আইনজীবী পলাশ হত্যার বিচারের দাবিতে পঞ্চগড়ে প্রতিবাদ সমাবেশ

পঞ্চগড় কারা হেফাজতে অগ্নিদগ্ধ ঢাকা বারের আইনজীবী পলাশ কুমার রায়কে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার বিচারের দাবিতে পঞ্চগড়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট পঞ্চগড় জেলা শাখা এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোটের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন পলাশ।

ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে উদীচী, সিপিবি, আইনজীবী সমিতি, সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন একাত্মতা ঘোষণা করেন। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের পঞ্চগড় জেলা শাখার আহ্বায়ক পরিমল চন্দ্র বর্মণ, পলাশের মা মীরা রানী রায়, জেলা সিপিবি সভাপতি রেজাউল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম, উদীচী সভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, পঞ্চগড় আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এরশাদ হোসেন সরকার, সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নেতা সুভাষ চন্দ্র রায়, পূজা উদযাপন পরিষদের অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র নাথ রায় বিপুল, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের উত্তম কুমার রায়, বিমল চন্দ্র রায়সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

বক্তারা বলেন, কারাগারে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে মারা যাওয়া পলাশের ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে। পলাশের মা মীরা রানী রায় বলেন, জেলখানাতে মানুষ সুরক্ষিত থাকে। ওখানে মানুষ পুড়ে যায় কীভাবে। এসময় তিনি কান্ন্ায় ভেঙে পড়েন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের দাবি জানান। পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সভাপতি সফিকুল আলম জানান, তার মৃত্যুর পেছনে যদি আইন বহির্ভূত কোনো কারণ থাকে তাহলে তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক।

বক্তারা প্রশ্ন রেখে বলেন, কারা কর্তৃপক্ষ দাবি করছে পলাশ নিজেই শরীরে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পেট্রোল, ম্যাচের মতো দাহ্য পদার্থ কীভাবে কারাগারে প্রবেশ করেছে তার কি ব্যাখ্যা দেবেন কারা কর্তৃপক্ষ? সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।