ভোটাভুটি ছাড়া কিছুই হয় না। সব কাজ হয় সংসদীয় কমিটির মধ্যে। গত সাড়ে ৪ বছর সংসদ অকার্যকর ছিল। সরকারি দলের অশ্লীল বক্তব্যে পরিবেশ নষ্ট হয়েছে, যার কারণে আমরা আসিনি। বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। বিচার বিভাগের এখন স্বাধীনতা আছে কিন্তু বিচারকদের স্বাধীনতা নেই। আইনের শাসনের বদলে চলছে দলীয় শাসন। এ মুহূর্তে আমাদের তিন লাখ নেতাকর্মী জেলে আছে। মামলা দেয়া হয়েছে চব্বিশ হাজারের বেশি। এটা হচ্ছে সুশাসনের নমুনা। তিনি বলেন, দেশে নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র চলছে। সরকারি দল গণতন্ত্র চান কিন্তু বিরোধী দলকে চান না। বিরোধী দল থাকতে পারবে না। তাদের নিশ্চিহ্ন করে দিতে হবে। এক দলীয় শাসনের মন-মানসিকতা, চিন্তা-চেতনা ও ধ্যান-ধারণা আপনাদের (সরকারি দল) মধ্যে রয়ে গেছে। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারির (বাকশাল গঠন) কথা এদেশের মানুষ ভুলবে না। আপনারা গণতন্ত্রের কথা বলেন। গণতন্ত্র আপনাদের মুখে শোভা পায় না। আপনারা এদেশে এক দলীয় স্বৈরাচারী বাকশালী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছেন। আপনারা কোন মুখে গণতন্ত্রের কথা বলেন। দৈনিক আমার দেশ দেশের সবচে জনপ্রিয় পত্রিকা—এ মন্তব্য করার প্রেক্ষাপটে সরকার দলের সদস্যরা হৈ চৈ শুরু করেন। জবাবে মওদুদ বলেন, আপনারা ১৯৭৩-৭৪ সালে ৩’শ আসনের মধ্যে ২৯১টি আসন পেয়েছিলেন। কিন্তু আপনাদের এ অসহিষ্ণুতার কারণে আপনারা ওই ৯ জনের সমালোচনা সহ্য করতে পারেননি। যার জন্য এক দলীয় শাসন কায়েম করেছিলেন। এজন্য আপনাদের সমালোচনা করলেই হৈ চৈ করে ওঠেন। এক বছর পার হয়ে গেছে সাংবাদিক সাগর-রুনির হত্যার এখনো সুরাহা হয়নি। ২০ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। মানবাধিকার লংঘন অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। রিমান্ডের নামে ঢাকায় এক বছরে ৪ হাজার ৮২৯ জনকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে ৭ হাজার মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। আমাদের একটা মামলাও প্রত্যাহার করলেন না। বিরোধী দলীয় নেতার বিরুদ্ধেও মামলা দিয়েছেন। এর জবাব নেই। আর কিছু বলতে না পারলে তো আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে বসবেন। তারেক রহমানকে ইন্টারপোলের মাধ্যামে গ্রেফতার করে দেশে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটা বক্তব্য দেয়ার জন্য আপনারা আতঙ্কিত হয়ে গেছেন। সময় হলে তিনি নিজেই দেশের মাটিতে ফিরে আসবেন।