আমার ক্যাম্পাস
যেভাবে কাটে সময়
প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৩, ১৮:৫৩
বিশ্ববিদ্যালয় মানেই রুটিনের ফ্রেমে বাঁধা ক্যাম্পাস জীবন। প্রায় প্রতিদিনই সকাল-বিকাল ক্লাস। কিছুদিন পর পর ক্লাস টেস্ট। অথবা পরীক্ষার মতোই অ্যাসাইনমেন্ট। এর পর আবার মিড টার্ম ও ফাইনাল টার্ম। এভাইে চলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন চক্র। কিন্তু এরই ফাঁকে ক্যাম্পাসে আড্ডা জমিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙিনাকে জীবন্ত করে রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে আড্ডা ছাড়া ক্যাম্পাস নিষ্প্রাণ। ক্যাম্পাসকে প্রাণবন্ত রাখতেই আমরা আড্ডা দেই। তবে সেটা অবশ্যই লেখাপড়ার ফাঁকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানিয়া শারমিন জানান, সারাদিন ক্লাসের ফাঁকে আড্ডা যেন তৃষ্ণার্ত পথিকের কাছে শীতল পানির মতো। বন্ধুদের সাথে আড্ডায় বসলেই সব ক্লান্তির অবসান ঘটে। ক্লাসের ফাঁকে আড্ডা যেন উদ্দীপনা ফিরিয়ে নিয়ে আসে।
ক্যাম্পাসে আড্ডা নিয়ে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিব জানান, ‘ফুরফুরে মেজাজের আড্ডায় সর্বদা মুখরিত থাকে আমাদের ক্যাম্পাস। আড্ডা আর পড়াশুনায় ব্যস্ত থাকে সবাই। তবে যার-তার সবার সাথে আড্ডা দিতে ভালো লাগে না। প্রিয় মুখগুলোর সাথেই আড্ডা বেশি জমে। চেনা মানুষদের সাথে আড্ডা দিতেই বেশি মজা।’
আমাদের বিনোদন বলতে আড্ডা ছাড়া আর তেমন কিছু নেই। এখন আর ছোটদের মতো খেলতেও বেশি মজা পাই না। তাছাড়া ক্যাম্পাস ছাড়া ক্যাম্পাসের বন্ধুদের এক সাথে পাওয়াই যায় না। তাই যতক্ষণ ক্যাম্পাসে থাকি বন্ধুদের সাথেই সময় কাটিয়ে দেই। এটা তো আমদের ক্যারিয়ার গঠনেরই অংশ, জানালেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহিম।
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী প্রিয়াংকা বলেন, ‘মনের যাবতীয় সুখ কিংবা দুঃখ একে অপরের সঙ্গে ভাগাভাগি করে মনকে হালকা করার এক নিবিড় মাধ্যম আমাদের আড্ডা। আড্ডা বিনোদনের ও ক্যারিয়ারের এক চমত্কার সেতুবন্ধন। বিভিন্ন পরিবেশে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়ার একটা উপযুক্ত অনুশীলন হয় আড্ডার মধ্য দিয়ে।’
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজিব জানান, আড্ডা ছাড়া ক্যাম্পাস জীবন ব্যর্থ প্রায়। আড্ডার মাধ্যমে জানাশুনার পরিধি বাড়ে। আড্ডা মানে দুঃখ-কষ্ট, হাসি-কান্নাগুলো মাখামাখি করে নেয়া। ক্যাম্পাসে আড্ডা মানে প্রাণ খুলে কথা বলা। আড্ডা মানে হাসি মুখ। আড্ডা মানে বন্ধুদের সাথে মিষ্টি মিষ্টি ঝগড়া। পরক্ষণেই আবার একে অপরের সাথে মিশে যাওয়া। মনে হয় আড্ডা আমাদের পড়ালেখারই অংশ। আড্ডাকে যেন পাঠ্য সিলেবাস থেকে বাদ দেয়ার উপায়ই নেই।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারজানা লোপা বলেন, ‘যেদিন ভার্সিটিতে ক্লাস থাকে না সেদিন মনটা ভীষণ খারাপ থাকে। খুব একা একা লাগে সারাদিন। দিনটা যেন কাটতেই চায় না। তাই সকালে-দুপুরে আড্ডা। ক্লাসের ফাঁকে আড্ডা। স্যার ক্লাসে না এলে তো সবাই মহাখুশি। ক্লাসে কিংবা বাহিরে এসে সবাই মিলে চলে জম্পেশ আড্ডা। এভাবেই কেটে যায় ক্যাম্পাসের স্বপ্নের দিনগুলো।
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী রীতা ঘোষ বলেন, ক্যাম্পাসে শুধু কাছের বন্ধুরা মিলেই আড্ডা দেই না। কখনো কখনো বড়ভাই, বড়বোন, ছোট ভাই, ছোট বোনদের নিয়ে আড্ডা দেই। এছাড়া মাঝেসাজে শিক্ষকরা এসে যোগ দেয় আমাদের আড্ডায়। সেসব আড্ডা শুধু আড্ডাই থাকে না যেন হয়ে যায় ক্লাসরুম।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রোহান বলেন, আড্ডার মাধ্যমেই নতুন অনেক কিছু জানতে পারি। আড্ডা আমার কাছে নতুন নতুন আইডিয়ার মাধ্যম। আড্ডা ছাড়া আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনের একটি দিনও কল্পনা করতে পারি না।