ম্যান্ডেলাকে বিদায় দাও

দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা দীর্ঘ দিন ধরে অসুস্থ। সর্বশেষ গত শুক্রবার গভীর রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ডিসেম্বর থেকে এ নিয়ে ম্যান্ডেলাকে চতুর্থবারের মতো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ দিন ধরে তিনি ফুসফুসের জটিলতায় ভুগছেন। এবার তাকে চিরবিদায় জানাতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তার দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধারা। খবর গার্ডিয়ান ও এএফপির। দক্ষিণ আফ্রিকার ‘জাতির জনক’ হিসেবে গণ্য শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ম্যান্ডেলা মঙ্গলবার চতুর্থ দিনের মতো হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছে। সে দেশের সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর তবে স্থিতিশীল রয়েছে। ফুসফুসে সংক্রমণের জন্য তাকে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছে। দেশবাসী তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছে। গত শনিবার ভোরে ৯৪ বছর বয়সী সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে প্রিটোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সোমবার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ম্যাক মহারাজ জানান, ম্যান্ডেলা নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন। প্রিটোরিয়ার মেডিক্লিনিক হার্ট হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন ম্যান্ডেলা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে হাসপাতালের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। যানবাহন তল্লাশি করে হাসপাতালের প্রধান গেট দিয়ে ঢুকতে দেয়া হয়। সাংবাদিক প্রবেশেও বাধা দেয়া হয়। তার অবস্থা গুরুতর তবে স্থিতিশীল বলে জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। সোমবার ম্যান্ডেলার সাবেক স্ত্রী উইনি মাদিকিজেলা ম্যান্ডেলা ও মেয়ে জিন্ডজি তাকে দেখতে হাসপাতালে যান। রবিবার তার অপর দুই মেয়ে তাকে দেখতে যান। ম্যান্ডেলা হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই তার বর্তমান স্ত্রী গ্রাসা ম্যাচেল তার পাশে রয়েছেন। ম্যান্ডেলার শারীরিক অবস্থার ব্যাপারে সামান্য কিছু তথ্য প্রকাশ পেলেও তার ফুসফুস জটিলতার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ১৯৮৮ সালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় যক্ষ্মা ধরা পড়ে। তখন সেটা প্রাথমিক অবস্থায় ছিল। আরো সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে পরিবারের নিকটতম সদস্যদের ছাড়া আর কাউকেই তার সঙ্গে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না। মান্ডেলা আগামী মাসে ৯৫ বছরে পা রাখবেন। তিনি ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনিই দেশটির প্রথম নির্বাচিত কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট। এর আগে শ্বেতাঙ্গ শাসনামলে দীর্ঘ ২৭ বছর তিনি কারাভোগ করেন। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ম্যান্ডেলাকে শেষবারের মত ২০১০ সালের জুলাইয়ে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা শুরুর আগে মাঠে দেখা যায়। এরপর তাকে আর জনসম্মুখে দেখা যায়নি। ম্যান্ডেলার ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধারা এবার তাকে শান্তিতে চিরবিদায় জানাতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। তাদের আহ্বান, তাদের প্রিয় নেতাকে শ্রদ্ধায় আর ভালবাসায় বিদায় দেয়া হোক।