‘আমি সবসময়ই ভদ্রলোক’
প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৩, ২১:১৯
আপনার প্রথম সংবাদ সম্মেলনের কথা আমাদের মনে আছে। আপনি কি এখনও স্পেশাল ওয়ান?
আমি এখন হ্যাপি ওয়ান; সুখী মানুষ। মনে হয় মাত্র কয়েক দিন আগের কথা; কিন্তু সেই চেলসিতে প্রথম সংবাদ সম্মেলন করেছিলাম নয় বছর আগে। অনেক সময় পার হয়ে গেছে। মানুষ হিসেবে আমি সেই একই আছি, আমার ভালোবাসা-বাগে একইরকম আছে। কিন্তু পেশাগত জীবনে, আমার দর্শনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখন এক কথায় বলতে গেলে বলতে হয়, আমি খুব সুখী মানুষ।
চেলসিতে তিন মৌসুমে ৫টি ট্রফি জিতেছেন। তার চেয়ে ভালো করতে পারবেন?
ফুটবলে এভাবে তো কিছু বলা যায় না। তবে আমি বিশ্বাস করতে চাই যে, সেটা সম্ভব। আমি নিজের ওপর বিশ্বাস রাখি। আমার ক্যারিয়ার তৈরি হয়েছে সাফল্যের ভিত্তির ওপরে; আমি সবসময় আরও সাফল্য চাই, আরও ট্রফি জিততে চাই। আমি আমার খেলোয়াড়দের এই বার্তাটাই দিতে চাই।
রোমান আব্রমোভিচের (চেলসি মালিক) সঙ্গে আপনার তো গন্ডগোল হয়েছিল। মিটমাট হল কী করে?
এটা একেবারেই সত্যি নয়। আমি অনেক পড়েছি, শুনেছি—আমাকে নাকি চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল; এটা খুব মিথ্যা কথা। জানি আপনারা এসব কথা বিশ্বাস করবেন না, তারপরও এটাই সত্যি যে, পারস্পরিক আলোচনার ভেতর দিয়েই চুক্তি শেষ হয়েছিল।
চেলসির বাইরে এই পাঁচ বছর কাটিয়ে ঠিক কী অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরলেন?
২০০০ সালে যখন ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম, তখন ভাবতাম—আমি সব বুঝি। আর এই ১৩ বছর পর আমি ভাবি—আসলে কিছুই বুঝি না। আসলে প্রতিদিন মানুষ শেখে। ইউরোপে আমার এই যে অভিজ্ঞতা; শুধু মাঝের পাঁচ বছর নয়; ইংল্যান্ড, ইতালি, স্পেনের সব অভিজ্ঞতাই অসামান্য। ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি, মানসিকতা, খেলোয়াড়, লিগ, কৌশল, সংবাদ মাধ্যম; সব কিছুই ভিন্ন ভিন্ন। এসব থেকেই শিখেছি আমি। এই পঞ্চাশ বছর বয়সে আসলে আমার মনে হয়, এখন মাত্র শুরু করছি; এখনই আসলে তারুণ্যে পৌঁছেছি। কী একটু অন্যরকম মনে হচ্ছে কথাবার্তা? না, বদলে যাইনি। কিন্তু আমার দৃষ্টিভঙ্গিটা একটু বদলেছে, বদলেছে পৃথিবীকে দেখার চোখ। সেই একই মরিনহো, সেই একই স্বভাব; শুধু সময়টা বদলে গেছে।
তার মানে, এখন অনেক শান্ত হয়ে গেছেন?
শান্ত? তা বলতে পারেন। নয় বছর অনেক সময়। এই সময় আমাকে অনেক শিখিয়েছে। এখন আমার নিজেকে অনেক শান্ত ও স্বচ্ছন্দ মনে হয়।
সংবাদ সম্মেলন এখন উপভোগ করেন?
নাহ। এটা একদম পছন্দ হয় না। তারপরও এটাও আমার কাজ। আমি চেষ্টা করি কাজটা ভালোভাবে করতে। তবে আমার প্রধান কাজ ফুটবল নিয়ে কাজ করা। তাই আশা করি, আপনারা এই ব্যাপারটা দ্রুত শেষ করে আমাকে ছেড়ে দেবেন।
আপনার পুরোনো বন্ধুরা অনেকেই আর নেই; বিশেষ করে স্যার ফার্গি নেই। উত্তেজনাটা কী একটু কম?
হ্যাঁ, এটা তো খুব হতাশার। স্যার অ্যালেক্স না থাকায় উত্তেজনা অনেক কমে গেছে। তবে ডেভিডও (মোয়েস) যথেষ্ট অভিজ্ঞ। আর ওয়েঙ্গার তো আছে। সে আছে ভাবতেই ভালো লাগছে। পেলিগ্রিনি আছে; খুব অভিজ্ঞ কোচ। গত তিন বছর দুই ঘোড়ার এক লিগে (লা লিগা) খেলে এসেছি; সে তুলনায় প্রিমিয়ার লিগের উত্তেজনা সবসময়ই বেশি।
ইকার ক্যাসিয়াসের সঙ্গে গন্ডগোল থেকে কিছু শিখলেন?
আমি কারো সঙ্গে গন্ডগোল করিনি। যা হয়েছে, তাতে ওর জন্য আমি কষ্ট পেতে পারি। তবে যা করেছি, দলের ভালোর জন্য করেছি। আমাকে সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখতে হবে। তবে নিজের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখাটা সবচেয়ে জরুরি; নিজেকে সন্তুষ্ট করাটাই সবচেয়ে জরুরি।
জন টেরিকে বেনিতেজ সাইডলাইনে রেখেছিলেন। এটা আপনি কিভাবে নিচ্ছেন?
দেখুন আমি জানি, আমার অনেক বদ গুণ আছে, তবে একটা ভালো গুণ হল—আমি ছেড়ে আসা ক্লাব সম্পর্কে খারাপ কথা বলি না এবং যে ক্লাবে এসেছি, সেখানকার অতীত নিয়ে সমালোচনা করি না। বেনিতেজের কাজ নিয়ে একটা কথাও বলবো না।
আগের চেয়ে অনেক বিনয়ী হয়েছেন মনে হচ্ছে।
আমি সবসময়ই বিনয়ী মানুষ। মাঝে মাঝে আমি যতোটা ভদ্র, তা মনে হয় না। তবে আমি সবসময়ই ভদ্রলোক।
ইনিয়েস্তা বলেছেন আপনি স্প্যানিশ ফুটবলের ক্ষতি করে এসেছেন?
আমি অবশ্যই ক্ষতি করেছি; সেটা বার্সেলোনার। বার্সেলোনার একাধিপত্য ক্ষুণ্ন করে দিয়ে এসেছি। সেটাকে ওর কাছে স্পেনের ক্ষতি মনে হতে পারে। ওর মনে রাখা উচি আমি বার্সাকে কিভাবে হারিয়েছি। সবসময় আমি পারিনি। চ্যাম্পিয়নস লিগে কাজটা অন্যরা করেছে। চেলসি আর বায়ার্ন যা করেছে বার্সেলোনাকে; খুব আনন্দ পেয়েছি।
আপনার দুর্বলতা কী?
আমি শত্রুর সঙ্গে নিজের দুর্বলতা নিয়ে আলাপ করি না। না, আমি আপনাদের শত্রু বলছি না। তবে আমার যারা শত্রু তারা তো পত্রিকা পড়ে এবং টিভি দেখে। ফলে দুর্বলতাটা প্রকাশ করা যাবে না। সব মানুষের দুর্বলতা থাকে। খুব বেশি নেই; তবে কিছু দুর্বলতা আমারও আছে।