মূকাভিনয়ের মুখচ্ছবি হয়ে উঠছেন মীর লোকমান

মূকাভিনয় পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন ও শক্তিশালী বিনোদন মাধ্যমগুলোর একটি। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে পার্থপ্রতিম মজুমদারের হাত ধরে বাংলাদেশে এর চর্চা শুরু হলেও এটি এখনো সর্বস্তরে পৌঁছায়নি। তবে অভিনয়ের এই ধারাকে গণমানুষের কাছে পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন মীর লোকমান। শুধু দেশের গণ্ডিতেই নয়, ইতোমধ্যে মূকাভিনয় নিয়ে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছেন এই তরুণ।

লোকমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে মূকাভিনয়কে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করে যাচ্ছেন। ইত্তেফাকের সাথে আলাপচারিতায় তিনি জানান, অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ২০০৩ সালে নরসিংদীতে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মূকাভিনয় বা মাইমের শো দেখার পর এর প্রতি তার আগ্রহ জন্মে। এরপর নিজে নিজেই চর্চা শুরু করেন। দেশে সমসাময়িক ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধের ঘটনা মূকাভিনয়ে তুলে ধরেছে লোকমান ও তার দল ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশন। ধর্ষণ, হত্যা, আত্মহত্যা, নারীর প্রতি সহিংসতা, বৌদ্ধমঠে হামলা, ফিলিস্তিন ও মিয়ানমারে ঘটে যাওয়া অমানবিক হত্যাযজ্ঞ ইত্যাদি নিয়ে প্রতিবাদী গল্প নির্মাণ করেছেন তিনি। তিনি বলেন, শিল্পের ভাষায় মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে চাই। একারণে গল্পের জন্য বেছে নেওয়া হয় চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের হয়ে ২০১৬ সালে ভারতে মূকাভিনয়ে দলগতভাবে চ্যাম্পিয়ন হন লোকমান। একই বছর ভারতের ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটিতে ওয়েস্টার্ন ড্যান্সে প্রথম রানার আপ হন। ২০১৪ সালে জাতীয় পর্যায়ে মাইমে চ্যাম্পিয়ন হন। দক্ষিণ কোরিয়াতে মূকাভিনয় প্রদর্শন করে সেখানেও পুরস্কৃত হন। সবশেষ ইউরোপের আর্মেনিয়ায় অভিনয় করে এসেছেন। এছাড়া দেশের ভেতর ব্রিটিশ কাউন্সিল, শিল্পকলা একাডেমি, জার্মান কালচারাল সেন্টার, চায়না বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ছাড়াও আরো অনেক স্থানে পারফর্ম করে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন।

বাংলাদেশে মূকাভিনয়ের ভবিষ্যত্ সম্পর্কে তিনি বলেন, মাইম যতটা শক্তিশালী শিল্প, তাতে একে শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য ব্যবহার করলে তার পূর্ণ ব্যবহার করা হয় না। মানুষকে সচেতন করতে তারা এটিকে প্রতিবাদী শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করে যাবেন।