নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্রশাসনের সমন্বয় নেই!

বরিশালে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনায় নির্বাচন কমিশন, পুলিশ প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দেখা যাচ্ছে। এর ফলে নির্বাচন যতো ঘনিয়ে আসছে পরিস্থিতি ততোই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। পাড়া-মহল্লায়, অলি-গলিতে প্রতিদিনই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। প্রার্থীরা রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। এরকম অবস্থা চলতে থাকলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ১৮ দল সমর্থিত প্রার্থী আহসান হাবিব কামালের নির্বাচনী কার্যক্রমের সমন্বয়কারী মজিবুর রহমান সরোয়ার এমপি। ভ্রাম্যমাণ আদালত থেকে শুরু করে পুলিশ ও র্যাব সরকার দল সমর্থিত প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনের পক্ষে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন যুবলীগ থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মাহমুদুল হক খান মামুনও। তিনি বলেন, তার দু’জন কর্মীকে র্যাব অহেতুক গ্রেফতার করে ইয়াবা ও জাল টাকাসহ চালান দিয়েছে। তার এক সমর্থককে মারধর করায় রিটার্নিং অফিসারের কাছে তিনি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করলেও কোন প্রতিকার পাননি। প্রতিদিনই তার কর্মী-সমর্থকদের মারধর করা হচ্ছে। মামুনের অভিযোগ সম্পর্কে রিটার্নিং অফিসার মজিবুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, অভিযোগটি তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট নাকি পুলিশের কাছে দিয়েছেন তা মনে করতে পারছেন না। তবে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মজিবুর রহমান। রিটার্নিং অফিসারের দপ্তরের সঙ্গে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার অভিযোগ উঠে তফসিল ঘোষণার পর থেকেই। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে নগরীতে আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ১৫টি ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৩০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দিয়ে মাঠে নামানো হয়। নির্বাচন কমিশন বা রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রার্থীরা যে অভিযোগ করেন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বললে ভ্রাম্যমাণ আদালত সে সম্পর্কে রিটার্নিং অফিসারের দপ্তরকে কিছুই অবহিত করে না বলে নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান। ভ্রাম্যমাণ আদালতের একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তারা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে আদালত পরিচালনা করছেন। অভিযান সম্পর্কে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকেই তারা অবহিত করেন। রিটার্নিং অফিসারের কোনো তথ্যের প্রয়োজন হলে তিনি জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। এ ব্যাপারে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শহীদুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাজ অভিযোগ খতিয়ে দেখা নয়। রিটার্নিং অফিসার পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ দেখে ব্যবস্থা নিতে বলেন। কিন্তু এটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমের মধ্যে পড়ে না। ভ্রাম্যমাণ আদালত শুধু নগরীতে যারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন তাদেরই আইন অনুযায়ী শাস্তি দিচ্ছেন। জেলা প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মতই অবস্থা পুলিশ বিভাগের। পুলিশের পক্ষ থেকে শুধু ঝুঁকিপূর্ণ তালিকা সরবরাহ করা হয়েছে রিটার্নিং অফিসারের কাছে। কিন্তু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সে সম্পর্কে রিটার্নিং অফিসারের দপ্তর থেকে স্থানীয় পুলিশকে কিছু জানিয়ে কোন লাভ হয় না।