‘মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী সিলেট হবে আধ্যাত্মিক পর্যটন নগরী’

সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান তার ২০ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। কামরানের সমর্থনে গঠিত নাগরিক কমিটি গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই ইশতেহার তুলে ধরে। ইশতেহারে কামরান বলেছেন, গত মেয়াদে তিনি মেয়র থাকাকালে সিলেট মহানগরীর জন্য নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর ও নগর বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ২০ বছর মেয়াদী একটি মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত করেছেন। আসন্ন নির্বাচনে তিনি আবার বিজয়ী হলে উক্ত মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিলেটকে একটি আধ্যাত্মিক পর্যটন নগরী হিসাবে গড়ে তোলা হবে। তিনি বলেন, হযরত শাহজালাল (রহঃ), হযরত শাহপরান (রহঃ)সহ অনেক ওলিআউলিয়া এবং অন্যান্য ধর্মের সাধুপুরুষদের স্মৃতিবিজড়িত সিলেট। তাই পুণ্যভূমি সিলেটের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য সুরক্ষায় তিনি সব সময় চেষ্টা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সিলেট যাতে সত্যিকারের একটি পর্যটন নগরীতে পরিণত হয় সেজন্য তিনি বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন। নির্বাচিত হলে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে নগর ভবন পরিচালনা করবেন। সন্ত্রাস-চাঁদাবাজমুক্ত নগরীতে মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে। ১৬পৃষ্ঠার একটি পুস্তিকায় মুদ্রিত ইশতেহারে কামরান বলেছেন, বিগত তিন মেয়াদে তার দায়িত্বকালীন সময়ে নগর ভবন কোন বিশেষ দলের না হয়ে পরিণত হয়েছিল দলমত নির্বিশেষে সকল নাগরিকের প্রতিষ্ঠানে। সকল নাগরিক কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই তাদের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদন করতে পেরেছেন। আগামীতেও এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বদ্ধপরিকর। ইশতেহারে প্রতিশ্রুত ২০ দফার মধ্যে রয়েছে- মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, নতুন আরো স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠা, যুব সমাজকে তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষায় উদ্বুদ্ধকরণ, স্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরো বাড়ানো ও নিশ্চিত করা, নগরীতে সকাল-বিকাল ভ্রমণ ও পায়ে হেঁটে চলাচলের জন্য ওয়াক ওয়ে নির্মাণ, রাস্তাঘাট-ড্রেন-কালভার্ট নির্মাণ ও সংস্কার, ফুটপাতের সৌন্দর্যবর্ধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, রাস্তা-গুরুত্বপূর্ণ মোড় প্রশস্থকরণ ও রোড ডিভাইডার নির্মাণ, গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এলইডি লাইট স্থাপন, নগরীর ব্যস্ততম বিভিন্ন মোড়ে ওভার ব্রিজ নির্মাণ, ভূমিকম্পের ডেঞ্জারজোনে অবস্থিত সিলেটে যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে জানমাল রক্ষায় দ্রুত উদ্ধার কাজ পরিচালনার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয়, নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন, জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সকল ছড়া-খাল উদ্ধার ও খনন করা হবে, হোল্ডিং ট্যাক্স- ট্রেড লাইসেন্স-পানীয় জলের মাসিক চার্জসহ সিটি কর্পোরেশনের অন্যান্য সেবা অটোমেশন ও অনলাইন করণ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা সমপ্রসারণ, নগরীর প্রাণকেন্দ্র বন্দরবাজারে অবস্থিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের পর কারাগারের জায়গায় একটি আধুনিক পার্ক স্থাপন করা, ফ্লাইওভার ও রিং রোড নির্মাণ, মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশন এলাকার সীমানা সমপ্রসারণ এবং সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ-ছিনতাইকারীমুক্ত সিলেট মহানগরী গড়ে তোলা। কামরানের ইশতেহারে বিগত সময়ে তার মাধ্যমে নগরীতে সম্পাদিত বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময়ে তিনি অনেক উন্নয়ন কাজ করেছেন। অনেক কাজ এখন বাস্তবায়নাধীন। তাই অসম্পন্ন উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করতে আবারো তাকে বিজয়ী করার জন্য নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। ইশতেহার ঘোষণাকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- নাগরিক কমিটির আহবায়ক রহমত উল্লাহ, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সৈয়দ আবু নছর, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, কেন্দ্রীয় শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুজ জহির চৌধুরী সুফিয়ান, সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী এমপি, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস এমপি, সৈয়দা জেবুন্নেছা হক এমপি, মতিউর রহমান এমপি, জাতীয় পার্টির (জেপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ইফতেখার আহমদ লিমন, জাপার কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ সিদ্দিকি, জেলা ন্যাপের সভাপতি সৈয়দ আব্দুল হান্নান, জেলা জাসদের সভাপতি কলন্দর আলী, জেলা গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি ব্যারিষ্টার আরশ আলী, ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা সিকন্দর আলী, আবুল হোসেন, ব্যবসায়ী নেতা ফখর উদ্দিন আলী আহমদ, পিন্টু চক্রবর্তী, এমদাদ হোসেন, মদন মোহন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ কৃপাসিন্ধু রায় প্রমুখ।