দাতাদের ১ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকা দেশে আসেনি

দাতা দেশ ও সংস্থাগুলো বাংলাদেশকে যে পরিমাণ ঋণ ও সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দেয় তার একটি বড় অংশই এদেশে আসে না। কোন কোন ক্ষেত্রে দাতাদের শর্ত মানা না হলে তারা প্রতিশ্রুত অর্থ ছাড় করে না। আবার অর্থ খরচে সরকারের দক্ষতার অভাবের কারণেও অনেক সময় প্রতিশ্রুত সাহায্য ফেরত যায়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর থেকে দাতাদেশ ও সংস্থাগুলো যে পরিমাণ ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশকে দিয়েছে তার এক লাখ ৮৬ হাজার ৭৪৮ কোটি টাকা এদেশে আসেনি। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সূত্র জানায়, স্বাধীন হবার পর ১৯৭৩ সাল থেকে দাতা দেশ ও সংস্থাগুলো বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে সাহায্য দেয়া শুরু করে। তখন থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত দাতা দেশ ও সংস্থাগুলো বাংলাদেশেকে মোট ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকার ঋণ ও আর্থিক সহায়তা দেয়ার অঙ্গীকার করে। এর মধ্যে বাংলাদেশ পেয়েছে ৪ লাখ ৪৯ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। জানা গেছে, আলোচ্য সময়ে দাতাদের অনুদানের প্রতিশ্রুতি ছিলো ২ লাখ ১৪ হাজার ৫০১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ছাড় হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা। দাতারা এসময়ে ঋণ দেয়ার অংগীকার করেছিলো ৩ লাখ ৯৮ হাজার ১৫১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ছাড় হয়েছে ২ লাখ ৬৩ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা। উল্লেখ্য, দাতা দেশ ও সংস্থাগুলোর ঋণ এবং অনুদানের বিষয়টি সমন্বয় করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ। দাতারা মার্কিন ডলারে অর্থ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও উল্লেখিত অর্থ প্রতি ডলার ৭৮ টাকা ধরে টাকায় রূপান্তর করা হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দাতাদের শর্ত মানতে পারে না। আবার কোন কোন সময় এসব ঋণ এবং অনুদান পাবার বিষয়ে বাংলাদেশ আগ্রহ দেখায় না। তবে বাংলাদেশকে এখন ঋণ এবং অনুদান নিয়ে তেমন মাথা না ঘামানোর পরামর্শ দেন তারা। অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদের মতে, বিদেশি ঋণ যেগুলো পাওয়া যায়নি তাতে ভালোই হয়েছে। কিন্তু যেসব অনুদান বাংলাদেশে আসেনি তা নিয়ে ভাববার আছে। তার মতে, একসময় বিদেশি অর্থ নিয়ে আমাদের মাথা ঘামাতে হতো। তখন বাজেটের উন্নয়ন বরাদ্দের একটি বড় অংশই আসতো বিদেশি সহায়তা থেকে। আর দাতারা এখন প্রকল্প সাহায্য খুব বেশি দেয় না। দারিদ্র বিমোচনসহ অন্যান্য সামাজিক খাতে তারা বেশি অর্থ দিয়ে থাকে। উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ঋণ দিয়ে থাকে। জাপান, কুয়েত, সৌদি আরব, নেদারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, সুইডেন, কানাডা, ডেনমার্ক প্রভৃতি দেশ বাংলাদেশকে অনুদানের অর্থ দিয়ে থাকে।