অর্ধশত তক্ষকসহ চার প্রতারক গ্রেফতার

রাজধানীর রামপুরার একটি এ্যাপার্টমেন্টে অভিযানে চালিয়ে তক্ষক (বন্য প্রাণী) ক্রয়-বিক্রয়ের প্রতারক চক্রের ৪ জনকে ৫০টি তক্ষকসহ গ্রেফতার করেছে। বন্য প্রাণী তক্ষক বিক্রয়ের অপরাধে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অপরাধীদের প্রত্যেককে ১ বছর কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন খোকন মিয়া, মামুন চৌধুরী, মিহির কুমার শর্মা ও হামিদ শেখ। রামপুরার কুঞ্জবনের ৩৮০/১৮ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৫০ টি তক্ষক উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা তক্ষকগুলো অবমুক্ত করে দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আনোয়ারপাশা জানান, একেকটি তক্ষক কয়েক কোটি টাকা মূল্যে বিক্রয় হয় মর্মে ব্যাপক রটনার প্রেক্ষিতে সারাদেশে বন্য প্রাণী তক্ষক ধরার ধুম পড়ে যায়। জানা যায়, ক্যান্সার ও এইডস এর ঔষধ তৈরিতে তক্ষক বিদেশে পাচার হচ্ছে। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয় যে, তক্ষক থেকে এ ধরনের ওষুধ তৈরির কোন ভিত্তি নেই এবং এটি নেহায়েত রটনা মাত্র। তবে চীনের ট্র্যাডিশনাল ওষুধ তৈরিতে ৩০০ গ্রামের অধিক ওজনের তক্ষক পাচারেরও গুজব রয়েছে। এছাড়াও তক্ষক থেকে ইউরেনিয়াম পাওয়া যায় বলে জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে কোটি টাকায় বিক্রি হওয়ার গুজব ছড়ানো হয়েছে। কিন্তু তক্ষক বিক্রয় করে কোটি টাকা পেয়েছে এমন কোন ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া যায় নাই। উচ্চমূলে বিক্রি করতে পারবে ভেবে ছোট আকারের তক্ষক ১৫/২০ হাজার টাকায় কিনে নেয়। তাদের কাছ থেকে আরো বেশি টাকায় অন্যরা কিনে নেয়। এভাবে হাত বদল হতে থাকায় এগুলো প্রতিটির মূল্য লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যায়। তক্ষকের খাদ্যভ্যাস না জানা থাকায় এগুলো দিনের পর দিন না খেয়ে এক পর্যায়ে মারা যায় এবং সর্বশেষ ক্রেতাটি সব হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এক শ্রেণির লোভী ক্রেতা কোটি টাকায় বিক্রয়ের লোভে উচ্চমূল্যে তক্ষক ক্রয় করে সর্বস্বান্ত হচ্ছে এবং একই সাথে তক্ষক ধরার এ হুজুগের ফলে দেশের এ বন্য প্রাণীটি বিলুপ্তির হুমকিতে পড়ছে। উদ্ধারকৃত তক্ষকগুলো বন বিভাগের সহায়তায় অবমুক্ত করা হয়।